রামুর দূর্গমে এতিম-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে ‘ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ’

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এরই আওতায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এসব শিশুদের প্রতিমাসে দেয়া হবে নগদ অর্থ সহায়তা। রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দূর্গম এলাকা মৈষকুম ওসমান সরওয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডাকভাঙ্গা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। এরআওতায় শিশুদের পর্যায়ক্রমে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষা উপকরণ থেকে শুরু করে শিক্ষালাভের সকল সুবিধা প্রদান করা হবে।

ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোঃ জুয়েল তালুকদার জানিয়েছেন- রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে মৈষকুম ওসমান সরওয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডাকভাঙ্গা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয় দুইটিতে প্রায় ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে। ইতিমধ্যে সংস্থাটি নতুন আরো কিছু কর্মসুচী হাতে নিয়েছে। এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা ও তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও বস্ত্র নিশ্চিত করে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং সংস্থার কর্মএলাকার এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে।

জানা গেছে, এরই ধারাবাহিকতায়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অতি দরিদ্র এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রনয়ন করে তাদের অভিভাকদের নিয়ে রবিবার (২৭ জুন) এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তা কার্যক্রম বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন- মৈষকুম ওসমান সরওয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সহ সভাপতি আব্দুর শুক্কুর মেম্বার। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোঃ জুয়েল তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডাকভাঙ্গা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সভাপতি আবুল কাশেম মাষ্টার। সভায় মৈষকুম ওসমান সরওয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম, ডাকভাঙ্গা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সলিম উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. জুয়েল তালুকদার বলেন- প্রাথমিকভাবে অতিদরিদ্র এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ জনকে শিক্ষা সহায়তা বাবদ ১০০ টাকা করে প্রতি মাসে প্রদান করা হবে। এ টাকা প্রতি মাসের ১ তারিখে তাদের নিজস্ব নগদ/বিকাশ নম্বরে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে ফান্ড পাওয়ার সাপেক্ষে তাদের সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে। তিনি আরো বলেন-যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও আর্থিকভাবে সহযোগীতা করলে আমরা এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদেরকে সাবলম্বী করা সম্ভব হবে।

এছাড়াও কর্ম এলাকায় সংস্থার প্রশিক্ষিত দক্ষ লিটল ডক্টরস টিম দ্বারা কমিউনিটি উন্নয়ন ও সচেতনতার লক্ষে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে তৃনমূল পর্যায়ে মাস্ক বিতরন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা, স্যানিটেশন, আর্সেনিক ও ম্যালেরিয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান আছে।