পশ্চিমাদের চাপের মুখে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মিয়ানমারের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে শক্তিশালী প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন চলতি মাসে দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা সামরিক জান্তার প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

মঙ্গলবার দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার এ আহ্বানের কথা জানানো হয়েছে।

আগের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল দপ্তর মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুং মুং কিয়াও আর সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ এবং সামরিক বাহিনীর অন্যতম স্পেশাল অপারেশন ব্যুরোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোয়ে মিন্ট তুনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। অভ্যুত্থানের পর দেশটির আরও কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমনপীড়ন বন্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলো যখন আরও নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে, তখন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এ আহ্বান জানালেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সেনাপ্রধানের এ বক্তব্যের দিন, সোমবারই সাধারণ ধর্মঘটে মিয়ানমার অচল হয়ে পড়েছিল।

সংঘাত প্রাণহানি ঘটাতে পারে কর্তৃপক্ষের এমন হুঁশিয়ারির পরও এদিন দেশটির বিপুল সংখ্যক নাগরিক বিভিন্ন শহরে জড়ো হয়ে ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অং সান সু চিসহ আটক রাজনীতিকদের মুক্তি দাবি করেছে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে আগের দিনের তুলনায় কম লোক ছিল; দেশটিতে এদিন সেনাবাহিনীর সমর্থনেও ছোট ছোট সমাবেশ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

সোমবার ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের এক বৈঠকে সেনাপ্রধান হ্লাইং রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও আমদানি ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছেন।

“কাউন্সিলকে তার শক্তি দেশের রুগ্ন অর্থনীতি বাঁচানোর কাজে লাগাতে হবে। অর্থনীতিতে গতি আনার ব্যবস্থা নিতেই হবে,” হ্লাইং এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

করোনাভাইরাস মহামারীতে পর্যটনসহ আয়ের বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমনিতেই মিয়ানমারের অর্থনীতি নিম্নমুখী; তার মধ্যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় দেশটি আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে।

হ্লাইং তার ব্ক্তব্যে বিক্ষোভের সঙ্গে অর্থনৈতিক সমস্যার কোনো সরাসরি সংযোগের কথা বলেননি।

কর্তৃপক্ষ অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের মোকাবেলায় গণতান্ত্রিক পথ অবলম্বন করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মিয়ানমার এর আগেও প্রায় অর্ধশতক সেনাশাসনে ছিল; সে সময় যেভাবে বিক্ষোভ দমন হয়েছিল, তার তুলনায় এবার নিরাপত্তা বাহিনী অনেক বেশি সংযত। তা সত্ত্বেও এরই মধ্যে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তিন জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বিক্ষোভে আহত এক পুলিশ সদস্যও পরে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

সামরিক বাহিনী বলছে, অভ্যুত্থানবিরোধীরাই সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।

মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টার টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, সোমবার কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দেখিয়েছে তারা সামরিক বাহিনীর হুমকির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

সূত্রঃ বিডিনিউজ