পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানবকল্যাণে বন্যপ্রাণীর অবদান রয়েছে

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তহিদুল ইসলাম বলেছেন-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানবকল্যাণে বন্যপ্রাণীর অবদান রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা সবকিছুই মানুষের কল্যাণে সৃষ্টি করেছেন। বনের হাতি, হরিণ সহ বিভিন্ন প্রাণী নির্বিচারে হত্যার কারণে বনের জীব-বৈচিত্র, সৌন্দর্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। হাতি সকল বন্য প্রাণী হত্যা বা ধরার মতো কোন অপরাধ সংগঠিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া জলবায়ুর প্রভাব এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে দেশে বনাঞ্চল এমনিতে হ্রাস পেয়েছে। বন্যপ্রাণী এবং বনাঞ্চল রক্ষার মাধ্যমে দেশকে অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, খরা, বন্যা সহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষায় সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। তাই নির্বিচারে বন্য প্রাণী হত্যা বা ধরা যাবে না। শুধু বন্যপ্রাণী নয়, বনের সকল সম্পদ রক্ষা করা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বুধবার (২ ডিসেম্বর) রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মাদ্রাসা গেইট স্টেশনে ‘মানুষ-হাতি সংঘাত নিরসন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় করণীয়’ বিষয়ে সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল সামশুদ্দিন আহমদ প্রিন্স।

বন বিভাগের জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বন বিভাগের বাঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সরওয়ার জাহান, মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুন মিয়া সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ভিলেজারগণ বক্তব্য রাখেন।

রামু উপজেলার নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা বলেছেন-বন্যপ্রাণীয় হত্যায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা বন সম্পদ ধ্বঃস করে তারা দেশ ও মানুষের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ হতে হবে। হাতির প্রতি বনাঞ্চলের পাশর্^বর্তী জনসাধারণকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন-হাতি যেন সবখানে বিচরণ করতে পারে। কোথাও কোন ক্ষতি করলে নিজেরা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে যেন বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে। আর বন্য প্রাণী দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের ক্ষতিপুরণ দেবে।