‘তনু এখন ইতিহাস হয়ে গেছে’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর অনার্স প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশিত হয়েছে। তনু দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাস করেছে। খবর বাংলাট্রিবিউনের।
বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ ফল প্রকাশিত হওয়ার পর কথা হয় তনুর মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, মেয়ের রেজাল্ট পেয়ে খারাপ লাগছে। কত আশা নিয়ে তাকে ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি করেছিলাম। মেয়ে লেখাপড়া করে বড় মানুষ হবে। এটাই তার শেষ রেজাল্ট। তার আর কোনও রেজাল্ট আসবে না। ইতিহাসের তনু এখন ইতিহাস হয়ে গেছে।
আক্ষেপ করে তনুর মা বলেন, সিআইডি বলেছিল ঈদের পরে তনুর মামলার অগ্রগতি হবে। ঈদের পর গত এক মাসেও তেমন খোঁজ-খবর পাইনি। তনুকে সেনানিবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। সিআইডি সন্দেহভাজনদের তালিকাও করেছে। তনুর কাপড়ে পাওয়া তিন পুরুষের শুক্রাণুর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনও মেলানোর কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। তাদের আটক করে ডিএনএ টেস্ট করলেই হত্যাকারী শনাক্ত হয়ে যায়। সিআইডি সব জানে, তারাও কোনও কারণে এগুতে পারছে না।
তনুর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো.ইব্রাহিম বলেন, তনু হত্যা মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।২১ মার্চ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। ওই দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন।

গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল দেওয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ।

গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডির কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খানের কাছ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। ১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকার কথা বলা হয়।