‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরুরি ছাত্র সংসদ’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাসহ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস রুখতে দেশের সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি চালু এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র সংসদ চালু করা দরকার।

আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি-বেসরকারি কলেজ এমনি মাদ্রাসাগুলোতেও নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধভাবে সুষ্ঠু চিন্তার সুযোগ পাবেন। এতে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ড জোরদার হবে। এ ধরনের কার্যক্রম থাকলে শিক্ষার্থীরা জঙ্গি বা সন্ত্রাসে ঝুঁকবেন না।

৩ আগস্ট দুপুরে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক লাকি আক্তার। এ সাক্ষাৎকারটি তিনি খুলনায় বসে দিয়েছেন।

লাকি বলেন, বর্তমানের জঙ্গি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে মুক্তচিন্তার প্রগতিশীল তরুণরাই এগিয়ে আসতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে জঙ্গিবাদের যে ধরনের তৎপরতা চলছে, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধের সংস্কৃতি বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে এ ধরনের অপতৎরতা রুখে দেওয়া সম্ভব।

Student Union

জঙ্গি দমনে ছাত্র ইউনিয়ন কি ভূমিকা রাখছে এ প্রশ্নের উত্তরে লাকি বলেন, ‘আমরা সারা দেশে গণসংগীত, মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা করেছি এবং করছি। এছাড়া বর্তমানে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন কাজে সহযোগিতা করছেন ছাত্র ইউনিয়নের সদস্যরা’।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন একটি স্বাধীন ছাত্র গণসংগঠনের নাম। ভাষা আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ চেতনা থেকে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা নিয়ে ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল এর জন্ম। এ সংগঠনটি জন্মলগ্ন থেকেই ছাত্রদের এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা ছাত্রস্বার্থ রক্ষা ও ছাত্রদের অধিকার আদায়কে অগ্রাধিকার দেয়। সকল শিক্ষার্থীর জন্য বৈষম্যহীন বিজ্ঞানভিত্তিক গণমুখী ও একই ধারার শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন জন্যে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

তিনি বলেন, শিক্ষা আজ একটি পণ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ধনী-গরিবের বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এ বৈষম্যের কারণে আজকের সমাজে নানা ধরনের কাঠামো তৈরি হয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিজ্ঞানভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠেকানোর আহ্বান জানিয়ে লাকি বলেন, কোনো কিছুর বিনিময়ে সুন্দরবন ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় ও প্রশিক্ষণ এবং মোটা অংকের টাকা দিয়ে মদদ দিচ্ছেন তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

*******************************
বাংলানিউজ থেকে নেয়া