৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

অনলাইন ডেস্কঃ
মহামারীর বছরেই বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বুধবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

এই খবরে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, “নতুন বছরের শুরু‌তেই জাতির জন্য এটি অত্যন্ত সুখকর একটি ঘটনা।”

মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ নতুন এ উচ্চতায় উঠেছে। সেজন্য প্রবাসীদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তাদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা এবং বিদেশি ঋণ-সহায়তা বৃদ্ধিও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। শক্তিশালী রিজার্ভ মহামারী মোকাবেলায় সরকারকে ‘সাহস জোগাচ্ছে’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। দুই সপ্তাহে রিজার্ভে যোগ হয়েছে আরও এক বিলিয়ন ডলার।

গত এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন ডলারের মত। ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর রিজার্ভে ছিল ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসেবে প্রায় সাড়ে দশ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ-এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যে সব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের বিল পরিশোধ করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলারের উপরেই থাকবে।

গত কয়েক বছর ধরেই রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। দশ বছর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে সেই রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে গত বছরের অক্টোবরে। চলতি বছরের ৩০ জুন সেই রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। অক্টোবরের ৮ তারিখে ছাড়ায় ৪০ বিলিয়ন ডলার।

মহামারীর মধ্যেই চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল দেশে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

চলতি ডিসেম্বর মাসের ২৯ দিনে ১৯১ কোটি ২০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

সবমিলিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৯ ডিসেম্বর সময়ে রেমিটেন্স এসেছে ১২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার।

আর জুলাই-নভেম্বর সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের ১ শতাংশ বেশি।

এই পাঁচ মাসে ১৯৮ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে এই চার মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

সূত্রঃ বিডিনিউজ