চিংড়িঘের দখল নিতে ব্যাপক গুলিবর্ষণঃ মগনামা ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতিকে ধাওয়া

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরতঘোনা উত্তর পাড়া এলাকায় প্রায় ৮০একর আয়তনের একটি চিংড়িঘের দখলদারদের উচ্ছেদ করে দখল নিয়েছে স্থানীয় মৃত হেদায়তুর রহমানের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই সাবেক এমইউপি তৈয়ব এর নেতৃত্বে সস্ত্রাসী বাহিনী।

এসময় তাদেরকে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করেন মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খাইরুল এনামের নেতৃত্বে একদল লোক। ওই সময় দু’পক্ষে দফায় দফায় শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দখল পরবর্তী সভাপতি খাইরুল এনাম মগনামাস্থ ফুলতালা ষ্টেশনে একটি দোকানে অবস্থান নিলে বিক্ষোব্দ একদল লোক তাকে ধাওয়া দিলে প্রাণ রক্ষার্থে পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান নিলে প্রাণে বেঁচে যায়।

তবে আওয়ামীলীগ সভাপতি খাইরুল এনাম চিংড়ি ঘের দখলের কথা অস্বীকার করলেও তাকে ধাওয়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পেকুয়া হয়ে মগনামা নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে ফুলতালার কিছু বখাটে তাকে হত্যার চেষ্টা চালালে প্রাণ রক্ষার্থে একটি বাড়িতে অবস্থান নেন।

গত মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত শরৎ ঘোনাস্থ চিংড়িঘের ও মগনামা ফুলতালা ষ্টেশনে দফায় দফায় গুলি বর্ষনের ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে ওই চিংড়িঘেরটি সরকারি খাজনা আদায় করে চাষবাদ করে আসছিলেন আফজালিয়া পাড়া এলাকার আবু ছৈয়দসহ আরো কয়েকজন চিংড়ি চাষী। আর ওই চিংড়িঘেরটি দীর্ঘদিন ধরে দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন জাহাঙ্গীর ও আবু তৈয়ব নামের দু’সহোদর।

সর্বশেষ গতকাল রাতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির নেতৃত্বে ওই দু’ব্যক্তিসহ শতাধিক সন্ত্রাসী চিংড়িঘেরটি দখল নিতে ১ম দফায় রাত ৯টায় গুলিবর্ষন ব্যাপক ভীতি সৃষ্টি করে দখল করে নেয়। পরে রাত ২টার দিকে দখলদার আবু ছৈয়দ এর পক্ষের লোকজন একজোড় হয়ে তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে পূন:দখল করে নেয় চিংড়িঘেরটি। সর্বশেষ ভোর রাতে আবারো জাহাঙ্গীর ও তৈয়ব এর লোকজন চিংড়িঘেরটি দখল করে নেয়।

স্থানীয়দের সর্বশেষ তথ্য মতে এ চিংড়িঘেরটি দখল বেদখল নিয়ে আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় রয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সাবেক এমইউপি তৈয়বের মুঠোফোনে (০১৮১২৬৮৭৪১৪) যোগাযোগ করা হলে এক মহিলা মোবাইল রিসিভ করে আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, মোবাইল চার্জ করার জন্য আমার বাড়িতে রেখে গেছেন।

পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মুহাম্মদ মুস্তাফিজ ভুইয়া আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, আমি খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে গেছি। তবে, গুলিবর্ষনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। কোন পক্ষের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।