ঘর থেকে কাজ করলে যেভাবে বসা ঠিক না

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
ভুলভাবে বসার কারণে হতে পারে ঘাড়ে-পিঠে ব্যথা।

ঘরে বসে অফিসের কাজ করা এখন নতুন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু মানুষ এই নতুন স্বাভাবিকের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলেও অনেকেই লম্বা সময় বসে থাকার কারণে পিঠ ও কোমরের অস্বস্তিতে ডেকে আনছেন।

ভুলভাবে বসার একটি উদাহরণ হল এক কিংবা দুই পা ভাঁজ করে বসা। এভাবে বসতে অনেকেই স্বচ্ছন্দ বোধ করলেও নিজের অজান্তে শরীরের বড় ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত।

‘ব্লাড প্রেশার মনিটরিং’ শীর্ষক সাময়িকীতে এবিষয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণাও প্রকাশিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে এর কারণ হল, পা থেকে রক্ত হৃদযন্ত্রে পৌঁছাতে হলে অভিকর্ষ বলের বিপরীতে কাজ করতে হয়। আর এক পায়ের ওপর আরেক পা ভাঁজ করে বসলে সেই কাজে আরও বাধা সৃষ্টি হয়।

এই বাধা অতিক্রম করার জন্য শরীর তখন রক্তচাপ বাড়ায়। সামান্য সময় এভাবে বসলে কিছুই মনে হবে না। তবে ১৫ মিনিট বা তারও বেশি সময় এভাবে বসে থাকা উচিত নয়। আর প্রতি এক ঘণ্টা পর উঠে কিছুক্ষণ হাঁটতে হবে অবশ্যই।

আরও যে সমস্যাগুলো হতে পারে

পা ভাঁজ করে বসার কারণে পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। সবচাইতে নিরাপদ বসার ধরন হল দুই পা মাটিতে নামিয়ে রাখা এবং নিতম্ব বরাবর সোজা রাখা।

তবে আট ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় একইভাবে বসে থাকা সম্ভব নয়। আর এজন্যই প্রতি ঘণ্টা পর উঠে হাঁটতে হবে।

এছাড়াও এক হাঁটুর ওপর আরেক হাঁটু রেখে বসলে নিতম্ব বেকায়দা অবস্থায় থাকে। এতে ‘পেলভিক’ অঞ্চলের হাড়গুলো ঘুরে যায়। এই হাড়গুলো পিঠ ও ঘাড়ের ওজন বহন করে।

তাই এই হাড়গুলো বেকায়দায় থাকলে পিঠ ও ঘাড়ের নিচে ও মাঝ অংশে চাপ পড়ে, ব্যথাও হতে পারে।

স্নায়ুর ক্ষতি

লম্বা সময় পা ভাঁজ করে বসে থাকার পর উঠে দাঁড়াতে গিয়ে পা অবশ এবং সেখানে ঝিনঝিন অনুভূতি হয়েছে নিশ্চিয়ই। এমনটা হওয়ার কারণ হল পা ভাঁজ করে বসার কারণে পা ও পায়ের পাতায় থাকা স্নায়ু ও রক্তনালীতে চাপ পড়ে থাকে, রক্ত সঞ্চালন কমে যায়।

এই অবশ অনুভূতি কয়েক মিনিট পরেই স্বাভাবিক হয়ে যায় ঠিক। তবে ঘন ঘন এমনটা হতে থাকলে স্নায়ু স্থায়িভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

সূত্রঃ বিডিনিউজ