কোভিড-১৯: নমুনা পরীক্ষা ফের বিনামূল্যে করার সুপারিশ

অনলাইন ডেস্কঃ
দেশের সরকারি হাসপাতালের বুথে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা আবার বিনামূল্যে করার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটি।

এছাড়া শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার কমিটির ২৫তম সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

ভার্চুয়াল এই সভায় কোভিড-২৫ জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ হারের নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন।

“বিশেষ করে লক্ষণবিহীন সংক্রমণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে পরীক্ষার আওতায় আনা দরকার। পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। পরীক্ষা করার জন্য জনসাধারণকে আগ্রহী করার বিবেচনায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার ফি ১০০ টাকা রহিত করে বিনামূল্যে করার সুপারিশ করা হয়।”

দেশে নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর গত বছরের মার্চে বিনামূল্যেই নমুনা পরীক্ষা করছিল সরকার।

কিন্তু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকার মধ্যে গত ২৯ জুন নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়। সে সময় হাসপাতালে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে ২০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা নিয়ে এলে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার।

এরপর ১৯ অগাস্ট সরকারিভাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ফি ২০০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা এবংবাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। এই হার এখনও চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ফেরত যাত্রীদের শুরুতে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার সরকারি ব্যবস্থাপনায় কমিটি সন্তোষ জানিয়েছে। তবে পরে ১৪ দিনের পরিবর্তে চার দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার সুপারিশ করেছে কমিটি।

কমিটি বলছে, এই রোগের সুপ্তিকাল ১৪ দিন। ১৪ দিনের মধ্যে যে কোনো সময় তাদের সংক্রমিত হওয়ার এবং তাদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

“জাতীয় পরামশর্ক কমিটি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করে।”

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ায় সব দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরকেও ১৪দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিটি।

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হলে গত ১ জানুয়ারি সে দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছিল সরকার।

তবে ১৩ জানুয়ারি সেই নিয়ম কিছুটা শিথিল করে কোয়ারেন্টিনের সময় ১০ দিন কমিয়ে ফেলা হয়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ