২০২০: ভাইরাসের দুনিয়ায় জীবন যেমন

অনলাইন ডেস্কঃ
গতবছর মার্চে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখনো কার্যত গৃহবন্দি মিরপুরের বাসিন্দা সৈয়দ মমিনুল হক; শুক্রবার জুমার নামাজ ছাড়া বাসা থেকে বের হন না এই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

যখন বের হন, মুখে থাকে মাস্ক; সঙ্গে নেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ফিরে এসে জীবাণুনাশক স্প্রে করে ঘরে ঢোকেন, সেরে নেন গোসল।

আগে সন্ধ্যায় নিয়মিত হাঁটাহাঁটির অভ্যাস ছিল, এখন সেটাও সীমাবদ্ধ করেছেন চার দেয়ালের মধ্যে।

মাছ-মাংস আর সবজির বাইরে অন্য সব খাদ্যপণ্য অনলাইনে কেনেন সৈয়দ মমিনুল। বাজারে যেতে হলে সে কাজটি চাকরিজীবী দুই সন্তানই করে।

লকডাউনের বিধিনিষেধ ওঠার পর তার দুই সন্তানকে পেশার তাগিদে নিয়মিতই বাইরে যেতে হয়। তবে তারাও একই নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেন; ঘরে ফেরার সময় সবার একই ‘প্রটোকল’।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা সৈয়দ মমিনুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যা কিছু হোক, আমরা এখনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। পরিবারের কেউ এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হইনি, দেখি কতদিন ভালো থাকতে পারি।”

দেশে অধিকাংশ মানুষ এখন আর সৈয়দ মমিনুলের পরিবারের মত কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তবে নতুন এই করোনাভাইরাস ২০২০ সালে সবার জীবনই কম-বেশি বদলে দিয়েছে। দৈনন্দিন জীবনধারায় যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন অনুষঙ্গ, বাদ পড়েছে পুরনো অনেক কিছু। এটাকে বলা হচ্ছে ‘নিউ নরমাল’।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে সবাইকে ঘরে রাখতে গণপরিবহন, অফিস-আদালত বন্ধ করে গতবছর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় ‘সাধারণ ছুটি’; গণমাধ্যম যাকে বর্ণনা করেছে ‘লকডাউন’ হিসেবে।

৩০ মের পর সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া শুরু হয়, গণপরিবহন চালুর পাশাপাশি খুলে দেওয়া হয় অফিস-আদালত-কারখানা। ধীরে ধীরে বিনোদনকেন্দ্রগুলোও ‘সীমিত পরিসরে’ খুলতে থাকে।

বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন বদলে দেওয়া এই মহামারীর অবসান কবে ঘটবে তা এখনও মানুষ জানে না। তবে এই সময়ে রপ্ত করা নতুন অভ্যাসের অনেকগুলো যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারায় স্থায়ী হয়ে যাবে, সে বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত সমাজ বিজ্ঞানীরা।

কাছে আসায় বারণ

করমর্দনের কথাই ধরা যাক। কারও সঙ্গে দেখা হলে সৌহার্দ্যের প্রকাশ ঘটাতে করমর্দন সারা দুনিয়াতেই একটি সাধারণ রেওয়াজ। আলিঙ্গন বা কোলাকুলিও অনেক দেশে খুবই প্রচলিত।

কিন্তু অতি ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস ঠেকাতে এসব কেবল নিষিদ্ধই হল না, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পরামর্শে এল ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম।

করমর্দনের বদলে দুইজনের কনুই বা মুষ্টিবদ্ধ হাতের স্পর্শ কিংবা পায়ে পা ঠেকানোও ‍যুক্ত হলে অভিবাদন রীতির তালিকায়। যারা এগুলোও করতে চাননি, তাদের কেউ বেছে নিলেন সামনে দু’হাত একসঙ্গে তুলে অভিবাদনের পথ।

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টায় একে একে ঢেকে গেল সবার মুখ; মাস্ক পরা মুখই যেন হয়ে উঠেছে মহামারীর বছরের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ‘মাস্ক নেই তো সেবা নেই’ নিয়ম চালু হয়েছে সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়সহ সব স্থানে। তারপরও সাধারণকে মাস্ক পরাতে না পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে নামতে হয়েছে পথে; করা হচ্ছে জরিমানাও।

সরকারি দপ্তর, বিপণি বিতান, সিনেমা হল- যে কোনো জায়গায় ঢুকতে গেলে তাপমাত্রা মাপা, জীবাণুনাশক হাতে মাখানো কিংবা শরীরে ছিটানো হয়ে উঠেছে পরিচিত দৃশ্য। জায়গায় জায়গায় প্রবেশমুখে স্থাপন হয়েছে জীবাণুরোধী টানেল কিংবা পা মোছার ব্যবস্থা।

মৃতের জানাজা-দাফন কিংবা সৎকারে আত্মীয়-স্বজন আর পাড়াপড়শির উপস্থিতি আর শোক প্রকাশের যে সহজাত ধরন, তাও বদলে দিয়েছে ভাইরাসের ভয়। কোভিড-১৯ এ মৃত্যু হলে আত্মীয়স্বজন ছাড়াই নির্দিষ্ট জায়গায় লাশ দাফন করতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবীদের।

করোনাভাইরাসের এই মহামারী পুরো পৃথিবীর জীবনধারা যতটা পাল্টে দিয়েছে, এর আগে আর কোনো রোগ এতটা প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এবারের মহামারী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। আগে যেহেতু এত ব্যাপকভাবে ছড়ায়নি, পরিবর্তনটাও সেভাবে হয়নি। আঞ্চলিকভাবে বা পৃথিবীর কোনো একটা অংশে হয়েছে। সব অংশে সমানভাবে হয়নি।

”এখন যেহেতু সব অংশেই ছড়িয়েছে মহামারী, সেজন্য সব অংশেই কিছু সাধারণ পরিবর্তন চোখে পড়বে।”

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ”আগের মহামারীগুলো কোনো দেশ বা অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাবে ফেলেছে। এখন পৃথিবীব্যাপী যোগাযোগ উন্নত বলে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

“ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীতে আমাদের ভারতবর্ষে মারা গেছে কয়েক কোটি মানুষ, কিন্তু ভারতবর্ষের মানুষ বোঝে নাই যে এটা ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী। তারা মনে করেছে যে যুদ্ধের ফলে দুর্ভিক্ষে মারা গেছে। কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার মানুষ ঠিকই এটা ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী বলেছে। আবার সার্স মহামারী পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল, কিছুটা কানাডায় ছড়িয়েছিল। মাস্ক পরা বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ওখানেই সীমাবদ্ধ ছিল।”

ড. মুশতাক বলেন, অভ্যাসের পরিবর্তন কিছু হয়েছে, মাস্ক পড়া, ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া- এসবে অনেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন, যদিও এখনো ‘কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়’ তা হয়ে ওঠেনি।

”এতে আমাদের শ্বাসতন্ত্রবাহিত রোগ, যক্ষ্মা কমে যাওয়ার কথা। খাদ্য এবং পানিবাহিত রোগ কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু প্রান্তিক অঞ্চলে মানুষের পুষ্টির সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ যারা প্রান্তিক মানুষ, তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। পুষ্টির ঘাটতি বেড়েছে।“

সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক সাদেকা হালিমের ভাষায়, করোনাভাইরাস এখন সবার ‘জীবনেরই অংশ’ হয়ে গেছে। সতর্কতার মাত্রা সবার মধ্যে সমান না হলেও অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন।

”প্রটোকল অনুযায়ী হাত ধুতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তবুও সময় গড়ানোর পর মানুষ এগুলো ছেড়ে দিচ্ছে। কারণ তারা ভাবছে এত কিছুর পরও কারও না কারও করোনাভাইরাস হয়ে যাচ্ছে।”

অফলাইন-অনলাইন

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মানুষ যখন অফিস-আদালত আর চলাফেরা বন্ধ করে দিয়ে যার যার বাড়িতে আশ্রয় নিল, তখন কাজের ক্ষেত্র হয়ে উঠল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম; এমনকি বিচারিক কাজও শুরু হল ভার্চুয়াল আদালতে।

সেমিনার রূপান্তরিত হল ওয়েবিনারে, কাজের সূত্রে লিভিং রুম হয়ে উঠল অফিস আর ক্লাসরুম চলে গেল বেডরুমে।

সংক্রমণ আতঙ্কে বাজারে যাওয়া বন্ধ করে অনেকে নিত্যপণ্য পাওয়ার উপায় খুঁজলেন অনলাইন বাজারে; ঘরবন্দি সময়ে বাজার পৌঁছল দরজার সামনে।

মহামারীতে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতেও কেনাকাটার অভ্যাসকে বদলে দিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক আসিফ আহনাফ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমাদের হিসাবে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ই-কমার্সে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকার মত। জানুয়ারির রিপোর্টে হয়ত আমরা দেখব এটা ৩০ হাজার কোটি টাকার মত একটা ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হচ্ছে।

”মানুষের মধ্যে অভ্যস্ততা বাড়ছে। বড় বড় অনেক কোম্পানি মহামারীর সময়ে ই-ক্যাবের সঙ্গে ‍যুক্ত হয়েছে, যারা আগে বাইরে ছিল। আমরা এই ট্রান্সফর্মেশনটা দেখছি।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাতে তিনি বলেন, আগে প্রতি মাসে ই-কমার্সে লেনদেন যেখানে ১৮০ কোটি টাকার মত ছিল, সেখানে এ বছর বেড়ে ৫০০ কোটি টাকা হয়েছে।

”এই সময়ে প্রচুর সেলফ এমপ্লয়েড উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারীরা এক্ষেত্রে বড় আকারে এগিয়েছেন। যারা গ্রোসারি নিয়ে কাজ করেন, তাদের গ্রোথ ৩০০-৪০০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে।”

সভা-সেমিনার কিংবা ক্লাসের জন্য এ বছর জুম অ্যাপ হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় মাধ্যম। জুমের এই জনপ্রিয়তার কারণে গুগল মিট, ফেইসবুক রুম আর টিমজের মত উদ্যোগ নিয়ে বড় পরিসরে কাজ শুরু করেছে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

এসব অ্যাপের ব্যবহারের ফলে দূরবর্তী জায়গার সহকর্মী কিংবা বিদেশের মাটিতে থাকা ব্যক্তিদের সহজে মিটিংয়ে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জুম কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তাদের মিটিংয়ে প্রতিদিন গড় অংশগ্রহণকারী ছিল ১০ মিলিয়ন, ২০২০ সালের মার্চে তা দাঁড়ায় ২০০ মিলিয়নে। পরের মাস এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ৩০০ মিলিয়ন।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জীবন বদলের ধারায় সামাজিক দূরত্ব, ইমিউনিটি, স্বাস্থ্যবিধি, কোয়ারেন্টিন, করোনাভাইরাস, মহামারী, কোভিড, সীমিত পরিসর, স্যানিটাইজার, লকডাউন, হোম অফিস, পিপিই, প্লাজমা, ওয়েবিনার, আইসোলেশন, প্যান্ডেমিক শব্দগুলো হয়ে উঠেছে নিত্য ব্যবহার্য।

ভালো পরিবর্তন ‘স্থায়ী হোক’

মহামারী দীর্ঘায়িত হোক, নিশ্চয় কেউ তা চায় না। তবে মহামারীর এত বিপদের মধ্যেও ইতিবাচক যে পরিবর্তনগুলো মানুষের জীবনে এসেছে, সেগুলো ধরে রাখা এবং মহামারীর ফলে চোখের সামনে আসা সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ এসেছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক বলেন, ”আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জনস্বাস্থ্য ভিত্তিক করতে হবে। এখানে ব্যক্তি ও মুনাফাকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে চিন্তা ছিল… কারও কারও ধারণা ছিল বড় বড় হাসপাতাল, দামি দামি বিল্ডিং করলেই আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভালো হয়ে যাবে…।

”কিন্তু আমাদের জনপদে সুপেয় পানি, দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সামাজিক প্রচেষ্টা এবং পুরো জনগোষ্ঠী একসাথে কাজ করার যে বিষয়গুলো, এগুলোতে হয়ত আমাদের মনযোগ কম ছিল। দেশের বাইরে যারা চিকিৎসা করতে যান, তারা দেশে রাখার একটা চেষ্টা হয়ত ছিল… কিন্তু মহামারী দেখাল, আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যদি ঠিক না থাকে, … লাভ হবে না।”

ড. মুশতাকের ভাষায়, সামাজিকভাবে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং রোগ প্রতিরোধ করার জন্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরিবর্তনে যদি ১ টাকা খরচ করা হয়, তাহলে অন্যদিকে খরচ করার জন্য লাখ লাখ টাকা বেঁচে যাবে।

সেই পরিবর্তনের উদাহরণ দিতে গিয়ে কেমব্রিজের পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই গবেষক বলেন, “ইউরোপে কলেরা ছিল, প্লেগ ছিল, তারা সামাজিকভাবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মানববর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, রাস্তাঘাটে কফথুতু না ফেলা… এসবের ফল তারা পেয়েছে।”

মানুষের আচরণ বা স্বাস্থ্যগত বিষয় শুধু নয়, অন্য ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “যেমন ধরুন আমরা এখন জুমে মিটিং করছি, অনলাইন ক্লাস করছি, এটা কিন্তু মহামারীর কারণে হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের কাজের ভলিউম বাড়ল। পরিশ্রম আগের মতই থাকবে কিন্তু আমাদের কাজের আওতা বাড়ল।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টা যদি স্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য সুখবর। কারণ আমাদের দেশে শ্বাসতন্ত্রের রোগে অনেক মানুষ ভোগে, আমরা যদি মাস্ক পরাটা অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে অসুখ-বিসুখ কমে আসবে। মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হবে বলে আমি মনে করি।”

তার প্রত্যাশা, স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সরকার এখন অনেক বেশি উদ্যোগী হবে। করোনাভাইরাস স্বাস্থ্যখাতের যে বেহাল চিত্র উন্মোচন করেছে, তা সারিয়ে তুলতে প্রশাসন সক্রিয় হবে।

“পরিবর্তনের আরেকটি বড় জায়গা হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। আমরা সবকিছুই করতে পেরেছি কোন না কোনোভাবে, ব্যবসা-বাণিজ্য, কিন্তু আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে পারি নাই।

”এ কারণে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়রা পর্যন্ত সবার মধ্যে এক ধরনের হতাশা চলে আসছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করছি, কিন্তু এখনও এমন একটি প্ল্যাটফর্ম করতে পারি নাই, যেভাবে পরীক্ষা নিতে পারি, গ্রেডিং করতে পারি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা হয়েছে, কিন্তু সীমিত।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ