রামুর বঙ্গবন্ধু উৎসবে এড. সিরাজুল মোস্তফা: আওয়ামীলীগে অস্থির কোন মানুষের জায়গা নেই

খালেদ শহীদ, রামুঃ
রামুর বঙ্গবন্ধু উৎসবে এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বিশে^র নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের নেতা। নতুন প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস বলার জন্য, বঙ্গবন্ধুকে আদর্শিক ভাবে পরিচিত করার জন্যই বঙ্গবন্ধু উৎসব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরাধিকারী জননেত্রী শেখ হাসিনা। দলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের শৃংখলা মানতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা পালন করতে হবে। সরকার যা করবে, দলের পরিবারের সন্তান হিসেবে আমরা তার প্রচার-প্রচারণা চালাব। আওয়ামীলীগে অস্থির কোন মানুষের জায়গা নেই। আওয়ামীলীগ থেকে কেউ খালি হাতে ফিরবে না। তবে অপেক্ষা করতে হবে। ধর্য্য ধারণ করতে হবে। এবার না পেলোম আগামীবার পাবো। সেবারও না পেলাম, পরের বার পাবো। যে ধর্য্য ধরবে, সে আওয়ামীলীগ থেকে শূণ্য হাতে ফেরে না। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) মধ্যরাতে রামু স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু উৎসবের পঞ্চম দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা। বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন পরিষদের মহা সচিব রিয়াজ উল আলম এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা যারা সংগঠনের নেতা আছি, যে পদবীর হইনা কেন, আমাদের দায়িত্বগুলো সফলতার সাথে, কষ্টতার সাথে, সততার সাথে, আমাদের প্রতিপালন করতে হবে। সরকারের সাহায্য যাদের জন্য দেয়া হচ্ছে, তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, শেখ হাসিনার সৈনিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

প্রধান অতিথি এড. সিরাজুল মোস্তফ দলের বিদ্রাহী প্রার্থীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন না। বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে আর স্থান হবেনা। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চাওয়ার অধিকার আছে। দলীয় প্রতীকে নমিনেশন পেলে নির্বাচন করবেন। দল নমিনেশন না দিলে, যাকে নমিনেশন দেয়া হয়েছে তার জন্য কাছ করতে হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জামাত-বিএনপির প্রার্থীকে চেয়ারম্যান-মেম্বার বানিয়ে দিলেন, সেটা আমরা মেনে নেবো না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা, দলের শৃংখলা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। তারপরে আওয়ামীলীগের আদর্শিক নেতা হতে পারবেন। দলের নিদের্শনা মানবেন না, আপনি বড় নেতা হতে পারবেনা।

জনপ্রতিনিধিদের নিদের্শনা দিয়ে এড. সিরাজুল মোস্তফ বলেন, যে সাহায্য সামগ্রী আপনারা জনগণকে দিচ্ছেন, ওই সাহায্য সামগ্রী বাংলাদেশ সরকারের, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এগুলে কে নিজের সাহায্য বলে চালিয়ে দিবেন না। তিনি বলেন, নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন, চেয়ারম্যান-মেম্বার হয়েছেন। আজকে আপনারা বড় বড় পদ পেয়েছেন। ভবিষ্যতে যদি সরকারের সাহায্য সামগ্রী নিজের নামেই দেন, শেখ হাসিনার নাম না নিয়ে, আওয়ামীলীগের কথা না বলেন, তাহলে ভবিষ্যত নির্বাচনে দলের প্রতীক পাবেন না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক এড. রনজিত দাশ, কক্সবাজার জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, প্রবীন জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রফিক আহমদ চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল্লাহ, বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য তছলিম ইকবাল চৌধূরী, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান উদ্দিন মেম্বার, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বদরুল্লাহ মিন্টু প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু উৎসব মঞ্চে ‘বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন পরিষদ, রামুর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদক মুসরাত জাহান মুন্নী, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সহ উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পু, রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া ও রামু উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ সভাপতি মিজানুল হক রাজা, বঙ্গবন্ধু ছাত্র ফেডারেশন রামু উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রিয়াদ, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাকিল বিন হোছাইন প্রমুখ।
আলোচনা সভার পরে নাট্যকর্মী পুলক বড়ুয়া, তাপস মল্লিক ও দীপক বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন, কক্সবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সংগীত শিল্পী মানসী বড়ুয়া। একক সংগীত পরিবেশন করেন, ইসকান্দর মির্জা। দলীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, কক্সবাজারের ‘হেমন্তিকা শিল্পী গোষ্ঠী’, রামুর ‘সরগমালয়’ ও ব্যান্ড ‘রম্যভূমি’। এ ছাড়াও রাতে বঙ্গবন্ধু উৎসব মঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয়শিল্পীরা।