করোনায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
করোনায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেকেরই মৃত্যু হয়ে হার্ট অ্যাটাকের দরুণ। অনিয়মিত জীবন-যাপনের কারণে হৃদরোগের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। হৃৎপিণ্ড দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। করোনাকালে সুস্থ থাকতে সবারই হার্টের স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ, টেনশন সঙ্গে ফাস্টফুড ও ধূমপানে আসক্তি। দিনের পর দিন এই অভ্যাসে অভ্যস্ততার কারণে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, ওবেসিটি, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল-ট্রাইগ্লিসারাইডের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা।

যারা হৃদরোগে ভুগছেন; তাদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ করোনার প্রভাব আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের তেমন কোনো লক্ষণ নেই। বুকে চাপ, ব্যথা এগুলো যেকোনো শারীরিক সমস্যার কারণেই হতে পারে।

তবুও অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, দুশ্চিন্তা, হজমে গোলমাল, শ্বাসে দুর্গন্ধ, কম ঘুম ইত্যাদি কারণেও হার্টের দুর্বলতাও হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণ হতে পারে। তবে এখন থেকেই যদি কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা যায়; তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা খানিকটা হলেও কমানো যেতে পারে-

মোবাইলে ব্যবহার কমানো

ছোট থেকে বড় সবাই এখন মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে ইলেক্টনিক্স ডিভাইসের ব্যবহার। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহার ছাড়া জীবনযাপন করা কঠিন। তবে মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ক্ষতি করছে শরীরের।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত কম্পিউটার বা ফোনের পর্দায় চোখ রাখেন; তাদের মানসিক চাপ বাড়ে। আর মানসিক চাপ বাড়লেই এর প্রভাব গিয়ে পরে হৃদ্‌যন্ত্রের উপরে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন টাইম যতটা কমানো যাবে; হৃদরোগের আশঙ্কা ততই কমবে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার

শরীর সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। বিশেষ করে হৃদয় ভালো রাখার জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ খাবার। এজন্য প্রতিদিন খেতে হবে তাজা শাক-সবজি ও ফল-মূল।

বিশেষ করে পরিবারের কারও যদি হার্টের সমস্যা থাকে; তাহলে আরও সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি কফি এবং ফাস্টফুড খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। দিনে এক কাপ ব্ল্যাক কফি হৃদয়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

শরীরচর্চা করা

করোনাকালে লকডাউনের ফলে ঘরবন্দি জীবন কাটছে সবারই। এর ফলে শারীরিক কসরত কমেছে অনেকটাই। এভাবে বেশিদিন চললে বিভিন্ন অসুখ বাসা বাঁধবে দেহে।

তাই দিনে অন্তত আধা ঘণ্টা হলেও শরীরচর্চা করুন। বাইরে বা জিমে যেতে না পারলে ঘরের ভিতরেই ব্যায়াম করুন। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা এবং সাইকেল চালানোর অভ্যাস করুন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত রক্তচাপ স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। করোনাকালে বেশিরভাগ রোগীরাই অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দেখা গেছে গবেষণায়। স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট এবং খারাপ কোলেস্টেরল গ্রহণের ফলে রক্তচাপ মাত্রারিক্ত বেড়ে যায়।

তাই প্রসেসড ফুড, ক্ষতিকর তেল গ্রহণ এড়িয়ে যেতে হবে। নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করে তা নিয়ন্ত্রণে আছে কি-না খেয়াল রাখতে হবে। তাহলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো যাবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১৬ শতাংশ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখা পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলত্বা এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাবে একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

মানসিক চাপ কমান

কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।

মানসিক চাপে যারা থাকেন; তারা স্বভাবতই বেশি খাওয়া, ধূমপান বা অ্যালকোহলে অভ্যস্ত হয়ে যান। গবেষণা অনুসারে, অল্প বয়স্কদের মধ্যে স্ট্রেস থাকলে, তা মধ্যবয়সে রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সূত্র- হার্টডট