বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রামুতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রামু উপজেলায়ও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহঃ স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীবৃন্দ। (২৬ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্যসেবী রামু স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ কর্মচারীগণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।

তারা জানান, দাবী অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। এতে ইপিআই টিকাদান, করোনায় সচেতনতা কর্মসূচী, স্বাস্থ্যশিক্ষাসহ চলতি বছরের ৫ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় শিশুরা হাম রুবেলা টিকা না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কর্মসূচী পালনকালে জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল ও রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ নোবেল কুমার বড়ুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালের একটি পৃথক সভায় যোগদানকালে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য পরিদর্শক, হেল্থ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন রামু শাখার নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও তাদের দাবী দাওয়া পূরণে সহযোগীতা কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিপ্লব বড়ুয়া, সহঃ স্বাস্থ্য পরিদর্শক অরিন্দ্র বড়ুয়া, দুলাল বড়ুয়া, পংকজ শর্মা, বাবুল চন্দ্র শর্মা, স্বপন ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য সহকারী এনামুল হক, আবদুল্লাহ, নুরুল আমিন, আবু জাবেদ, মোহাং নজরুল ইসলাম, সায়মা, মহিতুন্নেসা, হাসিনা, সাদেকা, সাজেদা বেগম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহঃ স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারিগণ যথাক্রমে ১৪, ১৫ ও ১৬তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। নিয়োগবিধি সংশোধন করে তাদের বেতন যথাক্রমে ১১, ১২ ও ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবীতে এ কর্মসূচী পালিত হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বাস্থ্যকর্মীদের মহাসমাবেশে বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষনা দিয়েছিলেন, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি কমিটিও গঠন করে দেন। এছাড়া চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন বর্জন করলে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয় দাবি মেনে নিয়ে লিখিত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে এপ্রিলে চালু করা হয় স¤প্রসারিত টিকাদান সর্মসূচি (ইপিআই)। এ কর্মসূটি আওতায় দেশের এক লাখ ২০ হাজার আউটরিচ টিকাদান কেন্দ্র এককভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসহকারীগণ বর্তমানে ১০টি মারাত্মক সংক্রামক রোগের (শিশুদের যক্ষা, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও হাম-রুবেলা) টিকা প্রদান করেন। এ স্বাস্থ্য সহকারীরাই ২০১৩ সালের জানুুয়ারিতে একদিনে ০৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সফলভাবে প্রদান করেন। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবীগণ জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী একজন সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পর পর পদোন্নতি পান। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগে দেখা যায় যত ব্যতিক্রম। এত সেবা দেয়ার পরও একজন স্বাস্থ্য সহকারী ২০ থেকে ২৫ বছরেও পদোন্নতি পান না। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পান, যখন চাকরির বয়স বাকি থাকে ৫ থেকে ৬ মাস। আবার পদোন্নতি হলেও বেতন বাড়ে না এক পয়সাও।