‘কবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামবে জাতীয় দল?’

ক্রীড়া ডেস্কঃ
টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি- সর্বশেষ জাতীয় দলে তিন ফরম্যাটের কোনটাতেই ছিলেন না তিনি। লিটন দাস আর মোহাম্মদ মিঠুন এগিয়ে সামনে চলে আসায় খানিক পিছনে চলে গেছেন নুরুল হাসান সোহান। এরপরও তাকে ভোলেননি নির্বাচকরা। তাদের চিন্তা-ভাবনায় আছেন এ উইকেটরক্ষক কাম মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

রোববার থেকে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দুই স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ ও মেহেদি হাসানের সাথে অনুশীলন শুরু করেছেন নুরুল হাসান সোহানও।

আজকের আগে বাসার খুব সামনেই নিজ উদ্যোগে উইকেট তৈরি করে ব্যাটিং প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছিলেন। জাগো নিউজের সাথে রোববার বিকেলে মুঠোফোন আলাপে সোহান জানান, ‘খুলনায় বাসার সামনে খালি জায়গায় আমি নিজেই উইকেট তৈরি করে নিয়েছি। সাথে একটা ছেলে আছে। সে থ্রো করতে পারে খুব জোরে। ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল ছুঁড়তে পারে। আমি বাসার কাছের ওই উইকেটের চারপাশে একটা বক্স তৈরি করেছি নেট দিয়ে। কাজেই আমার একজন সহযোগি হলেই চলে। শুধু বল ছুঁড়ে দিলেই আমি ব্যাটিং প্র্যাকটিস সেরে নিতে পারি। নিচ্ছিও।’

যেহেতু ব্যাটিংটা সেখানেই ঝালিয়ে নিচ্ছেন, তাই সোহান খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের ইনডোরে আর ব্যাটিং করতে আগ্রহী নন। তার কথা, ‘আমি স্টেডিয়ামে স্কিল ট্রেনিং করতেও আসিনি। আমি শুধু রানিং করছি। আমার মূলতঃ রানিং করতেই শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে আসা।’

তার সাথে দুই অলরাউন্ডার মিরাজ ও মেহেদি হাসানের সাথে কথা হয়েছে কি না? তারা কে কি করেছেন? জানতে চাইলে সোহান জানান, ‘যেহেতু আমার প্র্যাকটিস সিডিউলের মিল ছিল না, তাই ঠিক বলতে পারবো না কে কি করেছে? আমার টাইম ছিল সাড়ে ১০টায়। মেহেদি শুরু করেছে সকাল সাড়ে ৯টায়। মিরাজের প্র্যাকটিস টাইম মনে হয় আমাদের আগে ছিল। তবে কেউ মনে হয় ব্যাটিং-বোলিং করেনি। খুলনা স্টেডিয়ামের ইনডোরটা ঠিক প্রস্তুত আছে কি না? তাও জানি না। তবে সবাই রানিং করেছে এইটুকু জানি।’

স্টেডিয়ামে এসে রানিং করায় মনটা ফুরফুরে লাগছে, এমনটা জানিয়ে সোহান বলেন, ‘এতদিন কেমন যেন মনমরা মনে হতো। কবে খেলা শুরু হবে, কখন প্র্যাকটিস করবো? ভাবতে ভাবতেই ৪ মাস কেটে গেল। আজ মনে হচ্ছে খেলা শুরুর আগের অবস্থার কথা।’

জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলা সোহানের উপলব্ধি হলো, চার মাস একদম খেলার বাইরে থাকা অনেক বড় ব্যাপার।

তার ভাষায়, ‘এখন ঘরোয়া আর আন্তর্জাতিক মিলে সারা বছরই খেলা চলে। সেখানে এরই মধ্যে আজ পুরো ৪ মাস হয়ে গেল কোন খেলাধুলা নেই। শুধু হালকা রানিং আর জিমওয়ার্ক করে কাটছে সময়। আজ থেকে অবশ্য মাঠে ফেরা হলো। কিন্তু এগুলো এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য মোটেই যথেষ্ঠ নয়। রীতিমত অপ্রতুল।’

সোহানের শেষ কথা, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগে ঘরোয়া ক্রিকেট বিশেষ করে সম্ভব হলে প্রিমিয়ার ক্লাব ক্রিকেট খেলে নিতে পারলে অনেক উপকার হবে। যেহেতু এখন নিকট ভবিষ্যতে খেলা নেই কোন। এশিয়া কাপও বাতিল হয়ে গেছে। ধরেই নেয়া যায় আগস্টেও খেলা হবে না। এখন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহ থেকে কিংবা অক্টোবরের একদম শুরুতে যদি প্রিমিয়ার লিগ শুরু করা যায়, তাহলে সিঙ্গেল লিগ হলেও গড়পড়তা ১০ম্যাচ খেলা যাবে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য এই অনুশীলন কার্যকর ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন সোহান। তিনি বলেন, ‘সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগে বড় কার্যকর দাওয়াই হবে। না হয় আমরা বাসায় বা এভাবে যতই ফিটনেস ট্রেনিং, রানিং আর জিমওয়ার্ক করি না কেন, তা খুব কাজে আসবে না।’

জাতীয় দল কবে মাঠে নামবে, তা নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় সোহান। তিনি বলেন, ‘জানি না কবে জাতীয় দল আবার আন্তর্জাতিক আসরে মাঠে নামবে? সাড়ে চার মাস চলে গেছে। ধরে নেই আরও অন্তত দেড় কিংবা দুই মাস খেলা হবে না। এত দীর্ঘ সময় খেলার বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে ফিরে স্বাভাবিক পারফর্ম করা খুব কঠিন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগে ম্যাচ প্র্যাকটিস ও ম্যাচ ফিটনেসটা খুব জরুরি। সেটা অনুশীলন, ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি খেলে খেলেই আয়ত্বে আনতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই সে ম্যাচ ফিটনেস ও ম্যাচ প্র্যাকটিসটা করতে হবে। তাহলেই কেবল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে নিজেদের মানিয়ে নেয়া সহজ হবে। শুনেছি ইংল্যান্ডেও ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করেছে। আমরা যদি প্রিমিয়ার লিগ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করতে পারি, সেটা অনেক কাজে দেবে। সবাই তখন চার্জডআপ থাকবে।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ