আস্থা প্রকল্পের অনলাইন সভায় নারী নির্যাতন রোধে সমন্বিত ও বৈষম্যবিহীন সেবার অঙ্গীকার

সোয়েব সাঈদঃ
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২০ উপলক্ষে আস্থা প্রকল্পের উদ্যোগে “জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে মাল্টি-সেক্টরাল সেবার ব্যবহার ও মান বৃদ্ধিতে করণীয়” শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫শে নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২০ শুরু হয়েছে।
২৫ নভেম্বর বুধবার সকালে নেদারল্যান্ডস এম্বাসির অর্থায়নে, ইউএনএফপিএ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কারিগরি সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প অংশীদার সংগঠন ইপসা এ অনলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে লিগ্যাল এইড অফিস, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, সমাজ সেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি মাল্টি-সেক্টরের কর্মকর্তা এবং একইসাথে সুশীল সমাজ-সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় ১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’-এর গুরত্ব এবং প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এরমধ্যে আস্থা প্রকল্প, কমিউনিটি পর্যায়ে নারীরা বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেবা নিতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন এবং তাঁদের সুপারিশসমুহ পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন সকল প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সারভাইভারদের আরো উন্নত সেবা প্রদানের আশ্বাস দেন। এতে উন্নয়ন কর্মী শারমিন সিদ্দিকি (কেইস ব্যাবস্থাপক, কোডেক) বলেন, “মানসিক যন্ত্রনায় ভুগতে থাকা সার্ভাইবারদের জন্য যদি কোন স্থায়ী ট্রমা সেন্টার থাকে তাহলে কেইস ব্যাবস্থাপনার ক্ষেত্রে সুবিধা হয় ”

বিশেষ অতিথি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওসিসি ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট তানজিনা তাসনিম বলেন, ট্রমা সেন্টারগুলোকে যদি স্থায়ীভাবে একটি সেইফ হোম হিসেবে পরিচালনা করা যায় তাহলে সুদূরপ্রসারি ও স্থায়ী ফল পাওয়া যাবে। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেকগুলি সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা যাবে বলে আমি মনে করি।

বিশেষ অতিথি কেয়ার বাংলাদেশ এর প্রকল্প সমস্বয়ক হাসিনা জামান বলেন, “যে বিষয়ে আমরা কাজ করছি সে বিষয়ে অনেকগুলি বাধার সম্মুখীন আমাদের নিয়মিত হতে হয়। প্রথমত নারীরা কোন সেবাটি নিতে চান সেব্যাপারে সাহসী সিদ্ধাšত নিতে পারেন না, যে সেবা গুলি জেলা পর্যায়ে পাওয়া যায় সেগুলি গ্রহন করবার ক্ষেত্রেও নারীরা অনেকটাই অনীহা বোধ করেন। আমরা এ বিষয় গুলি নিয়ে কাজ করছি। এসব ক্ষেত্রে আস্থার কাজগুলি আমাদের জন্য অনেক সাহায্য করেছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব সবাই যাতে আমরা আমাদের প্রত্যেকের স্থান থেকে আরো বেশি প্রচারণা বাড়াতে পারি তাহলে আমাদের লক্ষ্যটা নিকটতর বোধ হবে। ”

সভার সভাপতি রামু উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আবু মোতালেব বলেন-রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে কক্সবাজারকে অনেক বেশী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এ অনলাইন সভা মাল্টি-সেক্টর সেবাপ্রদানকারীদের নিজেদের মধ্যে এবং তাদের সাথে সুশীল সমাজ সংগঠনের মেলবন্ধনের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। যা সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে সুষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে সারভাইভারদের আরো উন্নত সেবা পেতে সাহায্য করবে।