বিদেশে বসবাস-ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মহানবী মুহাম্মদ (সা.) এর কার্টুন নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে ফ্রান্স তাদের নাগরিকদের মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি দেশে বসবাস কিংবা ভ্রমণ করার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়ে বাড়তি পূর্বসতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ইরাক ও মৌরিতানিয়ায় বাস করা ফরাসি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, তাদের মুহাম্মদ (সা.) এর কার্টুনের বিরুদ্ধে যে কোনও বিক্ষোভ এবং সব ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনামায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে এবং পর্যটক ও পরবাসী সমাগমের জায়গাগুলোতে ফরাসি নাগরিকদের বিশেষভাবে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

তুরস্কের ফরাসি দূতাবাস থেকেও সে দেশে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) এর একটি কার্টুন দেখানো নিয়ে মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভে ফেটে পড়ে ফ্রান্সের তীব্র সমালোচনায় মেতেছে। ফরাসি পণ্য বয়কটেরও ডাক উঠেছে।

ফ্রান্সে স্যামুয়েল প্যাটি নামের এক ইতিহাস শিক্ষক ক্লাসে বাকস্বাধীনতা বিষয়ে পাঠদানের সময় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখান। যার জেরে গত ১৬ অক্টোবর চেচেন বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি ছুরি হাতে ওই শিক্ষককে আক্রমণ করে এবং তার শিরশ্ছেদ করে। চেচনিয়া মুসলমান অধ্যুষিত দেশ।

এ ঘটনা ফ্রান্সে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনেক ফরাসি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ফরাসি মূল্যবোধ সুরক্ষিত রাখা এবং ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন। ম্যাক্রোঁর এ বক্তব্য পছন্দ হয়নি তুরস্কের।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান ম্যাক্রোঁর ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার’ বলে মন্তব্য করেন। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, ফ্রান্স তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়।

যার জাবাবে এরদোয়ান তুর্কিদের ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেন।

এরদোয়ানের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ম্যাক্রোঁ কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নবী মুহাম্মদের (সা.) ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে উৎসাহিত করে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামকে আক্রমণ’ করছেন। ইরানও এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সৌদি আরব মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যাঙ্গচিত্র আঁকা নিয়ে সমালোচনা করেছে। যদিও তারা ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পক্ষে নয়।

ওদিকে, মঙ্গলবার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে তুরস্ক এবং পাকিস্তানের নাক গলানো উচিত না।

সূত্রঃ বিডিনিউজ