৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ন্যায্যমূল্যে চাল দেবে সরকার

ন‌্যায‌্য মূল‌্যের কার্ডে সেপ্টেম্বর মাস থেকে পঞ্চাশ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। খবর বিডিনিউজের।

শনিবার ‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর’ অনুষ্ঠানে তিনি এতথ‌্য জানান।

সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে খাদ‌্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে মাসে ৩০ কেজি করে চাল আগামী মাস থেকে বিতরণ করা হবে।”

ন‌্যায‌্যমূল‌্যের কার্ডের মাধ্যমে বাজারমূল‌্যের চেয়ে অনেক কম দামে চাল বিক্রি করা হয়। তবে চালের কেজিপ্রতি দাম কত রাখা হবে তা পরিস্কার করেননি মন্ত্রী।

খাদ‌্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জন্য এতো ভাবেন বলেই আজকে তিনি একজন বিশ্বনেতা হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। বাংলাদেশে হতদরিদ্রদের জন্য যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি রয়েছে, পৃথিবীর অনেক দেশেই এরকম কর্মসূচি নেই।”

প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ প্রকল্পের আওতায় আট বিভাগে আটটি সাইলো (গুদাম) নির্মাণ করা হবে। আমাদের টার্গেট ২০১৮ সালের মধ্যে ২৫ লাখ টন, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৩৫ লাখ টন খাদ্য মজুদ করার সক্ষমতা অর্জন করা। এ লক্ষে কাজ করছে সরকার।”

কামরুল বলেন, “দুর্যোগের সময় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ধান-চাল সংরক্ষণ করতে সরকার ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টন ক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে।”

বর্তমানে ২০ লাখ টন খাদ্য শস্য মজুদ করার গুদাম রয়েছে বলেও জানান তিনি।

খাদ‌্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকল ক্ষেত্রে টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়ে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন করছেন। আগামী ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর কাজ দৃশ্যমান হবে। এভাবে শিক্ষা, খাদ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।”

‘বাংলাদেশের অগ্রগতি থামিয়ে দিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ মন্তব‌্য করে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ভেদ করে আমরা এগিয়ে যাব।”

খাদ্য অধিদপ্তর ও মদিনা পলিমার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিরি সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ এবং খাদ্য সচিব এ এম বদরুদ্দোজা।

বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের টাস্ক টিম লিডার ম্যানিয়েভেল সেনও উপস্থিত ছিলেন।

বদরুদ্দোজা বলেন, উন্নত খাদ্য মজুদকরণের মাধ্যমে দুর্যোগের সময় পর্যাপ্ত জরুরি খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক।
এই ঋণে আট বিভাগে আটটি সাইলো নির্মাণের যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তা ‘মদিনা পলিমার’ বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও মদিনা পলিমারের মধ্যে একটি চুক্তি হয়।