সাকিবের অসাধারণ ইনিংসে সিরিজ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্কঃ
মাঝারি রান তাড়ায় ভালো শুরুর পর হঠাৎ দিক হারাল বাংলাদেশ। ব্যাটসম্যানরা যেন যোগ দিলেন উইকেট ছুড়ে আসার মিছিলে। অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখলেন সাকিব আল হাসান। বুঝে নিলেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার, আজ তার দিন। দলকে জয়ের বন্দরে টেনে নিতে হবে তাকেই। অসাধারণ এক ইনিংসে ঠিক তা-ই করলেন সাকিব। তার নৈপুণ্যে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে তিন উইকেটে জিতে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ।

এক যুগ পর জিম্বাবুয়েতে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন যখন ক্রিজে এলেন তখনও জয় অনেক দূরে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময়ই দিক হারিয়েছে বাংলাদেশ। বড় শট খেলে চাপ কমানোর চেষ্টায় হাতছাড়া করেছে জয়। এদিন এমন কিছু হলো না সাকিব আল হাসানের জন্য। তরুণ সতীর্থকে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চমৎকার এক জুটিতে দলকে নিয়ে গেলেন জয়ের বন্দরে। এক যুগ পর জিম্বাবুয়েতে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে ৬৯ রানের জুটিতে দলকে ৩ উইকেটের জয় এনে দেন সাকিব ও সাইফ। জিম্বাবুয়ের ২৪০ রান বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যায় পাঁচ বল বাকি থাকতে।

১০৯ বলে ৮ চারে ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন সাকিব। এক চারে ৩৪ বলে ২৮ রান করেন সাইফ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৪০/৯ (কামুনহুকামউই ১, মারুমানি ১৩, চাকাভা ২৬, টেইলর ৪৬, মায়ার্স ৩৪, মাধেভেরে ৫৬, রাজা ৩০, জঙ্গুয়ে ৮, মুজারাবানি ০, চাতারা ৪*, এনগারভা ৭*; তাসকিন ১০-০-৩৮-১, সাইফ ১০-০-৫৪-১, মিরাজ ৭.২-০-৩৪-১, শরিফুল ১০-০-৪৬-৪, সাকিব ১০-০-৪২-২, মোসাদ্দেক ১.৪-০-৭-০, আফিফ ১-০-১১-০)

বাংলাদেশ: ৪৯.১ ওভারে ২৪২/৭ (তামিম ২০, লিটন ২১, সাকিব ৯৬*, মিঠুন ২, মোসাদ্দেক ৫, মাহমুদউল্লাহ ২৬, মিরাজ ৬, আফিফ ১৫, সাইফ ২৮*; মুজারাবানি ৯.১-১-৩১-১, চাতারা ৭-১-৫২-০, জঙ্গুয়ে ৮-০-৪৬-২, এনগারাভা ৯-১-৩৩-১, মাধেভেরে ১০-০-৩৯-১, রাজা ৬-০-৩৩-১)

সাকিব-সাইফ জুটিতে পঞ্চাশ

অষ্টম উইকেটে দারুণ এক জুটিতে দলকে টানছেন দুই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখা এই জুটির পঞ্চাশ এসেছে ৫৩ বলে।

স্বাভাবিকভাবেই অগ্রণী সাকিব। ২৫ বলে ২৫ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। ২৮ বলে ১৯ রান করেছেন সাইফ।

৪৮ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৭ ওভারে ২২৯। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে ১২ রান চাই তাদের। ৯০ রানে খেলছেন সাকিব, ২২ রানে সাইফ।

সাকিব-সাইফ জুটিতে পঞ্চাশ

অষ্টম উইকেটে দারুণ এক জুটিতে দলকে টানছেন দুই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখা এই জুটির পঞ্চাশ এসেছে ৫৩ বলে।

স্বাভাবিকভাবেই অগ্রণী সাকিব। ২৫ বলে ২৫ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। ২৮ বলে ১৯ রান করেছেন সাইফ।

৪৮ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৭ ওভারে ২২৯। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে ১২ রান চাই তাদের। ৯০ রানে খেলছেন সাকিব, ২২ রানে সাইফ।

বাংলাদেশের দুইশ

লুক জঙ্গুয়েকে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশের রান দুইশ পার করলেন সাকিব আল হাসান। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে সফরকারীরা তাকিয়ে আছে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের দিকে।

৪৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ২০৩। ৯৫ বলে ৮০ রানে খেলছেন সাকিব। ১৭ বলে ১০ রানে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

জয়ের জন্য শেষ ৬ ওভারে ৩৮ রান চাই বাংলাদেশের।

স্টাম্পড আফিফ

এক-দুই করেই জুটি বেশ এগোচ্ছিল। রান রেটের এমন কোনো চাপ নেই। তবুও অফ স্পিনারকে বেরিয়ে এসে খেলতে চাইলেন আফিফ হোসেন। এর মাশুল দিলেন স্টাম্পড হয়ে।

সিকান্দার রাজার ফুল লেংথ ডেলিভারি ওভাবে খেলার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবুও অনেকটা বেরিয়ে গেলেন আফিফ। মিস করলেন বলের লাইন। বাকিটা অনায়সে সারলেন কিপার রেজিস চাকাভা।

২৩ বলে ১৫ রান করেন আফিফ।

৩৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ১৭৩। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

টিকলেন না মিরাজ

কোনো দরকার ছিল না। তবুও ঝুঁকি নিয়ে উড়িয়ে মারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এর মাশুল দিলেন নিজের উইকেট বিলিয়ে।

ওয়েসলি মাধেভেরের অফ স্পিন স্লগ সুইপ করে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন মিরাজ। টাইমিং করতে পারেননি। খুঁজে পান লেগে সীমানায় থাকা একমাত্র ফিল্ডার ডিওন মায়ার্সকে। তিনি কিছুটা এগিয়ে এসে মুঠোয় জমান ক্যাচ।

১৫ বলে ৬ রান করেন মিরাজ।

৩২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১৪৫। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী আফিফ হোসেন। জয়ের জন্য শেষ ১৮ ওভারে সফরকারীদের চাই ৯৬ রান।

সাকিবের লড়াকু ফিফটি

ব্যাট হাতে সময়টা ভালো কাটছিল না সাকিব আল হাসানের। তবে দলের প্রয়োজনের সময় দাঁড়িয়ে গেলেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে করলেন ফিফটি।

সিকান্দার রাজাকে কাভার দিয়ে চার মেরে ৫৯ বলে পঞ্চাশে পৌঁছান সাকিব।

দশম ওভারে ক্রিজে যাওয়ার পর বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান দেখেছেন একের পর এক সঙ্গীর বিদায়। তাতে দিশেহারা হয়ে যাননি, ঠাণ্ডা মাথায় এগিয়ে নিয়েছেন দলকে। ফিফটির পথে মেরেছেন ছয়টি চার।

৩০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১৩৭। জয়ের জন্য শেষ ২০ ওভারে আরও ১০৪ রান চাই তাদের।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে ভাঙল জুটি

জমে গিয়েছিল জুটি, কেটে গিয়েছিল চাপ। এমন সময়ে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে গেলেন মাহমুদউল্লাহ।

পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি ভাঙতে বোলিং আক্রমণের সেরা অস্ত্র ব্লেসিং মুজারাবানিকে ফেরান টেইলর। অধিনায়ককে হতাশ করেননি পেসার। তার বাড়তি লাফানো বলে কাট করার চেষ্টায় কিপার রেজিস চাকাভাকে সহজ ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ, ভাঙে ৫৫ রানের জুটি।

৩৫ বলে তিন চারে ২৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।

২৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১৩১। ক্রিজে ডানহাতি-বামহাতি কম্বিনেশন রাখতে আফিফ হোসেনের আগে ব্যাটিংয়ে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

জয়ের জন্য ২১ ওভারে ১১০ রান চাই বাংলাদেশের।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহর জুটির পঞ্চাশ

৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে টানছেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।

লুক জঙ্গুয়েকে চমৎকার স্ট্রেট ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন সাকিব, ৫৩ বলে।

২৭ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১২৫। মাহমুদউল্লাহ ৩০ বলে ২৩ ও সাকিব ৫৩ বলে ৪৫ রানে ব্যাট করছেন।

রান আউট মোসাদ্দেক

কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবুও ঝুঁকি নিয়ে সিঙ্গেল নিতে চাইলেন দুই ব্যাটসম্যান। এর মাশুল দিতে হলো আরেকটি উইকেট হারিয়ে। রান আউট হয়ে গেলেন মোসাদ্দেক হোসেন।

রিচার্ড এনগারাভার বল লেগে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। ঠিক মতো পারেননি, লেগের দিকে সরে গিয়ে বল ধরতে পারেননি কিপার রেজিস চাকাভা। সুযোগ কাজে লাগাতে রানের জন্য ছুটেন মোসাদ্দেক, সাড়া দেন সাকিবও।

চাকাভা বল ধরে থ্রো করে যখন বেলস তখনও পৌঁছাতে পারেননি মোসাদ্দেক। ৭৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচেও ৭৪ রানেই চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছিলেন মোসাদ্দেক। এ নিয়ে টানা ছয় ম্যাচে একশর আগে চার উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

১৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৭৭। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী অনেক বিপদের ত্রাতা মাহমুদউল্লাহ।

আবারও আলগা শটে আউট মিঠুন

প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে যেন কিছুই শিখেননি মোহাম্মদ মিঠুন। এবার ফিরলেন আলগা শটে ক্যাচে দিয়ে।

অফ স্টাম্পের বাইরে লুক জঙ্গুয়ের গুড লেংথ বলে ছিল না তেমন কোনো বিপদ। আয়েশী শটে বিপদ নিজেই ডেকে আনলেন মিঠুন। কাভার থেকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ মুঠোয় জমালেন ওয়েসলি মাধেভেরে।

১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৫০। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন। ১১ রানে ৩ উইকেট হারানো সফরকারীদের কক্ষপথে ফেরানোর গুরু দায়িত্ব তাদের কাঁধে।

আবারও আলগা শটে আউট মিঠুন

প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে যেন কিছুই শিখেননি মোহাম্মদ মিঠুন। এবার ফিরলেন আলগা শটে ক্যাচ দিয়ে।

অফ স্টাম্পের বাইরে লুক জঙ্গুয়ের গুড লেংথ বলে ছিল না তেমন কোনো বিপদ। আয়েশী শটে বিপদ নিজেই ডেকে আনলেন মিঠুন। কাভার থেকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ মুঠোয় জমালেন ওয়েসলি মাধেভেরে।

১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৫০। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন। ১১ রানে ৩ উইকেট হারানো সফরকারীদের কক্ষপথে ফেরানোর গুরু দায়িত্ব তাদের কাঁধে।

থিতু হয়ে ফিরলেন লিটনও

রান আউটের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকলেন না লিটন দাস। রিচার্ড এনগারাভাকে পুল করে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন এই ওপেনার।

পুল করার জন্য ততটা শর্ট ছিল না বল। তাছাড়া শট একটু আগেভাগেও খেলে ফেলেন লিটন। টাইমিং হয়নি, মিড অনে ক্যাচ মুঠোয় জমান ব্রেন্ডন টেইলর।

চারটি চারে ৩৩ বলে ২১ রান করেন লিটন। থিতু হয়েও দুই ওপেনার পারলেন না ইনিংস বড় করতে।

১৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৪৬। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মোহাম্মদ মিঠুন।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তামিমের উইকেট

রান রেটের চাপ খুব বেশি নেই। সাবধানেই খেলছিলেন দুই ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তাদের ব্যাটে উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দশম ওভারে সিকান্দার রাজার চমৎকার ক্যাচে ফিরলেন তামিম।

১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৪০। লিটন চারটি চারে ১৭ রানে ব্যাট করছেন। ৩ বল খেলা সাকিব খুলতে পারেননি রানের খাতা।

অষ্টম ওভারে টেন্ডাই চাতারাকে টানা তিন বলে ফ্লিক করে তিনটি চার মারেন লিটন। তার জায়গায় বোলিংয়ে এসে দশম ওভারে তামিমকে থামান লুক জঙ্গুয়ে।

পয়েন্টে ডাইভ দিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়কের ক্যাচ মুঠোয় জমান রাজা। ভাঙে ৩৯ রানের জুটি। ৩৪ বলে চারটি চারে ২০ রান করেন তামিম।

বোল্ড হতে হতে বাঁচলেন লিটন

ব্লেসিং মুজারাবানির গুড লেংথের বল আলতো হাতে খেলে ডিফেন্ড করতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছিলেন লিটন দাস। তার ভাগ্য ভালো। বল ড্রপ খেয়ে অফ স্টাম্প ঘেঁষে চলে যায়। আগের ম্যাচেও দুবার এভাবে খেলতে গিয়ে আউট হতে বসেছিলেন তিনি।

৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর বিনা উইকেটে ১৫। ১৬ বলে লিটন ৪ ও ১৪ বলে ৯ রানে খেলছেন তামিম ইকবাল।

২৪১ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়েকে আড়াইশর নিচে থামিয়ে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করতে পেরেছে স্বাগতিকরা।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ফিফটি একটি, ওয়েসলি মাধেভেরে করেন ক্যারিয়ার সেরা ৫৬ রান। পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি কেবল একটি, মাধেভেরের সঙ্গে সিকান্দার রাজার ৬৩।

ব্রেন্ডন টেইলর, ডিওন মায়ার্স ও রেজিস চাকাভা থিতু হয়েও বড় করতে পারেননি ইনিংস। দুইবার জীবন পেয়েও ১৩ রানে থামেন ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানি।

মুস্তাফিজুর রহমানের চোটে এই ম্যাচেও সুযোগ পাওয়া শরিফুল ইসলাম ৪ উইকেট নেন ৪৬ রানে। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া সাকিব ২ উইকেট নেন ৪২ রানে। দারুণ বোলিংয়ে ৩৮ রানে তাসকিন আহমেদের শিকার একটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৪০/৯ (কামুনহুকামউই ১, মারুমানি ১৩, চাকাভা ২৬, টেইলর ৪৬, মায়ার্স ৩৪, মাধেভেরে ৫৬, রাজা ৩০, জঙ্গুয়ে ৮, মুজারাবানি ০, চাতারা ৪*, এনগারভা ৭*; তাসকিন ১০-০-৩৮-১, সাইফ ১০-০-৫৪-১, মিরাজ ৭.২-০-৩৪-১, শরিফুল ১০-০-৪৬-৪, সাকিব ১০-০-৪২-২, মোসাদ্দেক ১.৪-০-৭-০, আফিফ ১-০-১১-০)

রাজাকে থামালেন সাইফ

তিন বলের মধ্যে দুই চার মেরে মাত্রই ডানা মেলতে শুরু করেছিলেন সিকান্দার রাজা। তবে এরপরই তাকে ফিরিয়ে দিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

স্লোয়ার শর্ট বল কিপারের মাথার ওপর দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন রাজা। ঠিক মতো খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে।

৪৪ বলে দুই চারে ৩০ রান করেন রাজা।

৪৮ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৯ উইকেটে ২২৯।

শরিফুলের জোড়া শিকার

ইয়র্কারের চেষ্টায় বল হয়ে গেল ফুলটস। কিন্তু ফায়দা তুলতে পারলেন না লুক জঙ্গুয়ে। উল্টো আউট হয়ে গেলেন তিনি। পরে শর্ট বলে কট বিহাইন্ড হলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। ওভারে জোড়া শিকারে ক্যারিয়ারে প্রথমবার চার উইকেটের স্বাদ পেলেন শরিফুল ইসলাম।

বাঁহাতি পেসারকে লং অন দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন জঙ্গুয়ে। টাইমিং করতে পারেননি তিনি। সীমানা থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে এসে ক্যাচ মুঠোয় নেন মোসাদ্দেক হোসেন।

শর্ট বল লং অন দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন মুজারাবানিও। ব্যাটের কানায় লেগে অনেক ওপরে উঠে যাওয়া ক্যাচ গ্লাভসে জমান লিটন দাস।

১ চারে ৭ বলে ৮ রান করেন জঙ্গুয়ে। ২ বল খেলে শূন্য রানে ফিরেন মুজারাবানি।

৪৭ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৮ উইকেটে ২২১। ক্রিজে সিকান্দার রাজার সঙ্গী টেন্ডাই চাতারা।

তামিমের চমৎকার ক্যাচে থামলেন মাধেভেরে

ফিফটি করার পর বেশিদূর যেতে পারলেন না ওয়েসলি মাধেভেরে। চমৎকার এক ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙলেন তামিম ইকবাল।

শরিফুল ইসলামকে কাভার দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন মাধেভেরে। ঠিক মতো খেলতে পারেননি তিনি। লং অফ থেকে অনেকটা দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে কঠিন ক্যাচ মুঠোয় জমান তামিম। ভাঙে ৭০ বল স্থায়ী ৬৩ রানের জুটি।

আগের সেরা ৫৫ পেরিয়েই থামেন মাধেভেরে। ৬৩ বলে খেলা তার ৫৬ রানের ইনিংসে পাঁচ চারের পাশে ছক্কা একটি।

৪৫ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৬ উইকেটে ২১০। ক্রিজে সিকান্দার রাজার সঙ্গী লুক জঙ্গুয়ে।

মাধেভেরের ফিফটি

মেহেদী হাসান মিরাজকে চমৎকার ইনসাইড আউটে চার মারলেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ম্যাচে প্রথম ফিফটি পেল জিম্বাবুয়ে। সেই ওভারেই ম্যাচের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিও পেল তারা।

৫২ বলে পঞ্চাশ করেন মাধেভেরে। ৫৪ বলে আসে সিকান্দার রাজার সঙ্গে তার জুটির পঞ্চাশ।

ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ফিফটির পথে মাধেভেরের ব্যাট থেকে আসে পাঁচ চার ও এক ছক্কা। তার সঙ্গে পঞ্চাশ রানের জুটিতে রাজার অবদান ২৬ বলে ১২।

৪২ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৫ উইকেটে ১৯৭।

বোলিংয়ে ফিরলেন মিরাজ

রক্তাক্ত আঙুল নিয়ে মাঠ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর ফিরলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বোলিংও করলেন তরুণ এই অফ স্পিনার। তার ওভারে থেকে আসে কেবল তিনটি সিঙ্গেল।

৩৭ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৫ উইকেটে ১৬৬।

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার মায়ার্স

ডিওন মায়ার্সকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট নিলেন সাকিব আল হাসান। আবারও আশা জাগিয়ে থেমে গেল জিম্বাবুয়ের একটি জুটি।

লং অন দিয়ে সাকিবকে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন মায়ার্স। পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। কিছু বায়ে সরে গিয়ে ক্যাচ মুঠোয় নেন মাহমুদউল্লাহ। ভাঙে ৩৫ রানের জুটি।

টানা চার উইকেটে ৩০ রানের জুটি পেল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু এর একটিও ছুঁতে পারেনি পঞ্চাশ।

৩৩ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৫ উইকেটে ১৪৭। ক্রিজে ওয়েসলি মাধেভেরের সঙ্গী সিকান্দার রাজা। আট মাস পর দেশের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নামলেন তিনি।

রক্তাক্ত আঙুল নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মিরাজ

দুর্ভাগ্যজনক চোট পেয়ে ওভার অসমাপ্ত রেখে মাঠ ছাড়লেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বল-ব্যাটের মাঝে পড়ে কেটে গেছে এই অফ স্পিনারের আঙুল।

মিরাজের বল বোলারের দিকেই ফেরত পাঠান ওয়েসলি মাধেভেরে। নন স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান ডিওন মায়ার্স অহেতুক এগিয়ে রেখেছিলেন ব্যাট। তৎপরত মিরাজ ফিল্ডিং করতে গেলে তার ডান হাত পড়ে যায় বল-ব্যাটের মাঝে। এত বেশ ব্যথা পান মিরাজ, তার আঙুলও কেটে যায়।

ফিজিও মাঠে আসার পর তার সঙ্গে মাঠ ছাড়েন মিরাজ। সেই ওভার শেষ করেন মোসাদ্দেক হোসেন।

৩০ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৪ উইকেটে ১৩০। মায়ার্স ২৫ ও মাধেভেরে।

দুর্ভাগ্যজনক আউট টেইলর

আগে একবার পিছিয়ে গিয়ে খেলার চেষ্টায় পা থেকে জুতা খুলে গেলেও একটুর জন্য হিট উইকেট হননি ব্রেন্ডন টেইলর। তবে শেষ পর্যন্ত এই দুর্ভাগ্যজনক আউট হয়েই ফিরলেন তিনি।

দায়িত্ব নিয়ে খেলছিলেন টেইলর। স্পিনে পায়ের ব্যবহার ছিল দারুণ। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষেও ছিলেন সাবলীল।

শরিফুল ইসলামকে অনেকবারই আপার কাট করার চেষ্টা করছিলেন টেইলর। ২৫তম ওভারে আবার সেই একই চেষ্টায় ব্যর্থ হন। কট বিহাইন্ডের আবেদন করে বাংলাদেশ। পরে আবার সেই শটের শ্যাডোর মতো করতে গিয়ে বেলস ফেলে দেন টেইলর।

রিপ্লেতে দেখে তাকে হিট উইকেট দেন আম্পায়ার। ৫৭ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৪৫ রান করেন টেইলর।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি চতুর্থ হিট উইকেটের ঘটনা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সপ্তম।

২৫ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৪ উইকেটে ১১৩। ক্রিজে ডিওন মায়ার্সের সঙ্গী ওয়েসলি মাধেভেরে।

চাকাভাকে থামালেন সাকিব

প্রমোশন পেয়ে তিনে নামা রেজিস চাকাভাকে থামালেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি এই স্পিনার বোল্ড করে দিলেন জিম্বাবুয়ের কিপার-ব্যাটসম্যানকে।

মিডল স্টাম্পে থাকা ফুল লেংথের বলের লাইন মিস করেন চাকাভা। প্যাড ছুঁয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ৪৭ রানের জুটি।

৩২ বলে দুই চারে ২৬ রান করেন চাকাভা।

১৬ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৩ উইকেটে ৮১। ক্রিজে ব্রেন্ডন টেইলরের সঙ্গী ডিওন মায়ার্স।

পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট

পাওয়ার প্লেতে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে রেজিস চাকাভার দৃঢ়তায় রানের চাকা সচল স্বাগতিকদের।

১০ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২ উইকেটে ৪৬। প্রমোশন পেয়ে তিনে নামা চাকাভা ২৩ বলে ২১ রানে খেলছেন। ব্রেন্ডন টেইলরের রান ১৪ বলে ৭।

উইকেটে ঘাস বেশ কম। আগের ম্যাচের মতো অতোটা সুবিধা নেই পেসারদের জন্য। তবে দারুণ বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ভাবিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। উইকেট নিয়েছেন, সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন। তার বলে দুইবার জীবন পেয়েছেন টাডিওয়ানাশে মারুমানি।

প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন। ফিরিয়ে দেন দলে আসা টিনাশে কামুনহুকামউইকে। পাওয়ার প্লের মধ্যে নিজের একমাত্র ওভারে মারুমানিকে বোল্ড করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ব্যাটিং অর্ডারে বেশ পরিবর্তন এনেছে জিম্বাবুয়ে। আগের ম্যাচে ওপেন করা ওয়েসলি মাধেভেরে এই ম্যাচে ব্যাট করবেন মিডল অর্ডারে। তিন থেকে সরে চারে নেমেছেন টেইলর। মিডল অর্ডার থেকে তিনে উঠে এসেছেন চাকাভা।

এসেই মিরাজের আঘাত

বোলিংয়ে পরিবর্তন আনতেই মিলল আরেকটি সাফল্য। ৭ ও ১১ রানে জীবন পাওয়া টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে বোল্ড করে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

অফ স্পিনারের অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা বল ক্রস ব্যাটে খেলেন মারুমানি। পারেননি বলে-ব্যাটে করতে। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প। দুই চারে ১৮ বলে ১৩ রান করেন মারুমানি।

৬ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২ উইকেটে ৩৩। ক্রিজে রেজিস চাকাভার সঙ্গী অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর।

পরপর দুই বলে জীবন পেলেন মারুমানি

পঞ্চম ওভারে তাসকিন আহমেদের পরপর দুই বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেন টাডিওয়ানাশে মারুমানি। মিড অনে বাঁ দিকে সরে গিয়ে ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও ক্যাচ মুঠোয় নিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। বাউন্ডারি পেয়ে যান জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি ওপেনার।

পরের বলে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দেন মারুমানি। স্লাইড করে ক্যাচ মুঠোয় নিলেও ধরে রাখতে পারেননি সাইফ হাসান। আবারও বেঁচে যান স্বাগতিক ওপেনার।

সেই ওভারে আবারও ক্যাচের মতো দিয়েছিলেন মারুমানি। কিন্তু বাঁদিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি তাসকিন।

৫ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ১ উইকেটে ৩০।

প্রথম আঘাত তাসকিনের

ম্যাচের প্রথম বলটি তাসকিন আহমেদ করেছিলেন ওয়াইড। বাড়তি বলটিই এনে দিল উইকেট। এই পেসার ফিরিয়ে দিলেন টিনাশে কামুনহুকামউইকে।

অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট অব লেংথের বলে কাট করেছিলেন দলে ফেরা এই ওপেনার। ঠিক মতো খেলতে পারেননি। পয়েন্টে ক্যাচ মুঠোয়ে জমান আফিফ হোসেন।

৫ বলে ১ রান করেন কামুনহুকামউই।

১ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ১ উইকেটে ৩। ক্রিজে টাডিওয়ানাশে মারুমানির সঙ্গী আগের ম্যাচে ফিফটি করা রেজিস চাকাভা। প্রমোশন পেয়ে তিনে নেমেছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

পিচ

প্রথম ওয়ানডের সঙ্গে উইকেটের বেশ মিল দেখছেন আতহার আলি খান। তবে এবার উইকেটে ঘাস কম। বাংলাদেশের সাবেক এই ব্যাটসম্যান পিচ রিপোর্টে জানালেন, উইকেটে সিম মুভমেন্ট মিলবে, প্রথম ঘণ্টায় পেসারদের সহায়তা থাকবে। শুরুতে বেশ সাবধানী থাকতে হবে ব্যাটসম্যানদের।

তার মতে, এই উইকেটে বোলিং উপভোগ করবেন পেসাররা। তবে তাদের সাবধানী থাকতে হবে। উইকেটে যথেষ্ট রানও আছে। সঠিক লাইন লেংথে বোলিং না করলে রান দিতে হবে প্রচুর।

জিম্বাবুয়ে দলে দুই পরিবর্তন

চোটের জন্য দুটি পরিবর্তন এসেছে জিম্বাবুয়ে দলে। ছিটকে গেছেন রায়ান বার্ল ও টিমাইসেন মারুমা। অসুস্থতা কাটিয়ে আগেই দলে ফেরা সিকান্দার রাজা এসেছেন একাদশে। সেখানে তার সঙ্গী টিনাশে কামুনহুকামউই।
জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে দল: ব্রেন্ডন টেইলর, রায়ান বার্ল, রেজিস চাকাভা, টেন্ডাই চাতারা, লুক জঙ্গুয়ে, টিমাইসেন মারুমা, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিওন মায়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, ওয়েসলি মাধেভেরে

একই একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ

প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পাওয়া মুস্তাফিজুর রহমানকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে কব্জিতে চোট পাওয়া লিটন দাসের টান লেগেছিল কুঁচকিতে। দুটি সমস্যাই কাটিয়ে খেলছেন তরুণ এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।

টস

আগের ম্যাচে টস জিতে ব্রেন্ডন টেইলর নিয়েছিলেন বোলিং, জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এবার নিলেন ব্যাটিং। টস হেরে ভালোই হয়েছে বলে মনে করছেন তামিম ইকবাল। বোলিংয়ে আপত্তি নেই বাংলাদেশ অধিনায়কের।

এক যুগ পর জিম্বাবুয়েতে সিরিজ জয়ের হাতছানি

২০০৯ সালের পর জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ২০১১ ও ২০১৩ সালে অনেক আশা নিয়ে গিয়েও ফিরতে হয়েছিল হারের হতাশা নিয়ে। ১৫৫ রানে প্রথম ওয়ানডে জেতার পর সফরকারীদের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায়।

প্রথম ম্যাচে লিটন দাসের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। পরে সাকিব আল হাসানের দারুণ বোলিংয়ে ১২১ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে শুরুতে কিছুটা ভুগলেও ম্যাচ জুড়ে বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সফরকারীরা ছিল দুর্দান্ত। এক যুগ পরে জিম্বাবুয়েতে সিরিজ জিততে ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি শুরুর ব্যাটিংয়েও উন্নতি চান অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

শুধু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেই নয় বাংলাদেশের টপ অর্ডার ভুগছে বেশ কিছু দিন ধরেই। সবশেষ পাঁচ ওয়ানডেতেই একশর নিচে চার উইকেট হারিয়েছে দলটি।

“উন্নতির তো কোনো শেষ নেই। তবে কম রানে যদি তিনটা উইকেট পড়ে যায়, সেটা আদর্শ কিছু নয়। আমরা চেষ্টা করব, আমাদের টপ অর্ডার থেকে আমি বা সাকিব যদি বড় ইনিংস খেলতে পারি, তাহলে দল হয়তো এমন পরিস্থিতিতে পড়বে না।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ