মানিক বৈরাগীর খোলা দরখাস্ত

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
বিষয়ঃ আপনার দুর্দিনের রাজনৈতিক কর্মী নুরুল কাদের বি কম এর চিকিৎসা সহায়তায় পাশে দাঁড়ানোর আবেদন।

জনাব
সবিনয় নিবেদন চেতনার অগ্নিবীণা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনি যখন বর্তমান আওয়ামীলীগ কে ক্ষমতায় বসানোর জন্য, লুটহয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ পুনরুদ্ধারের লডাই সংগ্রামে, আপনার আহবানে আমরা যখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কে সংগঠিত করছি সেই সময়ে যাঁদের নিবিড় ভাবে, অসিম সাহসে কাছে পেয়েছি তাঁদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, আমার শ্রদ্ধেয় নেতা নুরুল কাদের বি কম। তিনি বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক নির্যাতিত সভাপতি। নিম্নে তাঁর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক বিবরণ বিবৃত করছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমার এই খোলা দরখাস্ত পড়ে দেখে আপনার চরম দুর্দিনের এই রাজনৈতিক কর্মী ও নেতার চিকিৎসা সহায়তা করে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহবান করছি।

জনাব নুরুল কাদের (বি কম) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অবিভক্ত চকরিয়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সদস্য।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী হিসাবে ১৯৭০সনে নির্বাচনে নির্বাচনের স্বেচ্ছা সেবক হিসাবে, নির্বাচনী মাঠ কর্মী হিসাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত হন।পরবর্তীতে স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে আজোবধী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী হিসাবে সক্রিয় আছেন।

১৯৭১সনে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভুমিকা পালন করেন,,মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে পারিবারিক ভাবে সক্রিয় অবস্থানের কারণে একাত্তরের রাজকারেরা তাঁদের বাড়িঘর লুট ও পুড়িয়ে দেয়। এখনো তার স্বাক্ষ্য বহন করছে কাদের বি কম এর কাছারি ঘর।
১৯৭৭সনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কে চকরিয়া ও কক্সবাজারে পুনরায় সংঘটিত করার অপরাধে খুনি জিয়ার সামরিক বাহিনী আমাকে গ্রেফতার পূর্বক নির্যাতন করে জেলে দেয়।

১৯৮৬ সালে আপনার আহবানে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সংঘটিত করণের অপরাধে এরশাদের পেটুয়া বাহিনী বহু মামলা ও জেল নির্যাতন করে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ধারাবাহিক আন্দোলন ও নির্বাচনে আমার সক্রিয় ভুমিকা সম্পর্কে আপনি ওয়াকিবহাল আছেন আমার বিশ্বাস।

১৯৯০সনে আপনার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতন আন্দোলনে কাদের বি কম এর সক্রিয় অবস্থানের কারণে চকরিয়ার মাঠি ও মানুষের নেতা ও কর্মী হিসাবে তাঁকে আপনজন করে নেন।

১৯৯১সনে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের সুক্ষ কার্চুপির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে, আবারও কাদের বি কম এর উপর নেমে আসে নিপিড়ন, নির্যাতন, বহু মামলার আসামি করে তাঁকে হয়রানি করা হয়।
অবিভক্ত চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য থেকে সহ সভাপতি পদে থেকে আওয়ামীলীগ চরম দুর্দিনে আওয়ামীলীগ কে সংঘটিত করেছেন ।দীর্ঘ ২১বছরের পথ পরিক্রমায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের দায়িত্ব পালন করেছিলেন নিষ্টার সহিত।

১৯৯৬সনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, আওয়ামীলীগের অকুতোভয় মুজিব সারথি উৎসাহ উদ্দীপনাকে নিরুৎসাহিত না করে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রাণপ্রিয় কাউন্সিলর ভাইদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমরা কাদের বি কম কে সভাপতি ও তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বন্ধু মরহুম এডভোকেট আমজাদ হোসেন কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করি।

৭৫র পরবর্তী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের স্থায়ী কোন কার্যালয় ছিলো না।দলিয় সভা করতে হতো হয়তো হোটেলে,, কমিউনিটি সেন্টারে, নাহয় কোন স্কুলের বারান্দায়। এব্যাপারে আপনিও অবগত ছিলেন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা কর্মীদের দাবীর প্রেক্ষিতে নুরুল কাদের বি কম এর প্রিয়তম স্ত্রী দিলরুবা এরফানের পৈতৃক ভাবে পাওয়া জমির অংশ বিক্রি করে, সেই টাকা দিয়ে উপজেলা সদরে জমি কিনেন।এবং সেই জমিতে একটি সেমিপাকা টিনসেড় একটি স্থায়ী কার্যালয় বানিয়ে দিয়েছেন।এবং এটি উদ্ভোদন করেন বীর বাহাদুর এমপি মহোদয়।
১৯৯৬থেকে ২০০৩সন পর্যন্ত আমি সভাপতি দায়িত্ব থাকার সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, দলিয় কোন্দল, দুর্নীতি, অনুপ্রবেশের কোন প্রকার সুযোগ ছিলোনা।

১৯৯৯সনে আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবস্থায় চকরিয়া কলেজের মাঠে আপনার সমাবেশে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে আপনার সানুগ্রহে সভাপতিত্ব করি। পাশাপাশি আপনার উৎসাহ প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা কে আওয়ামীলীগের দূর্গে পরিনত করেছেন।
যা বর্তমান চকরিয়া, পেকুয়া,মাতামুহুরি ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের সুদৃঢ় সংগঠন কে দেখলে অনুভব করা যায়।

শ্রদ্ধেয় নেত্রী
মুজিব আদর্শ বাস্তবায়নে আপনার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাদের বি কম এর পাশাপাশি তাঁর ভাই বোন ও পরিজন সকলেই মুজিবাদর্শের সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক। নুরুল কাদের বি কম এর ছোট ভাই জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মাইনু-ইকবাল পরিষদের অধিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছোট বোনের জামাই এরফান উদ্দিন চৌধুরী পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি। তাঁর সহধর্মিণী দিলরুবা এরফান আওয়ামীলীগের দুর্দিনের সংসারের পাশাপাশি মহিলা আওয়ামীলীগের সংগঠক ও দায়িত্বশীল ছিলো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রাণপ্রতিম আপা
নুরুল কাদের বি কম এর উপর্যুক্ত সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত আপনার সমিপে প্রদান করছি।আওয়ামীলীগের চরম দুর্দিনে তাঁর মরহুম পিতার উৎসাহে পৈত্রিক সম্পত্তির উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবন পরিচালনা করেছি। যা চকরিয়া কক্সবাজারের প্রবীন সব আওয়ামীলীগের কর্মীরা অবগত। পিতা মুজিবের ছবি ও আদর্শ বিক্রি, দলবাজি করে দু’পয়সা পকেটস্থ করেন নি।যা মুজিবাদর্শের পরিপন্থী।

বর্তমানে কাদের পারকিনসন্স ডিজিজে আক্রান্ত। এই ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা খরচ বহন করতে যেয়ে কাদের বি কম এর পরিবার দিশেহারা অবস্থায়,পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী কেও বিভিন্ন রোগে চরম দুর্বল করে ফেলেছে। পৈত্রিক ভাবে পাওয়া সহায় সম্বল বিক্রি বন্ধক দিয়ে রাজনীতির খরচ যোগান দিয়েছিলেন, বিনিময়ে তিনি আর্থিক ভাবে কখনো লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেননি।
বর্তমানে জনাব নুরুল কাদের বি কম চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা নুরুল কাদের বি কম এর পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।যিনি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আপনার রাজনৈতিক নির্দেশ পালন করতে যেয়ে নিজের সন্তানসন্ততির জন্য অর্থসম্বল গড়েন নি তাঁর পাশে আজ আপনার উদার হৃদয়ের উদার হস্ত প্রসারিত হবে আমার বিশ্বাস। কাদের বি কম এর একমাত্র বড়ো সন্তানও বর্তমান কোবিড১৯ পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আল্লাহ পাক তাঁকে যেকোনো মুহুর্তে ডাক পাঠাতে পারেন।তাই আপনার চিকিৎসা সহায়তায় আল্লাহ যদি সুস্থ করেন, তাহলে তাঁর সন্তানসন্ততিদের আপনার রাজনৈতিক আদর্শের আমানত হিসাবে তিনি জমা রাখাতে চান। পাশাপাশি আপনি দয়া পরবেশ হয়ে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য আপনার দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে উপকার করুন।
প্রাণপ্রিয় নেত্রী

নুরুল কাদের বি কম এর এই সংকটময় মুহুর্তে আপনার জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ছাড়া তাঁর পক্ষে সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়।তাঁর চিকিৎসার জন্য আপনার সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।
সর্বোপরি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি আপনি যেনো সহি সালামতে নিরাপদ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।

নিবেদক
মানিক বৈরাগী
নব্বইয়ের নির্যাতিত প্রগতিশীল ছাত্রনেতা ও কবি।
কক্সবাজার।