মাস্ক পাল্টানোর সময়

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
ব্যবহারের কতক্ষণ পর মাস্ক বদলাতে হবে জেনে নিন।

মহামারীকালে নিজেকে নিরাপদ রাখতে মাস্কের ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা থেকে নানান প্রশ্ন জেগেছে মানুষের মনে।

এদের মধ্যে কখন পুরাতন মাস্ক ফেলে দিয়ে নতুন মাস্ক নিতে হবে সেই প্রশ্নটা একবার হলেও সবার মনে উঁকি দিয়েছে।

বিভিন্ন মানের ও ধরনের মাস্ক মিলছে বাজারে। মানুষ তা কমবেশি ব্যবহারও করছে। তবে কাপড় আর সার্জিকাল মাস্কের ব্যবহারকারীর সংখ্যাই বেশি।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল কখন ব্যবহার করা মাস্কটি ফেলে দিয়ে নতুন আরেকটা নিতে হবে।

ছেঁড়া, ঢিলা ও ভেজা:
ভারতের ইনস্টিটিউট অফ চেস্ট সার্জারি, চেস্ট অনকোলজি সার্জারি অ্যান্ড লাংস ট্রান্সপ্লান্টেশন’য়ের সভাপতি ডা. অরবিন্দ কুমার বলেন, “মাস্কের কোনো অংশ ছিঁড়ে গেলে তা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে না। ‘ইলাস্টিক’ ঢিলা হয়ে গেলে তা মুখে আঁটসাঁট হয়ে বসবে না, ফলে ভাইরাস ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ তৈরি হবে। মাস্ক ভিজে গেলে তা আর পরা উচিত হবে না কোনো অবস্থাতেই।”

“যারা চশমা পরেন, মাস্ক পরার পর যদি নিঃশ্বাসের বাতাসে চশমা ঘোলা হয়ে যায় তবে বুঝতে হবে মাস্ক আঁটসাঁট হয়নি। এসকল ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা মাস্কটি ফেলে দিয়ে নতুন মাস্ক নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মাস্ক পরা কারণটাই হল শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে যে বাতাস টেনে নিচ্ছেন তা যেন এই মাস্কের ভেতর হয়ে যায়। মাস্ক ঢিলা হলে কিছু বাতাস মাস্কের ভেতর দিয়ে আসছে না, তাই ওই মাস্ক পরে কোনো লাভ হচ্ছে না। আর সার্জিকাল মাস্ক চার থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ব্যবহার করা উচিত নয়।”

বিরতি দিয়ে মাস্ক পরা:
ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের ‘পালমোনোলজি অ্যান্ড ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন’ বিভাগের পরামর্শদাতা ডা. রিচা শারিন বলেন, “মহামারীর শুরু থেকে চিকিৎসকরা ‘এআইআইএমএস’ নীতি অনুসরণ করছে মাস্কের ক্ষেত্রে।”

“প্রতিমাসের শুরুতে চিকিৎসকদের পাঁচটি ‘এন ৯৫’ মাস্ক দেওয়া এবং প্রতিটির জন্য আলাদা কভার থাকে। প্রথম দিন একটি ব্যবহার করার পর তা কভারে রেখে দিতে হয়। দ্বিতীয় আরেকটি পরে দিন শেষে সেটাও আলাদা কভারে রেখে দিতে হয়। এভাবে পাঁচ দিন পাঁচটি মাস্ক ব্যবহারের ষষ্ঠ দিন ব্যবহার করা হয় প্রথম দিনের কভারে রাখা মাস্কটি। একই পদ্ধতি চাইলে জনসাধারণও অনুসরণ করতে পারেন।”

মাস্ক পরে মোমবাতি নেভানো:
এই পদ্ধতির কথা জানান ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের ‘জেনারেল ফিজিশিয়ান’ ডা. নাভনিত কউর।

মাস্ক পরে মোমবাতি নেভানোর চেষ্টা করে দেখুন। যদি মোমের আগুন নেভানো সম্ভব না হয় তবে সেই মাস্ক ব্যবহার করা যাবে। একই মাস্ক বারবার ধুয়ে ব্যবহার করতে থাকলে একসময় তা ক্ষয় হয়ে নষ্ট হবেই। সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে মাস্কের মান যাচাই করতে হবে। নতুন মাস্কের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা করতে পারেন।

কতদিন একটি মাস্ক ব্যবহার করা যায়:
‘নিরভানা বিয়িং’য়ের প্রতিষ্ঠাতা জয় ধার গুপ্তা বলেন, “ধুয়ে ব্যবহার করা যায় এমন মাস্ক ব্যবহার করলে দুটি মাস্ক রাখুন। একদিন বাদ দিয়ে মাস্ক দুটো পরবেন। যে মাস্কটি পরবেন না সেটি না ধুয়েই রোদ কিংবা বাতাসে রাখুন যাতে এর সকল আর্দ্রতা শুকিয়ে যায়। এতে মাস্কে থাকা ভাইরাস মরে যাবে। আর মাস্ক যখন আটঁসাঁট হয়ে মুখে বসবে না তখনই সেটি বাদ দিয়ে নতুন নিতে হবে।”

‘ইনমাস্ক’য়ের প্রতিষ্ঠাতা গওরাভ লোগানি বলেন, “কোন মাস্ক ব্যবহার করছেন তার ওপর নির্ভর করবে সেটি কতদিন পর বদলাতে হবে।”

যেমন এন ৯৫ মাস্ক একসঙ্গে পাঁচটি কিনতে হবে এবং একেক দিন একেকটা ব্যবহার করতে হবে। এক মাস পর পাঁচটিই ফেলে দিতে হবে। সার্জিকাল মাস্ক প্রতি চার ঘণ্টা পর পরিবর্তন করতে হবে। আর কাপড়ের মাস্ক ঢিলে না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ধুয়ে ব্যবহার করা যায়।

ডা. রিচা বলেন, “কাপড়ের মাস্ক কার্যকরী করতে তা তিন পরতের হতে হবে। নাক ও চোয়ালের অংশে আঁটসাঁট হতে হবে এবং মুখে ভালোভাবে বসতে হবে। প্রতিবার ব্যবহারের পর তা ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে। পরে ইস্ত্রি ব্যবহার করতে হবে যাতে ভাইরাস নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়।”

মাস্ক খোলা ও সংরক্ষণ
ডা. নাভনিত কউর বলেন, “খাওয়ার সময় কাপড়ের মাস্ক খুলে ভাঁজ করে অনেকে পকেটে রাখেন যা ঠিক নয়। মাস্ক খোলার সময় আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে কিংবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। এবার তা ভাঁজ করে বায়ুরোধক ব্যাগে রাখতে হবে। এছাড়াও যেখানেই রাখা হোক না কেনো সেখান থেকে ভাইরাস সংক্রমণের প্রবল সম্ভাবনা আছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ