রামুর খুনিয়াপালংয়ে বিট পুলিশিং উদ্বোধনকালে পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানঃ তৃনমূল অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে বিট পুলিশিং

সোয়েব সাঈদঃ
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান (পিপিএম সেবা) বলেছেন-পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এরমাধ্যমে পুলিশের একজন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থান করে ফৌজদারি অপরাধ দমনের মাধ্যমে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। পাশাপাশি অপরাধিদের তালিকা তৈরী, মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারির তালিকা তৈরী করা হবে। তালিকা অনুযায়ি জেলা পুলিশ প্রয়োজনে বড় অভিযান পরিচালনা করে অপরাধিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালাবে। এভাবে বিট পুলিশিং চালু থাকলে অপরাধিরা ভেঙ্গে পড়বে। মানুষের মাঝে ফিরে আসবে স্বস্তি।


বুধবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন বিট পুলিশিং কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার আরো বলেন-মাদকের বিস্তার রোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ নির্মূল করে সুখি-সুন্দর দেশ গঠনে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ি সহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে পুলিশের এ প্রচেষ্টা সফলতা লাভ করবে।

তিনি বলেন- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, মামলা দায়ের, জিড়িসহ পুলিশের সকল সেবা পেতে হলে কাউকে টাকা দিতে হবে না। কেউ দালালের দ্বারস্থ হবেন না। দালালদের সব থানায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি হলে পুলিশকে জানাবেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং ওসি (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মামুন আল ইসলাম, রামু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল হক, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল মাবুদ, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল গনি, ইউপি সদস্য সৈয়দ সুলতান আহমদ প্রমুখ।

‘বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি’ এ শ্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের সাধারণ নাগরিকরা কাংখিত পুলিশি সেবা পাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় উপস্থিত জনতা বিট পুলিশের কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা দিয়ে এলাকাকে অপরাধমুক্ত করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে রামুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান বলেন- জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিতে বিট পুলিশিং একটি সময়োপযোগি ও প্রশংসনীয় কার্যক্রম। এরমাধ্যমে তৃণমূল জনগণ সহজে, কম সময়ে আইনী সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবে। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল মাবুদ বলেন- জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এখানকার মানুষ কথায় কথা থানা এবং কোর্টে গিয়ে নিরীহ লোকজনকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মিথ্যা মামলাবাজদের বিরুদ্ধেও পুলিশকে ভুমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান (পিপিএম সেবা) সহ অতিথিবৃন্দ খুনিয়াপালং ইউনিয়ন বিট পুলিশের অফিস উদ্বোধন করেন। এতে এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের জনতা উপস্থিত ছিলেন।