ভার্চুয়াল কোর্টে দেওয়ানি মামলাও চলবে

অনলাইন ডেস্কঃ
ফৌজদারি মামলার পর এবার নিম্ন আদালতে দেওয়ানি মামলার কার্যক্রমও ভার্চুয়াল কোর্টে চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

এ সিদ্ধান্তের ফলে নতুন দেওয়ানি মামলা ও পুরনো মামলায় আপিল দাখিল করার সুযোগ তৈরি হল।

সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক দূরত্বের নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতের সেরেস্তায় নতুন মামলা ও আপিল দাখিল করতে হবে। মামলা ও আপিল দাখিল বা গ্রহণের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট আদালত ঠিক করে নেবে। তবে শুনানি হবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে।

পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার বিচার কাজ আগের মতই চলবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এভাবে চলবে ভার্চুয়াল দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত চলবে বলে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো.আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এর আগে ভার্চুয়াল কোর্টে ফৌজদারি মামলা এবং চেক ডিজঅনার মামলা পরিচালনার বিষয়ে গত ১৫ জুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

দেওয়ানি মামলা পরিচালনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সাথে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে অধস্তন দেওয়ানি আদালতের সংশ্লিষ্ট সেরেস্তায় মোকদ্দমা ও আপিল দায়ের করা যাবে।”

সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতকে নিজ নিজ সেরেস্তায় শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করার জন্য মোকাদ্দমা ও আপিল দায়ের বা গ্রহণের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলো ‘অতি জরুরি’ বিষয়গুলো ছাড়া শারীরিক উপস্থিতি এড়িয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে আবেদনের নিষ্পত্তি করবে।

তবে এটা যে মহামারীর মধ্যে একটা সাময়িক ব্যবস্থা, সে কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া মাত্র পূর্ব প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রেক্ষাপটে সাধারণ ছুটির মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের ৮৮ জন বিচারপতিকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রথমবারের মত ফুলকোর্ট সভা করেন।

ওই সভায় ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নিতে সুপ্রিম কোর্টের রুলস কমিটি পুনর্গঠন এবং আইনগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

পরে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর দুইদিন পর ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

পরদিন অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন শুনানির নির্দেশনা আসে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে। সেজন্য তিনটি ‘বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ও জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।

বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনায় আপিল বিভাগ পরিচালনার জন্য্ ১৩ দফা, হাই কোর্ট পরিচালনার জন্য ১৫ দফা ও অধস্তন আদালত পরিচালনার জন্য ২১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর ১১ মে বিচার বিভাগের ইতিহাসে অধস্তন আদালতে প্রথম ভার্চুয়াল শুনানি হয়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ