মহেশখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড়

এ.এম হোবাইব সজীব:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মনহাজী পাড়ার প্রবাসী মোস্তাক আহমদের স্ত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তার স্ত্রী উম্মে হাবিবা পিতা জালাল আহমদ প্রকাশ জলু মাঝি তার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে বলে দাবি করলেও শ্বাশুড় বাড়ীর লোকজন বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন।

ঘটনাটি গত ১৮ আগস্ট ভোর রাতে ঘটলেও লোকমূখে জানাজানি হয় ২০ আগষ্ট শনিবার।

মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ওয়াপদাপাড়ার বাসিন্দা জালাল আহমদ প্রকাশ জলু মাঝি জানান, তার কন্যা উম্মে হাবিবার সাথে একই ইউনিয়নের মনহাজ্বি পাড়া হাজ্বী শাহ্ আলমের পুত্র মোস্তাকের সাথে সাড়ে তিন বছর পূর্বে বিয়ে হয়। মাঝ পথে উম্মে হাবিবার স্বামী মোস্তাক আহমদ মধ্যপ্রাচ্যে চলে যান। এরই ফাঁকে মাঝে মধ্যে তার কন্যাকে শ্বাশুড় বাড়ীর লোকজন অমানবিক নির্যাতন চালাতেন। তা সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার মেয়ে পিতার বাড়ীতে চলে আসেন।

সর্বশেষ গত ১৫ দিন পূর্বেও তার মেয়ে বাড়ীতে চলে আসলে শ্বাশুড় হাজ্বী শাহ্ আলমের অনুরোধে তার কন্যাকে শ্বাশুড়ের বাড়ীতে ফেরত পাঠান। প্রতিবারের মত তার মেয়েকে শ্বাশুড়বাড়ীর লোকজন গত ১৬ ই আগস্ট রাতে মারধর করলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে হাবিবা। পরে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া জমজম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি না করার কারণে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ হাসপাতালে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ আগস্ট ভোর রাতে তার কন্যার মৃত্যু ঘটে । তার কন্যার মৃত্যু হবার সাথে সাথে শ্বাশুড়বাড়ীর লোকজন লাশ ফেলে পালিয়ে যান এমন দাবি হাবিবার পরিবারের।

পরে তিনি ও তার আত্মীয় স্বজন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ সুরহতাল রিপোর্ট তৈরি এবং ময়না তদন্ত সম্পূর্ণ করেন। ময়না তদন্ত শেষে ঐ দিন রাতে নিজ এলাকায় মাতারবাড়ীর উত্তর রাজঘাট জামে মসজিদে জানাজা পড়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ দিকে মাতারবাড়ীর বাসিন্দা নবীর হোছাইন ভুট্টু জানান, নিশ্চয় শ্বাশুড়বাড়ীর লোকজন উম্মে হাবিবাকে হত্যা করেছেন। অপরদিকে উম্মে হাবিবার দেবর হাজ্বী শাহ্ আলমের পুত্র কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ভাবী উম্মে হাবিবাসহ অন্যান্য ভাবীরা প্রায় সময় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আজান দিলেও মোবাইলে গান শুনতে থাকেন। আমার পিতা হাজ্বী শাহ্ আলম আমার সকল ভাবীদের মোবাইল বন্ধ করে আলমারিতে সংরক্ষণ করেন এবং নামাজ কালাম পড়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। এতে আমার ভাবী উম্মে হাবিবা রাগে ক্ষোভে বিষ পান করে আবোল-তাবোল করতে থাকেন। সাথে সাথে আমিও আমার আত্মীয় স্বজনরা ভাবী উম্মে হাবিবার জীবন রক্ষা করতে ঐ দিন রাতে চকরিয়ার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার চেষ্টা করি। বিষ পান করা রোগী হিসেবে কোন হাসপাতালই দায়িত্ব না নেওয়ায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার আওতাধীন একটি হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে দু’দিন চিকিৎসায় থাকার পর মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন। আমার ভাবীকে মারধর করার মত অতীতে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি এবং ওই দিনও ঘটেনি।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র বণিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের রামু কে জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি।

তবে তিনি বিষ পানে এক মহিলার মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানান।