মুম্বাইতে ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের চিত্রায়ণ পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও এমপি কমল

নীতিশ বড়ুয়া, রামু (কক্সবাজার) :
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মীয়মান ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের কাজ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। এসময় ফিল্ম সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীষা ভার্মা, বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, দৈনিক আমাদের সময় এর ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় শিল্পী আরেফিন শুভ, বঙ্গমাতার চরিত্রে অভিনয় শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশা, শেখ হাসিনার চরিত্রের অভিনয় শিল্পী নুসরাত ফারিয়া, দিলারা জামানসহ বায়োপিকের অভিনয় শিল্পী ও মন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি মুম্বাই ফিল্ম সিটিতে পৌঁছলে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রী অমিত দেশমুখ তাদের স্বাগত জানান।

ওইদিন বিকেলে মুম্বাইতে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রী অমিত দেশমুখের সাথে বৈঠক, ‘ন্যাশনাল মিউজিয়াম অভ ইন্ডিয়ান সিনেমা’ পরিদর্শন ও সন্ধ্যায় মুম্বাইতে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় নাগরিক এবং মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র অঙ্গণের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি।

‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের স্যুটিং সেটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর গ্রামের বাড়ি, ১৯৭১ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুকণ্যা শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২নং যে বাড়িতে অন্তরীণ রাখা হয়েছিল, যেখানে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম, ধানমন্ডির লেক, তখনকার সেই পাকিস্থানি বাঙ্কার ও পতাকাসমেত বাড়িটি এবং আশেপাশের বাড়িগুলোর অবিকল প্রতিরূপ তৈরি করে চলচ্চিত্র চিত্রায়ণের প্রশংসা করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান, এপ্রিল মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু বাযয়োপিকের মুম্বাই অংশের স্যুটিং শেষ হবে এবং সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে স্যুটিং শুরু হবে। ভারতের বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু বাযয়োপিকের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল গণমাধ্যম জানান, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক তৈরির কাজ ২০২১ সালের ২৬ মার্চের মধ্যে শেষ হবে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত। এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ইতিহাসের প্রতি সৎ থাকা বড় একটি বিষয়, আমি সেটাই করতে চাই। এটা হবে জীবনীভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে আরও অনেক কিছু আসবে। বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক একটি জাতির জন্মের কথা বলবে, এর একটি মহাকাব্যিক দিকও থাকবে। এতে এমন এক ব্যক্তির গল্প থাকবে, যিনি একটা দেশের বিজয় নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া গ্রিক থিয়েটারের মতো শেষের দিকে ট্র্যাজেডিও থাকবে। এটা হবে অন্যরকম একটা গল্পের চিত্রায়ণ। এটা সঠিকভাবে করাটা বেশ কঠিন। কিন্তু, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। তিনি আরও বলেন, যৌথ প্রযোজনার এ সিনেমায় দুই দেশের সবাই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করবেন। তবেই এটা একটা সফল কাজ হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর শেষে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির মধ্যেই সিনেমাটির নির্মাণ সমাপ্ত হবে। সিনেমার মূল ভার্সনের ভাষা হবে বাংলা। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সেই দেশের ভাষার সাব টাইটেল থাকবে।

উল্লেখ্য যে, ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচদিনের এ সফরে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি কলকাতয় ৩য় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব, ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে ১০ লাখেরও বেশি বাঙালির উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের ৪৯ বছরপূর্তি উপলক্ষে সেই ময়দানে বক্তব্য রাখেন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি দর্জিলিং এ আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও সাইমুম সরওয়ার কমল এমপিসহ সফরকারিদের দেশে ফেরার এবং পরদিন সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি নিজ সংসদীয় আসন কক্সবাজার সদর-রামু ফেরার কথা রয়েছে।