ঘরে যেখানে জীবাণুর মাত্রা ভয়ঙ্কর

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
যতই পরিষ্কার করা হোক না কেনো কোথাও না কোথাও ধুলাবালি, জীবাণু থেকেই যায়।

গৃহস্থালীবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল ঘরের সবচাইতে জীবাণুতে ভরা স্থানগুলো সম্পর্কে।

রিমোট কন্ট্রোল

২০১১ সালে ‘এনএসএফ ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি সংস্থা মোট ২২টি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে গবেষণা চালায়। এই গবেষণায় ঘরের বিভিন্ন রিমোটের মধ্যে ৫৫ শতাংশে পায় ছত্রাক, ১৪ শতাংশে ‘স্ট্যাফ’ এবং ৫ শতাংশে পায় ‘ই কোলি’-জাতীয় জীবাণু যার মানে হল ওই রিমোটগুলোতে মল দ্বারা সংক্রামিত।

রিমোট পরিষ্কার করতে ‘অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওয়াইপ’ ব্যবহার করতে পারেন কিংবা কাপড় বা তুলা জীবাণুনাশকে ভিজিয়ে তা দিয়ে মুছতে পারেন। সরাসরি জীবাণুনাশক ছিটালে তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ফ্রিজের হাতল

ফ্রিজ ঝকঝকে হলেও তার হাতলে হতে পারে বিভিন্ন জীবাণুতে পরিপূর্ণ। তা হতে পারে ‘ইস্ট’, ছত্রাক, ‘ই-কোলি’ ব্যাকটেরিয়াসহ আরও অনেক অসংখ্য জীবাণু। তা পরিষ্কার করতে জীবাণুনাশক স্প্রে যথেষ্ট।

শৌচাগার

দরজার হাতল থেকে শুরু করে ঘরের এই অংশের প্রতিটি স্থানেই জীবাণু পরিপূর্ণ। আর সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হয়ত কখনই সম্ভব না। তাই প্রয়োজন নিয়মিত পরিষ্কারের অভ্যাস।

ফ্ল্যাশের হাতলের জীবাণু ধ্বংস করতে হলে তা বাতাসে শুকিয়ে যাওয়ার আগেই জীবাণুনাশকে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে।

কমোডের ঢাকনা পরিষ্কার করতে প্রতি সপ্তাহের একবার সেখানে শক্তিশালী জীবাণুনাশক ছড়িয়ে দিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। পরে কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন বা ধুয়ে ফেলতে পারেন।

শৌচাগারের দরজার হাতল কাঠ, ধাতব, কাচ, প্লাস্টিক যাই হোক না কেনো সেগুলোতেও জীবাণুনাশক ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব।

বাতির সুইচটার কথা হয়ত অনেকেরই মাথায় আসবে না। তবে এখানেও জীবাণুর কমতি নেই বিন্দুমাত্র। পরিষ্কার করতে জীবাণুনাশক ভেজানো কাপড় দিয়ে তা মুছতে হবে, সরাসরি ছিটানো যাবে না।

ওভেনের হাতল

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের হাতলে জীবাণু থাকতে পারে এমনটা হয়ত কারও কাছে অবান্তর মনে হতে পারে। তবে ফ্রিজের হাতলের মতোই তা প্রতিদিন বহুবার স্পর্শ করা হয়। আর তাই জীবাণু থাকা স্বাভাবিক ব্যাপার। পরিষ্কার করতে হবে জীবাণুনাশক ভেজানো কাপড় দিয়ে।

কাটিং বোর্ড

যার ওপর রেখে প্রতিদিনের খাবার কাটাকাটি করছেন তা কতটুকু পরিষ্কার তা যাচাই করা হয় তো?

ধোয়া সবজি, মাংস, মাছ যাই কাটা হোক না কেনো, কাজ শেষে তা ভালোভাবে না পরিষ্কার করে রেখে খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে সেখানে প্রচুর জীবাণুর সংক্রমণ হয়। থালা বাসন পরিষ্কারের উপাদান দিয়েই ‘কাটিং বোর্ড’ অনায়াসে পরিষ্কার করা যায়। তবে সময় নিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

অনেকে রান্না ঘরের চুলার পাশের তাকের ওপর কিংবা মেঝেতে বটি রেখেও কাটাকাটির কাজ করেন। ফলে সেখানেও উচ্ছিষ্ট থেকে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে এবং জুতার মাধ্যমে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। তাই কাজের আগে পরে এই স্থানগুলোও পরিষ্কার করতে হবে।

সবকিছু ধোয়ার কাজ যে ‘সিংক’য়ে করছেন সেটাও কিন্তু ধুতে হবে। এখানে ব্যবহার করতে পারেন ‘ব্লিচিং পাউডার’ ও অন্যান্য শক্তিশালী উপাদান। পাশাপাশি যে স্পঞ্জ দিয়ে বাসন পরিষ্কার করছেন সেটাও প্রতিবেলায় পরিষ্কার করা উচিত। একই স্পঞ্জ বেশিদিন ব্যবহার করাও ক্ষতিকর হতে পারে।

চুলার চাবি

তেল মসলা লেগে পুরো রান্নাঘরই সময়ের পরিক্রমায় তেল চিটচিটে হয়ে জীবাণুর বংশবিস্তারের আদর্শ স্থানে পরিণত হয়। বিশেষ করে চুলার চাবি, যা বারবার হাত দিয়ে স্পর্শ করা হয়।

এখানেও জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। তাতে তেল চিটচিটে ভাব না গেলেও অন্তত জীবাণু ধ্বংস হবে। আর মাসে একবার পুরো চুলা ও তার নিচের অংশ পরিষ্কার করা অভ্যাস করা উচিত। খাবারের অংশ পড়ে এই অংশগুলো নোংরা হয়।

পোষা প্রাণীর ব্যবহার্য

যারা পোষা প্রাণী রাখেন তাদের বাড়তি সাবধান হতে হবে। তাদের ব্যবহার করা খেলনা, খাবারের পাত্র, ‘লিটার’ ইত্যাদিতে অসংখ্য প্রজাতির জীবাণুর বসবাস। সাবান পানি, জীবাণুনাশক স্প্রে ইত্যাদি দিয়ে এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

বেসিনের কল

প্রতিবার বাইরে থেকে এসে যে বেসিনে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত পরিষ্কার করছেন সেই বেসিনগুলোর কলটা পরিষ্কার করছেন কজন? হাতে সাবান মাখানোর সময় কলটাতেও সাবান মাখিয়ে রেখে দিন, আবার হাত পানি দিয়ে ধোয়ার আগে কলে পানি ছিটিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তা না করলে কল খোলার সময় আপনার হাত থেকে যে জীবাণু কলে লেগেছিল, কল বন্ধ করার সময় তার কিছু অংশ আবার আপনার হাতেই ফিরে আসবে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ