নিরাপদে থাকতে ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
করোনাভাইরাস মহামারী এখনও ফুরিয়ে যায়নি। টিকা এসেছে, উন্নত দেশগুলোতে মাস্ক পরার কড়াকড়ি শিথিল হয়েছে, কিছু দেশে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর একপ্রান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস, তো অপরপ্রান্তে নাভিশ্বাস পরিস্থিতি।

আমাদের দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো করোনাভাইরাসের ‘ডেল্টা’ ধরনের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারন করেছে। নতুন করে আগের চাইতে আরও কঠোর লকডাউন জারি হচ্ছে।

এই অবস্থায় ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের করণীয় সম্পর্কে।

মাস্ক পরা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘জেনারেল ফর অ্যাকসেস টু মেডিসিন অ্যান্ড হেল্থ প্রোডাক্ট’য়ের সহকারী পরিচালক ডা. ম্যারিঅ্যাঞ্জেলা সিমাও বলেন, “দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন বলেই যে একজন মানুষ পুরোপুরি নিরাপদ তা কখনই নয়। টিকা নেওয়া ব্যক্তি নিজে আক্রান্ত না হলেও তার মাধ্যমে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ হওয়া খুব সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যবিধি টিকা নেওয়ার পরও পুরোদমে মানতে হবে।”

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ইট দিস, নট দ্যাট’য়ে প্রকাশিত প্র্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে এমন স্থানে থাকতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালকের দীর্ঘদিনের পরামর্শদাতা ডা. ব্রুস অ্যালওয়ার্ড বলেন, “অনেক দেশে পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতির প্রেক্ষিতে বিধি-নিষেধে শিথিলতা আসছে। তাই বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে এমন ভেবে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।”

“নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কারণ প্রতিনিয়ত নতুন করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ দেখা দিচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধিতে শিথিলতা আনার সুযোগ এখনও নেই।”

‘ডেল্টা’ ধরনের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি স্বাস্থ্য কার্যক্রমের নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইক রায়ান বলেন, “করোনাভাইরাসের ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’ অন্য ধরনগুলোর ‍তুলনায় আরও কার্যকরভাবে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে সক্ষম। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম তারা দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রাণ হারাচ্ছেন।”

টিকা কাজ করবে না এমন ‘ভ্যারিয়েন্ট’

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল’য়ের মুখপাত্র জেড ফুলসে সিএনএন’কে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে যে টিকাগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয় সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে ছড়িয়ে থাকা সবগুলো ‘ভ্যারিয়েন্ট’য়ের বিপক্ষে কার্যকর। তবে টিকা যারা নিয়েছেন তাদের মাঝেও কয়েকটি ‘ভ্যারিয়েন্ট’ অসুস্থতা তৈরি করতে সক্ষম।”

“তবে এটাও ঠিক যে কোনো টিকাই কোনো ‘ভ্যারিয়েন্ট’য়ের বিপক্ষে শতভাগ কার্যকর নয়। সুবিধা এটুকুই যে টিকা নেওয়া থাকলে অসুস্থতার মাত্রা কম হবে, দ্রুত সুস্থ হবেন।”

নিরাপদে থাকতে করণীয়

তাই যেখানেই থাকুন না কেনো ঘরে থাকার যথাসম্ভব চেষ্টা করুন। মাস্ক পরুন, সম্ভব হলে দুটি মাস্ক একসঙ্গে পরার অভ্যাস করুন।

সামাজিক দূরত্ব বজার রাখুন, ভীড় এড়িয়ে চলুন। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসে ঢিল দেওয়া যাবে না, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে সাবান না থাকলে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ