প্রতি ডোজ টিকার দাম পড়বে ৪২৫ টাকার মতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার প্রতি ডোজের দাম ৪২৫ টাকার মতো পড়বে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।

শনিবার মানিকগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, “প্রতি ডোজ টিকার ক্রয়মূল্য ৪ ডলার। সব খরচ মিলিয়ে দাম পড়বে ৫ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে ৪২৫ টাকার মতো।

“অন্য যে কোনো ভ্যাকসিনের দাম এর চেয়ে বেশি। চায়নিজরা কোনো কোনো ভ্যাকসিন প্রতি ডোজ ২০ ডলারের বেশি দাম চেয়েছে। ফাইজারের ভ্যাকসিনের দাম পড়বে ৩০ থেকে ৩৮ ডলার।”

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে ইতোমধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার।

চুক্তি অনুযায়ী বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত টিকার ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’। ভারত থেকে টিকা এনে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে দেশের ওষুধ খাতের শীর্ষ কোম্পানিটি।

করোনাভাইরাসের এই টিকা সরকার কিনে তা বিনামূল্যে বিতরণ করবে বলে আগেই জানানো হয়েছে।

টিকা কেনার জন্য এ সপ্তাহেই ভারতে অর্থ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্য এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে, গতকাল ভারত সরকারও টিকার অনুমোদন দিয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই টিকার অনুমোদন দেবে।

“আমরা এই টিকা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আমি আগে বলেছিলাম, জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে টিকা আসবে। এখন আমি আশাবাদী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হয়ত অপেক্ষা করতে হবে না। তার আগেই জানুয়ারি মাসের কোনো এক সময়ে আমরা টিকা পেয়ে যাব। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে এটা সম্ভব।”

তিনি বলেন, “সরকার আগে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই তিন কোটি ডোজ টিকা আনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “১৮ বছরের কম বয়সী, গর্ভবতী নারী, বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিসহ ছয় থেকে সাড়ে ছয় কোটি মানুষকে এই মুহূর্তে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন নাই।”

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ টিকা আনার চেষ্টা হচ্ছে তা আসলে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া আরও সাড়ে চার কোটি মানুষকে দেওয়ার জন্য টিকার সংস্থান করতে হবে। এই টিকা আনারও চেষ্টা হচ্ছে।

“যদি আমরা সবাইকে টিকা দিতে চাই তাহলে আরও টিকা আনতে হবে। এজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে্। সেজন্য আমরা এখনই অর্ডার দেওয়ার চিন্তা করছি। এটা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার হতে পারে, অথবা অন্য কোনো সোর্স হতে পারে।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ