২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার দুঃসহ সেই স্মৃতি

অনলাইন ডেস্কঃ
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জুতা-স্যান্ডেলের মধ্যে এখানে ওখানে পড়ে আছে লাশ, খণ্ড-বিখণ্ড দেহাবশেষ, মাঝে মধ্যে শোনা যাচ্ছে আহতদের কাতর ধ্বনি- রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত চারদিক।

১৬ বছর আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ গ্রেনেড হামলায় পরিণত হয়েছিল এমন মৃত্যুপুরীতে।

হামলায় নিহতরা চলে গেছেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। কিন্তু সেদিন যারা কাছ থেকে সাক্ষী হয়েছিলেন হামলার, তাদের মনে এখনও সেই স্মৃতি হয়ে আছে ক্ষতের মতো, যা আমৃত্যু তাদের বয়ে বেড়াতে হবে।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বিকালে মুক্তাঙ্গনে বাধা পেয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিল শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার শিকার হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাবেশের নেতাকর্মীরা।

সেদিন অস্থায়ী ট্রাকে বানানো মঞ্চে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে শেখ হাসিনার ঠিক পেছনে ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসের আমু।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা, সমাবেশে হামলা, সিলেটের মাজারে নেতাকর্মীদের উপর হামলাসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশ ও মিছিলের জন্য আমরা প্রথমে মুক্তাঙ্গনে প্রস্তুতি নেই। কিন্তু প্রশাসন আমাদের মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে বাধা দেয়। পরে একটি ট্রাক এনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সমাবেশ শুরু করি।

“জায়গায় জায়গায় নেতাকর্মীদের অবস্থান ও মিছিলের কারণে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশে উপস্থিত হতে একটু দেরি হয়েছিল। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বক্তব্য দেওয়ার সময়ই নেত্রী মঞ্চে আসেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বক্তব্য শেষ করার পরপরই একটি বিকট শব্দ হয়। এরপর টানা গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে।”

গ্রেনেড বিস্ফোরণের সময় শেখ হাসিনার পেছনে ট্রাকে শুয়েছিলেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, “কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমি ট্রাকের মধ্যেই শুয়ে পড়েছিলাম। নেত্রীকে নেতারা নামিয়ে গাড়িতে উঠালো, আমি ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে দেখি চারদিকে রক্ত আর রক্ত, মানুষের আর্তনাদ। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা আমাকে ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ট্রাক থেকে নামিয়ে নিচে নিয়ে গেল। আমি মানুষের কান্না আর রক্ত দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছি, কী হল?”

হামলাকারীদের নিরাপদে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে আমু বলেন, “নেত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার পরপরই শুরু হল কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ। নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে আর পুলিশ শুরু করেছে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ। মূলত হামলাকারীরা যেন নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে সেজন্যই তখন কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছিল।”

সেদিনের হামলায় আহত হয়েছিল আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

স্মৃতিকাতর কাদের বলেন, “নেত্রী বক্তব্য দেওয়ার শেষের দিকে আমি ট্রাক থেকে নেমে গাড়ির গেটের কাছে চলে গিয়েছিলাম। মূলত এই সময়গুলোতে নেত্রীকে লে অফ করার জন্য আমরা দু-একজন গাড়ির গেটের কাছে থাকতাম। সেদিনও আমি গ্রেনেড হামলার দুই মিনিট আগে গাড়ির দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।

“নেত্রী বক্তব্য শেষ করে ট্রাক থেকে নামবেন, এমন সময় বিকট শব্দ। দুই-তিন সেকেন্ডের আবার বিকট শব্দ আর চিৎকার, ধোঁয়ায় ভরে যাচ্ছে চতুর্দিক। আমি নেত্রীর গাড়ির গেটে। হঠাৎ একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হল আমার একেবারেই পাশে। তখন আমি পড়ে গেলাম। এরপর নেতাকর্মীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। অনেকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ এমন বিভীষিকাময় স্মৃতি।”

স্প্লিন্টার বয়ে বেড়ানোর কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “গ্রেনেডের স্প্লিন্টারগুলো এখনও আমাকে যন্ত্রণা দেয়। হাত-পায়ে শত শত স্প্লিন্টার নিয়ে ভুগছি।”

সেদিনের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশ ডেকেছিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। সমাবেশের সভাপতি ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ আর সমাবেশ সঞ্চালনা করেছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। দেহে স্পিন্টার নিয়ে ভুগতে ভুগতে হানিফ চিরবিদায় নেন।

সেদিনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, “সারা বাংলাদেশে সিরিজ বোমা হামলা, সমাবেশে হামলা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মানুষ দিশেহারা। তারই প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মহানগর আওয়ামী লীগকে নির্দেশ দেন সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য।

“তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ভাইয়ের সঙ্গে সভা করার বিষয়ে পরামর্শ করতে যাই আমি ও হানিফ ভাই। তিনি বলেন নেত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে তোমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সভাটা মুক্তাঙ্গনে কর। সেই আলোকে ১৮ তারিখে সিটি করপোরেশন, পুলিশ কমিশনার এবং ডিসি অফিসে দরখাস্ত দিয়েছি মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য। কিন্তু ১৮ তারিখ যায়, ১৯ তারিখ, ২০ তারিখ পর্যন্ত তারা কোনো উত্তর দেয়নি। তখন মনে হয়েছে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে দেবে না। আবার আমরা জলিল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিই।”

শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী বড় ট্রাক ও টেবিল আনা হয়েছিল জানিয়ে মায়া বলেন, “সেদিন বড় ট্রাক ও টেবিলটিই নেত্রীকে বাঁচিয়েছিল। যে কোনো সভার আগে আমরা নেত্রীর পরামর্শ নিতে যাই। নেত্রী ওইদিন আমাদের বলেছিলেন, ‘দেখ তোরা যে ট্রাকটা আনছ, সেই ট্রাকগুলো অনেক ছোট, বড় ট্রাক আনতে পারস না? আর বক্তব্য দেওয়ার সময় তো পেছনে লোক বেশি থাকে, ধাক্কা ধাক্কি হয়, সামনে জায়গা কম থাকে আমরা তো ট্রাক থেকে পড়ে যেতে পারি’।

“নেত্রীর এমন কথার পর আমরা তেজগাঁও থেকে সাত টনের বড় ট্রাক আনি, স্টিলের বডি। আগের ট্রাকগুলোর ডালা আড়াই ফুট উঁচু, বড় ট্রাকের ডালা ছিল সাড়ে চার ফুট লম্বা। ছোট ট্রাকের ডালা খোলা যেত কিন্তু সাত টনি ট্রাকের শুধু পিছনের ডালা খোলা যেত। আর নেত্রীর কথামত নিচতলার যুবলীগ অফিস থেকে টেবিল নিয়ে নেত্রীর সামনে রেখেছিল পার্টি অফিসের শাজাহান। অনেকে বলে মানব ঢাল করে নেত্রীকে বাঁচানো হয়েছে, কিন্তু যদি ওইদিন ট্রাকের ডালা খোলা থাকত, আর ডালা বড় না হত, তাহল ট্রাকে কিন্তু গ্রেনেড পড়তে পারত।”

গ্রেনেড বিস্ফোরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনাকে টেবিলের নিচে রাখা হয়েছিল জানিয়ে মায়া বলেন, “মিটিংয়ের শেষের দিকে নেত্রী এসে বক্তব্য শেষ করল, ঠিক এমন সময় সাংবাদিক গোর্কিসহ কয়েকজন বলল আমরা ছবি পাইনি। পরে একটু ঘুরে এসে আমার হাত থেকে মাইকটা নিয়ে নেত্রী আবার এক মিনিটের মত মাইকের সামনে ছিলেন। নেত্রী ঘুরে নামার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছিল, এমন সময় বিকট শব্দ। আমরা ভাবছিলাম হয়তো ট্রাকের চাকা ব্লাস্ট হয়েছে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মাথায় আরেকটা ব্লাস্ট হইছে। এরপর একটা বিকট শব্দ আর চারদিকে ধোঁয়া, চিৎকার। তখন আপাকে ধরে আমি আর হানিফ ভাই টেবিলের নিচে দিয়ে আমরা কয়েকজন উপড়ে পড়ে থাকি।

“তখন ট্রাকের অনেকেই যে যেভাবে পারছে নিচে নেমে গেছে। যখন দেখলাম বন্ধ হইছে তখন আপারে ধরে ট্রাক থেকে নামিয়ে গাড়িতে নিয়ে যাই। আপা তখন বলে ‘তোরা আমারে কই নিয়া যাস, আমরা নেতকর্মীরা এখানে পইড়া আছে’। আমি বলছি আপা আপনাকে আগে নিয়া যাই পরে দেখি কী হচ্ছে। এরমধ্যেই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে থেকে সমানে গুলি শুরু হইছে। এরপর আপাকে সুধাসদনে রাখি।

“আপা বলল, ‘জাহাঙ্গীর, মায়া তোরা দেখ পার্টি অফিসে কী হইতাছে’। আমরা গাড়ি নিয়ে ঢাকা ক্লাবের সামনে পর্যন্ত আসতে পারছি, এরপর আর আসতে দেয় না। তখন দৌড়াইয়া পার্টি অফিসে আসি। আইসা দেখি আরেক কাণ্ড, মানুষের রক্ত চারদিকে, চিৎকার। আর পুলিশ শুরু করেছে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ। এরমধ্যেই যে যেভাবে পারছে আহত নেতাকর্মীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেছে। তখন পার্টি অফিসের সামনে পেট্রোল পাম্পের সামনে রাখা ১৫-২০টা ভ্যান গাড়ি এনে নেতাকর্মীরা এক ভ্যানে ৫-৬ জন করে নিয়ে মেডিকেলে গেছে।”

আলামত নষ্ট করতে ফায়ার সার্ভিসের পানি দিয়ে পার্টি অফিস এলাকায় হাঁটু পানি করা হয়েছিল জানিয়ে মায়া বলেন, “আহত নেতা কর্মীদের হাসপাতালে রেখে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা আবার পার্টি অফিসের দিকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসতে চাইলে আবার টিয়ার গ্যাস আর গুলি শুরু করে। এক পর্যায়ে আমরা কয়েকজন জিপিও মোড়ে আইসা দেখি ফায়ার সার্ভিসের আট-দশটি গাড়ি, পানি ছিটাচ্ছে। আর জিপিও এলাকাতেই হাঁটু পানি। পার্টি অফিসের আহত নেতাকর্মীদের রক্তে লাল পানি, আর মানুষের জুতো। মূলত আলামত নষ্ট করতে তারা ফায়ার সার্ভিস দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করেছে।”

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও এই হামলায় জড়িত ছিল দাবি করে মায়া বলেন, “এই ঘটনা সরকারের মদদে হয়েছে বলেই পানি দিয়ে আলামত নষ্ট করা, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের পালাতে সহযোগিতা করা হয়েছিল। তখন বাবর তো ছিল প্রতিমন্ত্রী, পূর্ণমন্ত্রী তো ছিল প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এই ঘটনার পিছনে খালেদা জিয়ারও হাত ছিল, সেও জানত।”

সেদিনের হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। আহত আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভী রহমান (প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী) ২৪ অগাস্ট মারা যান। প্রায় দেড় বছর পর মৃত্যু হয় ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে।

২১ অগাস্ট হামলায় নিহত অন্যরা হলেন শেখ হাসিনার দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান, হাসিনা মমতাজ, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসিরউদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। একজনের পরিচয় জানা যায়নি।

হামলার পরদিন মতিঝিল থানার তৎকালীন এসআই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। থানা পুলিশ, ডিবির হাত ঘুরে সিআইডি এই মামলার তদন্তভার পায়।

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়।

রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এছাড়া ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।

গত ১৬ অগাস্ট মামলার পেপারবুক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। মামলায় বিচারিক আদালতে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃতুধণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) শুনানির জন্য রয়েছে। এ শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তত করতে হয়। ডেথ রেফারেন্স, আপিল, জেল আপিল, মামলার রায় ও যাবতীয় নথি পাঠানো হয় সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসে। সেখানেই পেপারবুকটি প্রস্তুত করা হয়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ