করোনাভাইরাস: আরও ৪২ জনের মৃত্যু, ২৭৪৪ রোগী শনাক্ত

অনলাইন ডেস্কঃ
নতুন করোনাভাইরাসে দেশে আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে; এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৫১ জনে।

একদিনে আরও ২ হাজার ৭৪৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫৪ জন হয়েছে।

আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৮০৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ২০২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বুধবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তা দুই লাখ পেরিয়ে যায় ১৮ জুলাই। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ।

আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১৭ জুলাই তা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনে রেকর্ড ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী। ৩৭ জন হাসপাতালে এবং ৫ জন বাড়িতে মারা গেছেন।

তাদের মধ্যে ২৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।

এই ৪২ জনের মধ্যে ২১ জন ঢাকা বিভাগের, ৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, ২ জন বরিশাল বিভাগের, ৩ জন সিলেট বিভাগের এবং ২ জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

নাসিমা সুলতানা জানান, এই পর্যন্ত যে ২ হাজার ৭৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ৮৬ শতাংশের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি।

এছাড়া ২৯ দশমিক ৪৪ শতাংশের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৬ দশমিক ৮০ শতাংশের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ২ দশমিক ৯৮ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ১ দশমিক ০৯ শতাংশের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

তাদের ৪৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ ঢাকা বিভাগের, ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ রাজশাহী বিভাগের, ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ খুলনা বিভাগের, ২ দশমিক ১১ শতাংশ ময়মনসিংহ বিভাগের, ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ রংপুর বিভাগের, ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ সিলেট বিভাগের এবং ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৭৭টি ল্যাবে ১২ হাজার ৫০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসের সেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট www.dghs.gov.bd এর CORONA কর্ণারে “করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ” লিংকে অথবা http://app.dghs.gov.bd/covid19-complaint লিংক ব্যবহার করে পাঠানো যাবে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ