ফ্রান্সে বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহারে কঠিন চীবর দান

অনুপম বড়ুয়া টিপু, প্যারিস থেকেঃ
ফ্রান্সে বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসের অদুরে স্থা বাংলাদেশী বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহার ভাবনা কেন্দ্রে এই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা মহামারিতে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সীমিত পরিসরে সকালে এক পর্বে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়। এবারই প্রথম পুণাথীদের বিহারে না আসতে নিরুৎসাহ করা হয়।

দানোত্তম কঠিন চীবরদান উপলক্ষে ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে শীলগ্রহণ, বুদ্ধপূজা, সংঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দান, সবশেষ বহু আকাঙ্ক্ষিত কঠিন চীবরদানসহ নানা আয়োজনে সমৃদ্ধ ছিল।

ফ্রান্সের বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহার ভাবনা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এ দানসভায় সভাপতিত্ব করেন মৈত্রী বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত অনোমদর্শী থের।

প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন কুশলায়ন বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের পরিচালক ভদন্ত জ্যোতিসার ভিক্ষু, ,বিশেষ ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বিজয়ানন্দ ভিক্ষু, দেশনা করেন।

ভদন্ত, আনন্দ ভিক্ষু ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট সেন্টারের অধ্যক্ষ ভদন্ত চন্দ্রজোতি ভিক্ষু। মঙ্গলাচরণ করেন বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহার ভাবনা কেন্দ্রের পরিচালক ভদন্ত কল্যাণরত্ন ভিক্ষু।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজয় বড়ুয়া। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উদযাপন পরিষদের সম্পাদক
পলাশ বড়ুয়া, কানন বড়ুয়া পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভদন্ত আনন্দ ভিক্ষু, মিটু কুমার বড়ুয়া।

 

 

বক্তারা বলেন, ‘চীবর দান’ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দান জন্ম-জন্মান্তরে সুফল প্রদায়ী। প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বছরে একবার মাত্র এ চীবর দান করা হয়।

এদিন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে বৌদ্ধ গৃহীরা ভিক্ষু সংঘকে চীবর দান করে। ভিক্ষুসংঘও তাদের বিনয়-বিধানের সকল নিয়ম অক্ষুণ্য রেখে পরিধেয় বস্ত্র হিসেবে এ চীবর গ্রহণ ও ব্যবহার করে। কঠিন চীবর দানের বহুধা গুণের কথা স্মরণে রেখে প্রত্যেক বৌদ্ধ জীবনে অন্তত একবার হলেও চীবর দান করার মানসিকতা পোষণ করে।