প্রতিমা বনাম ভাস্কর্য: হাদিস ও কোরানের রেফারেন্স

হাসান মাহমুদঃ
সরকার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এর বিরুদ্ধে প্রায় সব আলেম দাঁড়িয়ে গেছেন এবং তাদের অসংখ্য অনুসারী আছেন। তারা দাবি করছেন, ইসলামে সব মূর্তি অবৈধ; সরকার বলছে- শুধু উপাসনার প্রতিমা অবৈধ, সম্মানের ভাস্কর্য বৈধ। নানা পক্ষের হুংকারে প্রায় যুদ্ধাবস্থা! বর্তমান বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে আমরা দেখবো কোরান ও হাদিসে ভাস্কর্য এবং এর বিরোধিতা নিয়ে ঠিক কী বলা আছে। পাঠকের সুবিধায় লেখাটি চার অংশে ভাগ করে নিয়েছি- (ক) কারণ, (খ) বাস্তবতা, (গ) কোরান এবং (ঘ) হাদিস।

ক. ভাস্কর্য বিরোধিতার কারণ

বিশেষজ্ঞের মতে অতিরিক্ত কেতাব-প্রবণতা ধর্মগুরুদেরকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। অক্ষরের এই কারাগারকে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ শারিয়াবিদ ড. হাশিম কামালী বলেছেন আক্ষরিকতা “LITERALISM- প্রিন্সিপলস অব ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স। তখন শুরু হয় কে কার চেয়ে কত বেশি অক্ষর-শব্দ-দাঁড়ি-কমা জানেন বা “ব্যাখ্যা” করতে পারেন সেই বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা। হ্যাঁ, অতীতে মানুষ ভাস্কর্যের পূজোআর্চা করতো যা তৌহিদের বিপক্ষে। তাই যদি সেই সময়ে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ হয়েও থাকে, তবুও সেটা তখনকার প্রজ্ঞা, এখনকার নয়। ঠিক যেমন জিজিয়া কর বা দাসপ্রথার ওপরে কোরান রসুলের (স.) হুকুমগুলো তখনকার প্রজ্ঞা, এখনকার নয়। বর্তমানে ভাস্কর্য-বিরোধিতার কারণ কী? ভাস্কর্য দেখে কি কোনও মুসলিমের ঈমান আকিদার ক্ষতি হয়েছে? হয়নি। কোনও মুসলিম কি ধুপধুনো জ্বেলে তার ইবাদত শুরু করেছে? করেনি। কেউ ভাস্কর্যের ইবাদত শুরু করবে সে সম্ভাবনা কি আছে? নেই, একেবারেই নেই। অর্থাৎ বর্তমানে ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে “কেতাবে আছে” ছাড়া আর কোনো কারণ বা প্রজ্ঞা নেই। তাহলে দেখা যাক কেতাবে কী আছে এবং সেটা বর্তমানের বাস্তব-বান্ধব কিনা।

খ. বাস্তবতা

বিভিন্ন কারণে বহু দেশসহ মুসলিম দেশগুলোতেও ভাস্কর্য আছে শত শত। এমনকি পাকিস্তানেও জিন্নাহর বিশাল ভাস্কর্য আছে। সেসব দেশের আলেমরা কোনোদিন মিছিল হুংকার তো দূরের কথা, কোনোই আপত্তি করেননি। অর্থাৎ তাদের মতে ইসলামে ভাস্কর্য বৈধ। পুরো মুসলিম দেশগুলোর আলেমরা ভাস্কর্যের বিপক্ষে নন কিন্তু আমাদের আলেমরা ভাস্কর্যের বিপক্ষে কেন- এ প্রশ্নের জবাব আমাদের পেতেই হবে। কেন আমাদের আলেমরা তাদের সাথে কথা বলে উনাদের যুক্তিগুলো জানতে চান না? আশ্চর্য এই যে সৌদি আলেমদের সাথে মতে মিললে আমাদের আলেমরা বলেন, “ওখানেই তো ইসলাম এসেছিল উনারাই তো সবচেয়ে বেশি ইসলাম বোঝেন।” আর মতে না মিললেই বলেন, “সৌদি কী করে না করে তাতে কিছুই এসে যায়না, আমাদের ব্যাখ্যাই ঠিক।” কিন্তু বিষয়টা তো বিশেষ কোনো দেশ বা সরকারের নয়, বিষয়টা হল ভাস্কর্যের প্রতি এতো দেশের এতো এতো আলেমদের সম্মতি। সরকারের উচিত ওই আলেমদেরকে এনে দেশের আলেমদের সাথে বসিয়ে দেয়া যাতে উনারা সমস্যাটার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেন।

কোরানে ‘বিসমিল্লাহ’ সহ ৬৩৪৯ আয়াত এবং সহি সিত্তার মোটামুটি ২৮,০০০ হাদিস মিলে মোটামুটি ৩৪,৩৫০টি ইসলামী সূত্রের বহু জায়গায় অবৈধ করা হয়েছে “উপাসনার প্রতিমা” অর্থাৎ IDOL. কিন্তু STATUE অর্থাৎ ভাস্কর্য্যকে অবৈধ করা হয়েছে মাত্র একটাতে – সহি মুসলিম বুক ২৪-৫২৫০। সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। বলা বাহুল্য সহি মুসলিমে আছে রসুল (স) সবাইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সব সমাধি-সৌধ ভেঙে ফেলতে। আদেশটায় প্রজ্ঞা আছে, কারণ লোকে ওগুলোতে চাদর জড়িয়ে ইবাদত শুরু করে। কিন্তু সমাধি সৌধ আর ভাস্কর্য এক নয়।

গ. কোরান

সূরা সাবা আয়াত ১৩: They made for him what he willed: synagogues and statues, basins like wells and boilers built into the ground.

অনুবাদ: সূরা সাবা আয়াত ১৩: তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, কুয়ার মতো বৃহদাকার পানির পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত।

কোরান মেনে চললে এখানেই সিদ্ধান্ত হয়ে চ্যাপ্টার ক্লোজ হবার কথা, কিন্তু তা হয়নি। শব্দ বাক্য দাঁড়ি কমা নিয়ে অন্তহীন চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে, যা করে অতীতের অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। কোরানে প্রতিমা, প্রতিমা-পূজারী এবং ধর্মগুরুকে উপাস্যের স্থানে বসানোর নিন্দা আছে ও পরিহার করতে বলা হয়েছে সুরা হজ ৩০, ইব্রাহিম ৩৬, আনকাবুত ১৭, নুহ ২৩-২৪, মায়েদা ৯০, আম্বিয়া ৫২ ইত্যাদিতে।

কোরানের ‘রিজস’ ও সংশ্লিষ্ট শব্দের বাংলা তর্জমাতে শব্দ “মূর্তি” ব্যবহার করা হয়েছে যার মধ্যে দুর্গামূর্তি গান্ধীমূর্তি, হনুমান-সাপ-মাছ উপাসনার প্রতিমা, সম্মানের ভাস্কর্য- সবই অন্তর্ভুক্ত। ইংরেজিতে উপাসনার মূর্তি (প্রতিমা- IDOL) ও সম্মানের ভাস্কর্যের মূর্তি (STATUE) আলাদা দুটো শব্দ। আলেমরা কোরানের শব্দটার কি ইংরেজি অনুবাদ করেছেন? প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে গুহায়, পাহাড়ের গায়ে বা পরের আমলের নগরগুলোতে মানুষ, প্রাণী ইত্যাদির ভাস্কর্য থাকত। কিন্তু আরবভূমিতে প্রাচীন সভ্যতা নেই তাই কোনো ভাস্কর্যও ছিলনা। অতএব, যার অস্তিত্ব নেই তা নিষিদ্ধ করার সুযোগও নেই। তাই কোরানে যেখানে নবী সুলায়মানের (আ) রাজপ্রাসাদে ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠা দিয়ে সেটা বৈধ করা আছে, সেই সূরা সাবা আয়াত ১৩ ছাড়া কোরানের ইংরেজী অনুবাদে কোথাও STATUE অর্থাৎ “ভাস্কর্য” শব্দটিই নেই। আমি বহুল প্রচারিত ইউসুফ আলী ও পিকথল-এর অনুবাদ থেকে একথা বলছি।

(কোরান – ইউসুফ আলী’র ইংরেজী অনুবাদ-ফ্রি ডাউনলোড – https://globalquran.com/download/download.php?file=pdf/English-Quran-Yusuf-Ali.pdf কোরান – মার্মাডিউক পিকথল-এর ইংরেজী অনুবাদ-ফ্রি ডাউনলোড –

https://www.globalgreyebooks.com/meaning-of-the-glorious-quran-ebook.html)

ঘ. হাদিস

এবারে সহি সিত্তা অর্থাৎ আমাদের ছয়টি সহি হাদিস গ্রন্থ- সহি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী। হাদিসের অনুবাদক আলেমরা কী প্রমাণ করেছেন?

সহি বুখারি

পুরো সহি বুখারিতে STATUE অর্থাৎ ভাস্কর্য শব্দটিই নেই, IDOL অর্থাৎ উপাসনার প্রতিমার উল্লেখ আছে এই হাদিসগুলোতে – ১ম খণ্ড ৬, ২য় খণ্ড ৩০৩, ৬৭১, ৭০৬, ৩য় খণ্ড ১৮, ৪৩৮, ৬৫৮, ৪র্থ খণ্ড ২৬২, ২৭৬, ৪৬১, ৫৫৮, ৫৭৮, ৭২৩, ৫ম খণ্ড ১৬৯, ২০৬, ৩৭৫, ৬ষ্ঠ খণ্ড ২২, ৮৯, ১০৪, ১৪৭, ২৪৪, ৩৮৪, ৪৪২, ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৭৮, ৪৮৩, ৭ম খণ্ড ৩৮২, ৩৮৩, ৮ম খণ্ড ২২৬, ২৭১, ৩১৪, ৩৪৫, ৯ম খণ্ড ২৩২, ৫২৭ ও ৫৩২।

সহি নাসাঈ

১ম খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ১৩টি জায়গায়,

২য় খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ১৬টি জায়গায়,

৩য় খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ২৭টি জায়গায়,

৪র্থ খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ এবং IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ শব্দ দুইটির কোনোটিই নেই,

৫ম খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ২০টি জায়গায়,

৬ষ্ঠ খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ২৫টি জায়গায়।

সহি ইবনে মাজাহ

১ম খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ১৯টি জায়গায়,

২য় খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ৮টি জায়গায়,

৩য় খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ৩টি জায়গায়,

৪র্থ খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ৭টি জায়গায়,

৫ম খণ্ড – STATUE অর্থাৎ ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ২৮টি জায়গায়।

সহি আবু দাউদ

STATUE অর্থাৎ “ভাস্কর্য” শব্দটি নেই, IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ১১টি জায়গায়।

সহি তিরিমিযী

IDOL অর্থাৎ ‘প্রতিমা’ আছে ৮ জায়গায়। আর STATUE অর্থাৎ ভাস্কর্য আছে হাদিস ২৭৬৪-এ যেটার বিষয় এ নিবন্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

সহি মুসলিম

IDOL অর্থাৎ উপাসনার প্রতিমার উল্লেখ আছে এই হাদিসগুলোতে – বুক ১ – ৩০৪, ৩০৫, ৩৫২, ৩৬৭, বুক ৪ -: ১৮১২, বুক ৫ – ২৩১৮, বুক ৭ – ২৯২৩, বুক ১০ – ৩৮৪০, বুক ১৫ – ৪০৪৩, বুক ১৯ – ৪৩৯৫, ৪৩৯৭, ৪৩৯৮, ৪৪৩১, বুক ৩১ – ৬০৪৬, ৬০৫৩, বুক ৪০ – ৬৮৩৯ ও বুক ৪১ – ৬৯৪৪, ৭০২৩। আর STATUE অর্থাৎ ভাস্কর্যকে অবৈধ করা আছে মাত্র একটি হাদিসে- বুক ২৪-৫২৫০।

অর্থাৎ আমরা দেখলাম, কোরান-হাদিসের মোটামুটি ৩৪,৩৫০টি ইসলামী সূত্রের মাত্র একটাতে STATUE অর্থাৎ ভাস্কর্যকে অবৈধ করা আছে, সহি মুসলিম বুক ২৪- ৫২৫০। আমরা বলতে পারি, সহি হাদিস নিয়ে আমাদের আলেমদের আলোচনার সুযোগ আছে। যেমন, আলেমরা আমাদেরকে শিখিয়েছেন রসূল (স) মক্কায় ছিলেন ১৩ বছর, মদিনায় ১০ বছর। কিন্তু ওই সহি মুসলিমেই আমরা পাই তিনি মক্কায় ছিলেন ১৫ বছর- বুক ০৩০, হাদিস ৫৮০৫। সহি বুখারিতে ৩টি হাদিসে আছে তিনি মক্কায় ছিলেন ১৩ বছর (৫ম খণ্ড ১৯০, ২৪২ ও ২৪৩), আবার ওই সহি বুখারিতেই ৪টি হাদিসে আছে তিনি মক্কায় ছিলেন ১০ বছর (৪র্থ খণ্ড ৭৪৭, ৭৪৮, ৬ষ্ঠ খণ্ড ৫০২ ও ৭ম খণ্ড ৭৮৭।

আবার, আলেমরা আমাদেরকে শিখিয়েছেন রসূল (স) হজ করেছেন মাত্র একবার যাকে ‘বিদায় হজ’ বলে। সেখানে বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, আমাদের জন্য তিনি রেখে যাচ্ছেন কোরান ও তার সুন্নাহ- এ দুটো ধরে রাখলে আমরা “কোনদিন পথভ্রষ্ট হবনা”। কিন্তু ওটা সহি সিত্তার প্রায় ২৮০০০ হাদিসের কোত্থাও নেই, বরং সহি সিত্তাতেই এক রসূলের (স) এক বিদায় হজ্বের এক ভাষণের দুটি পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন আমরা পাই:-

১। উনি রেখে গেলেন শুধুই কোরান “যা ধরে রাখলে আমরা কোনদিন পথভ্রষ্ট হবনা”- (ক) সহি মুসলিম ২৮০৩, (খ) সহি ইবনে মাজাহ ৪র্থ খণ্ড ৩০৭৪। এর সমর্থনে হজরত ওমরের ভাষ্যে আছে “শুধু কোরানই আমাদের জন্য যথেষ্ট”- সহি বুখারী ১ম খণ্ড-১১৪, ৯ম খণ্ড ৩৭৪ ও ৪৬৮।

২। উনি রেখে গেলেন কোরান ও তার প্রজন্ম (আহলে বায়েত) “যা ধরে রাখলে আমরা কোনদিন পথভ্রষ্ট হবনা”- সহি মুসলিম হাদিস ৫৯২০।

অর্থাৎ সহি হাদিস নিয়ে আমাদের আলেমদের আলোচনার সুযোগ আছে, দরকারও আছে।

সংক্ষেপে আরো কিছু দলিল

(ক) স্বয়ং রসূলের (স) বাড়িতে বিবি আয়েশা (র) প্রাণীর পুতুল নিয়ে খেলেছেন – বুখারি ৮ম খণ্ড ১৫১, আবু দাউদ ৪৯১৪, মুসলিম ৩৩১১, ৫৯৮১। বালিকা পুতুল নিয়ে খেলবে, এটাই স্বাভাবিক নাকি ইসলাম বিরোধী?

(খ) কাবার দেয়ালে ছিল ৩৬০টি মূর্তি ও হযরত ঈসা (আ) ও (তার) মাতা মেরির ছবি – বুখারি ৩য় খণ্ড ৬৫৮। “রাসুল (সা) হযরত ঈসা (আ.) ও (তার) মাতা মেরির ছবি বাদে বাকি সব ছবি মুছিয়া ফেলিতে নির্দেশ দিলেন।”- সিরাত – ইবনে হিশাম/ইবনে ইশাক-এর পৃষ্ঠা ৫৫২।

(গ) প্রাচীন সভ্যতা আছে এমন দেশ সহ বহু দেশ জয় করেছিলেন মুসলিমরা, সেখানেও নিশ্চয়ই অনেক প্রতিমা-ভাস্কর্য ছিল। কিন্তু সাহাবীরা কিংবা ৭১০ সালে মুহম্মদ বিন কাশেম হিন্দু রাজা দাহিরের সিন্ধুদেশ জয় করার পর কোনো ভাস্কর্য ভেঙেছিলেন তেমন দলিল আমরা পাই না।

সবকিছু মিলিয়ে যা সুস্পষ্ট তা হল ইসলামে তৌহিদ বিরোধী আরাধনার প্রতিমা হারাম, কিন্তু সম্মান সৌন্দর্যের ভাস্কর্য হারাম হবে? প্রশ্নই ওঠেনা।

সবাইকে সালাম।

হাসান মাহমুদ, মুসলিম রিফর্ম মুভমেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মী, শারিয়া আইনের ওপর গবেষক, লেখক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তা।

সূত্রঃ বিডিনিউজ