মৃত্যুদণ্ডে কমবে ধর্ষণ-নারী নির্যাতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
মৃত্যুদণ্ডের বিধান হওয়ায় এসিড নিক্ষেপের ঘটনার মতো ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের মধ্যে ‘জরুরি’ বিবেচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সোমবার মন্ত্রিসভা অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি তাতে সই করেন।

বুধবার বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, “এসিড নিক্ষেপ নিয়মিত ঘটনা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন এর সর্বোচ্চ শাস্তি যখন মৃত্যুদণ্ড হলে এবং কয়েকটি রায় হওয়ার পর এটি কমে গেছে।

“এখন নারী নির্যাতনের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি করা হয়েছে। আমরা আশা করি এটিও কমে যাবে।”

নারী নির্যাতন মামলার তদন্ত ও বিচার ১৮০ দিনেও করা যাচ্ছেনা, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, “বিচারের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যা করা প্রয়োজন করছি অর্থাৎ সঠিক তদন্ত তা আমরা করছি।

“পুলিশ তদন্তসহ সকল বিষয়ে নজর রাখছে। প্রয়োজনে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত নিরপেক্ষ করতে যা দরকার করছি, করব। আদালত বিচারের সিদ্ধান্ত নেবে। তারাও কিন্তু দ্রুত বিচারের বিষয়টি বলেছেন।”

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, “৩০ বছর আগে এক ধরনের তদন্ত হয়েছিল, পিবিআই তদন্ত করে আবার নতুন করে তথ্য বের করেছে। মানুষ যাতে সঠিক বিচার পান সেজন্য সাথে সুশাসন নিশ্চিত করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সে কাজটি করছে।”

সিলেট ও নবাবগঞ্জে থানায় আসামি মারা যাওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সিলেটের ঘটনাটি তদন্তে রয়েছে। নিহতের স্ত্রী যে মামলা করেছে তা আমলে নিয়ে এটার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী অবশ্যই যে দায়ী তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। মামলার দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে, যাতে পিবিআই একটা সুন্দর তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারে।

“নবাবগঞ্জের ঘটনাটা হল হাজতখানায় একজন আসামি বাথরুমে নিজের লুঙ্গি দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এটাও আমরা ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তের মাধ্যমে দেখব। হাজতখানার ভেতরে কিভাবে সে মারা গেল সেটাও আমাদের দেখার বিষয়। কেন সে আত্মহত্যা করল, তাকে কেউ প্ররোচিত করেছিল কিনা, সব বিষয়ই আমরা দেখব।”

ফেইসবুকে গুজব নিয়ে মঙ্গলবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যে প্রেসরিলিজটি দিয়েছি সেখানে বলা হয়েছে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ানোর জন্য অনেক সময় অনেক তথ্য এসেছে, যেগুলোর সত্যতায় ঘাটতি রয়েছে এবং আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন মিথ্যা খবর প্রচারিত হচ্ছে।

“পাশাপাশি আদালতের রায় নিয়েও সমালোচনা করছেন। বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন কায়দায় একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য এই সমস্ত মিথ্যা, অসত্য তথ্য প্রচার করছেন এবং জনগণের মনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করার জন্যও আমাদের নিয়মিত বাহিনী যেগুলো রয়েছে, তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য অসত্য তথ্য দিয়ে অন্য ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে এই কাজগুলো করছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।”

এই ধরনের গুজব প্রতিরোধের সক্ষমতা বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এনটিএমসি একটি বিভাগ রয়েছে, তারা সব সময় মনিটর করছে। কে করছে, কোথা থেকে আসছে, আমরা সে জায়গাটিতে কাজ করছি।

“ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সে জায়গাটিতে কাজ করছে। ফেইসবুকসহ অন্যান্য যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে তাদের সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা চালাচ্ছি। আমরা যে অভিযোগ করছি তারা সেগুলোর তথ্য আমাদেরকে দিচ্ছেন। ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ যে সবসময় সহযোগিতা করছে তা বলব না। তবে মাঝে মাঝে করছে।”

এ বিষয়ে আরও ভালোভাবে কিভাবে কাজ করা যায় তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানান মন্ত্রী।

সূত্রঃ বিডিনিউজ