রামুতে সাংসদের প্রচেষ্টায় জমি নিয়ে বিরোধ নিরসনে যুগান্তকারি ‘সালিশী রোয়েদাদ’

সোয়েব সাঈদঃ
রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের ধরে ওই এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে নুরুল আজিম গং এবং নুর আহমদের ছেলে সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ হাছান গং এর মধ্যে চলমান বিরোধে নিরসনে ‘সালিশী রোয়েদাদ’ দেয়া হয়েছে। এতে বিরোধীয় জমি সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ হাছান গং এর বলে মতামত দিয়েছেন সালিশকারগণ। বিবাদমান ২ পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন দফায় দফায় হামলা-সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে এ বিরোধ নিরসনের উদ্যোগ নেন- কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল।

এ লক্ষ্যে গঠিত সালিশী বোর্ডে প্রধান সমন্বয়কারির দায়িত্ব পালন করেন- সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল। এতে রোয়েদাদ প্রদানকারী সালিশকারগণ হলেন- চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন কোম্পানী, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল হক কোম্পানী ও চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো.তাহের।

জানা গেছে, এ বিরোধ নিয়ে ইতিপূর্বে বিরোধীয় দুপক্ষের মধ্যে আরো একদফা সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় উভয় পক্ষের মানিক মধ্যস্থতাকারি সালিশকার আবেদনের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার আইন কলেজের অধ্যাপক এডভোকেট মুহাম্মদ বারেক বিরোধীয় জমি নিয়ে দুপক্ষের দাখিলকৃত দলিলাদি পর্যালোচনা করে লিখিত আইনগত মতামত প্রদান করেন। ওই মতামতে ১ম পক্ষ অর্থাৎ মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে নুরুল আজিম গং এর দাবি আইন সংগত নয় এবং ২য় পক্ষ নুর আহমদের ছেলে সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ হাছান গং এর দাবি আইন সংগত ও গ্রহনযোগ্য মর্মে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু বিজ্ঞ আইনজীবির এ মতামত উপেক্ষা করে ২০২০ সালের ১১ মে বিরোধীয় জমি জবর-দখলের উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালায় নুরুল আজিম গং। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে হামলার শিকার আমান উল্লাহর স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম বাদি হয়ে রামু থানায় লিখিত এজাহার দেন। ওই সময় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল বিষয়টি গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সমাধানের আশ^াস দেন। এ আশ^াসের প্রেক্ষিতে সালিশ গঠনের পর থেকে প্রায় বছর প্রমানাদি যাচাই ও তদন্ত শেষে সালিশ কমিটি গত ১৮ মার্চ ২০২১ ইং তারিখ চূড়ান্ত ‘সালিশী রোয়েদাদ” প্রদান করেন।

সালিশী রোয়েদাদ এ চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-পক্ষদ্বয়ের বিরোধের বিষয় ও তাদের দাখিলকৃত দলিলপত্রাদি এবং বিজ্ঞ আইনজীবির মতামত পর্যালোচনা ও নিরীক্ষণক্রমে সালিশকারগণ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন যে, বিরোধের বিষয়ে নিম্ন ১/২ নং তপশীলের বর্ণিত লিপি অনুসারে আরএস ৩৭৩৮ নং দাগের সৃষ্ট বিএস ১৫৪২ নং খতিয়ানের বিএস ১১৩৮২ নং দাগের জমি ২য় পক্ষ মো. হোসেন (হাছান) গং প্রাপ্ত হইবেন। এই মতে সালিশকারগণ একমত পোষন করে প্রধান সমন্বয়কারী এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের জ্ঞাতসারে ১৮/০৮/২০২০ ইং তারিখে অত্র সালিশী রোয়েদাদ নামা সম্পন্ন করেন।

সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ হাছান গং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সুষ্ঠু সালিশী রোয়েদাদ প্রদান করায়- প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল। সালিশকার চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন কোম্পানী, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল হক কোম্পানী ও চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো.তাহেরের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং সহসা এ সালিশী রোয়েদাদ কার্যকরে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।