‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে দাঁড়াতে হবে এক কাতারে’

অনলাইন ডেস্কঃ
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এক কাতারে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন’ কর্মসূচিতে এ আহ্বান তিনি।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “মুসলিম প্রধান প্রায় সব দেশেই ভাস্কর্য আছে, ওদের দেশে তা তো ধর্মবিরোধী বলা হচ্ছে না। তাহলে বাংলাদেশে কেন বলা হচ্ছে?

“আর ভাস্কর্য যদি ধর্মবিরোধী হয়ে থাকে তাহলে তারা ওই সব দেশের বিষয়ে কেন এত দিন কথা বলল না? আসলে এই ভাস্কর্য বিরোধিতা ধর্মীয় কোনো বিষয় নয়। ভাস্কর্য নিয়ে তাদের হুমকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা তো আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। একাত্তরে পরাজয়ের ক্ষোভ আর জিঘাংসা থেকে তারা এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।”

মুজিববর্ষে ঢাকার ধোলাইড়পাড়ে বঙ্গবন্ধুর যে ভাস্কর্য সরকার স্থাপন করছে, তার বিরোধিতায় নেমেছে হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী কয়েকটি দল। এদের মধ্যে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করিম বেশ সরব।

এর প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট-ঢাকা কেন্দ্র, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ ও বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী উন্নয়ন পরিষদের সদস্যরা। কর্মসূচির শুরুতে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদ জানান তারা।

মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বলেন, “সরকারের নানা কর্মকাণ্ড, রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে আমাদের মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তো কারও ভিন্নমত থাকা উচিৎ না। এখন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ রক্ষা করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।”

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও একাত্তরের আদর্শের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ১১ ডিসেম্বর দেশের সব উপজেলা সদরে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানান তিনি।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, “ভাস্কর্য বিরোধিতা করে তারা আসলে আমাদের মধ্যে গোলমাল বাধাতে চায়, আমাদের বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা আমাদের উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।”

২০১৭ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের মতো আমরা তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারিনি বলে তারা আজকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো আজকে তাদের মাথায় তোলা হচ্ছে। তাই তো আজকে তাদের এত আস্ফালন।

“সরকারের কাছে অনুরোধ- এসব অমানুষদের, নৃশংস হত্যাকারী ও জঙ্গিদের যেন কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া না হয়।”

বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদের পক্ষ থেকে সদস্য সঞ্জীব দাশ অপু বলেন, “আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে আজকে। আমরা তাদের (মৌলবাদীদের) প্রতিরোধ করতে পারিনি, তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে পারিনি। তারই প্রতিফলন আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

মৌলবাদীদের উত্থানের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হক আজাদ বলেন, “মৌলবাদীদের কর্মকাণ্ড আপনাআপনি থেমে যাবে, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। এরা লুকিয়ে থাকবে, যখন তখন এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সব প্রয়াস রুখে দিতে হবে।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ