রামুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনায় সাইমুম সরওয়ার কমল এমপিঃ এখন অস্ত্র ধরার সময় নয়, দেশকে ভালোবাসার সময়

খালেদ শহীদ, রামুঃ
রামুতে মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় রামু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। কক্সবাজার-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার সভাপতিত্বে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

‘সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ’ এ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সরওয়ার উদ্দিন, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজমিরুজ্জামান, রামু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমন্ডার নুরুল হক চেয়ারম্যান, ডেপুটি কমন্ডার রনধীর বড়ুয়া, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এডভোকেট একরামুল হুদা।

রামুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার বিজয় এসেছিলো ১৬ ডিসেম্বর। বিশ্ববাসি এখন করোনায় আক্রান্ত, সেই সময় থেকে আমরাও মুক্ত হতে পারিনি। আজ ৪৯ বছরের ধারাবাহিকতায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে, মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর বুধবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রামু উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। ভোরে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, জাতীয় পতাকাকে সালাম জানান রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, আপনারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রজন্মকে জানাতে হবে আপনাদেরকেই। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বলবেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের প্রজন্ম শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ কি জানতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চারিদিকে বিকশিত করতে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এমপি কমল বলেন, আপনার যারা রামু অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন ট্রেনিং নিয়েছেন, আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা লিখে দিবেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ লেখা সংগ্রহ করে, রামুর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনামুলক গ্রন্থ প্রকাশ করতে হবে।

পৃথীবির প্রত্যকটি দেশে ভাষ্কর্য রয়েছে উল্লেখ করে আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, বাঙালির সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্যে যারা যুদ্ধ করেছেন, রাজনীতি করেছেন। তাদের স্মৃতিকে আমরা ধরে রাখতে চাই, সম্মান জানাতে চাই। বিশে^র অনেক মুসলিম দেশে ভাষ্কর্য রয়েছে। আমরাও তেমনি ভাষ্কর্য রেখে দিতে চাই। বঙ্গবন্ধুকে আমরা সম্মান জানাতে তার স্মৃতি ধরে রাখতে চাই।

সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে রামুকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। দেশকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বানাবো। এখন অস্ত্র ধরার সময় নয়। এখন দেশকে ভালোবাসার সময়। নতুন প্রজন্ম আমরা, দেশকে ভালোবাসবো। আইনশৃংখলা মেনে চলবো। মাদক থেকে দূরে থাকবো। আমরা অন্যজনকে সেবা দেবো, বড়দের ভক্তি করবো এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় বীর হিসেবে সম্মান জানাবো। তবেই মহান বিজয় দিবসের সার্থকতা পাবো।

অধ্যাপক পরীক্ষিৎ বড়ুয়া টুটুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাঙ্গালী, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা রমেশ বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা অলোক বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা পরেশ বড়ুয়া সহ রামু উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, ক্যাং ও অন্যান্য উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন এতিম খানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস বাঙালী জাতির জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। এদিনে সশ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে। যাঁরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, ছিনিয়ে এনেছেন লাল সবুজের পতাকা। মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।