রাজাকারের তালিকা করবে সংসদীয় কমিটি

অনলাইন ডেস্কঃ
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের নেতৃত্বে গঠিত সাবকমিটি রাজাকারের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা বাতিল করে সরকার।

রাজাকারের তালিকা তৈরির জন্য গঠিত সাবকমিটিতে আরও রয়েছেন- কমিটির সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং মোসলেম উদ্দিন আহমেদ।

কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা তৈরির কাজে এই সাবকমিটি বর্তমান সংসদের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্যে যারা সংসদ সদস্য আছেন তাদের সহযোগিতা নেবে। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সঙ্গে জড়িতদের এই তালিকা প্রকাশ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সাবকমিটি যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকে রাজাকারদের তথ্য সংগ্রহ করবে।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে গতকালের বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, রাজিউদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, এবি তাজুল ইসলাম এবং মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বলেন, এবার সংসদীয় কমিটি নিজেই এই তালিকা তৈরি করবে। এ কাজে একটি সাবকমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছেন তাদের কাজে লাগানো হবে। আর তথ্য নেওয়া হবে যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকে।

তিনি জানান, তারা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের নির্দেশনা দেবেন। তারা তালিকা তৈরি করবেন। কোনো একক কর্তৃপক্ষ তালিকা করবে না। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তারা সমন্বয় করবেন। তালিকা তৈরির জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, এটি খুবই একটি বড় কাজ। কিছুটা সময় লাগবে। যার কারণে কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় দ্রুত একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বের অনেক দেশে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরি দেওয়া হয় না- এমন মন্তব্য করে শাজাহান খান বলেন, ভিয়েতনামে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত সরকারি চাকরি দেওয়া হয় না। বাংলাদেশে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়ে গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা যাতে সরকারি চাকরি না পায় সে বিষয়ে কিছু একটা করা দরকার। সেজন্য রাজাকারদের তালিকাটা দরকার। এই কাজটা এবার করা হবে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ইত্যাদির তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশের জন্য শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের সাবকমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে সংসদীয় কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দটি লেখার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রস্তাব করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তাতে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটি সভাপতি শাজাহান খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দ লিখতে হবে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করবে।

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার মোট ২৪টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সুপারিশ করা হয়।

সূত্রঃ সমকাল