রামুতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় ইউএনও প্রণয় চাকমাঃ সামাজিক দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে মেয়েদের উপর

খালেদ শহীদঃ
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, মেয়েদের অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে, নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলতে হবে। পড়ালেখা করেই কর্মমূখী হতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে মেয়েদের উপর। স্কুলে যেতে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামের মেয়েরা। ১২-১৪ বছরের মেয়েদের ১৮ বছর দেখিয়ে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। সমাজের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনায় বাবা-মাকে সামাজিক দায়বদ্ধার কথা বলে বাধ্য করা হচ্ছে, বাল্য বিয়ে দিতে। কর্মহীন পরিবারেই সবচেয়ে বেশী ঘটছে এসব ঘটনা। অল্পবয়সে বিয়ে দিয়ে মেয়েটিকে ঝুঁকির মধ্যে টেলে দিচ্ছে, তারই বাাব-মা। রামুর গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ায় বাল্যবিয়ের হার বেশি।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রামু উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পালস বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা। পালস বাংলাদেশ সোসাইটির মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান শিক্ষাবিদ মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার নুরুল আলম সাদেকী।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফসানা জেসমিন পপি, ভাইস চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ ছিদ্দিকী, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু মোতালেব রায়হান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।
‘স্থানীয় জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ‘গ্লোবাল কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এন্ড রেজিলেন্স ফান্ড’ এর অর্থায়নে পালস বাংলাদেশ সোসাইটি ‘কক্সবাজরের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল, চাকমারকুল, রশিদনগর, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে, উখিয়ার রাজাপালং, রত্নাপালং, পালংখালী, টেকনাফের হোয়াইক্ষং,টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, কক্সবাজার সদর উপজেলায় খুরুস্কুল, চৌফলদন্ডী ও কক্সবাজার পৌরসভায় বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রোগ্রাম ম্যানেজার নুরুল আলম সাদেকী বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিবর্তন প্রতিনিধি হওয়ার জন্য যুবক ও যুব-মহিলাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছে ‘পালস বাংলাদেশ’। প্রকল্প কর্মপরিধির মাধ্যমে সহিংস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত পদক্ষেপকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জোট গঠন করা হবে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের যুবক, যুব-মহিলাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আয় বর্ধনমুলক কর্মে তাদের সংযুক্ত করার জন্য চাকুরীর বাজার তৈরী করতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্ক স্থাপনে ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি উন্নয়নে’ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পালস বাংলাদেশ সোসাইটি’ স্থানীয় এলাকার পিছিয়ে পরা মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে ২০০৮ সাল থেকে। দীর্ঘ বছর কক্সবাজার জেলায় দূর্যোগ মোকাবেলা ও জরুরী গ্রাণ সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, পথশিশুদের উন্নয়ন, এতিম শিশুদের পড়ালেখা, ইন্টারেকটিভ পপুলার থিয়েটার, জন সচেতনতা, উগ্রবাদ ও সহিংসতা নিরসন এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচলানা করে আসছে সংস্থাটি।

পালস বাংলাদেশ সোসাইটির টেকনিক্যাল অফিসার ইফ্ফাত হক সানামের সঞ্চালনায় ও রামু উপজেলা ম্যানেজার কলিম উল্লাহ’র সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় মুক্ত আলোচনায় বক্তৃতা করেন, সূর্যের হাঁসি ক্লিনিক ব্যবস্থাপক খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, রামু রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সোয়েব সাঈদ, সাংবাদিক আল মাহমুদ ভূট্টো, রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বজল আহম্মদ প্রমুখ।

সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।