শহরে প্রথমা’র বইমেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

এম.এ আজিজ রাসেল:
শহরের পাবলিক হল মিলনায়তনে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে প্রথম আলোর ‘প্রথমা’ প্রকাশনের ছয়দিন ব্যাপী বই মেলা। বিকেল চারটায় মেলার উদ্বোধন করেন, অনুষ্টানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও অপশক্তি দূর করতে হলে প্রকৃত শিক্ষার প্রয়োজন। এ জন্য বেশি বেশি বই পড়তে হবে। সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে বই পড়ার বিকল্প নেই।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন আরও বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মানুষের মনের খোরাক জোগাতে প্রথমা’র বই মেলা ভুমিকা রাখবে। তিনি জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বই মেলা ঘুরে ভালো ভালো লেখকের বই সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ফজলুল করিম চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) কাজী আবদুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, প্রথম আলো কক্সবাজার আঞ্চলিক অফিস প্রধান সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা, প্রথমা প্রকাশনীর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন, কবি শামীম আকতার, বন্ধুসভা জেলা শাখার সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান। অনুষ্টান সঞ্চালনা করেন-বন্ধুসভা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল।

সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা বলেন, প্রথম আলো যা কিছু ভালো তার সঙ্গে থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত উৎসব, ভাষা উৎসব, ইন্টারনেট উৎসব, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জিপিএ-৫ কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধণাসহ নানা সমাজিক কাজ করে আসছে। পাশাপাশি প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্টান প্রথমার উদ্যোগে কক্সবাজারে প্রথম বারের মত এই বইমেলার আয়োজন। ভবিষ্যতেও এই মেলা অব্যাহত রাখা হবে।

অধ্যক্ষ ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ ও মেধা বিকাশে প্রথম আলো বিভিন্ন কর্মসুচি দিয়ে আসছে। এ জনপদে প্রথমা’র বই মেলা দিয়ে আরও একটি ভালো কাজে আমাদের সম্পৃক্ত করেছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাঠ্য বই ছাড়াও বাহ্যিক বইয়ের গুরুত্ব অনেক। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে বই কিনে নিজেকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) কাজী আবদুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে বই মেলা কম হয়। এক্ষেত্রে প্রথমা’র এই বই মেলা ভুমিকা রাখবে। বই ছাড়া মানুষ অচল। বই মনের খোরাক জোগায়। তাই বই পড়তে হবে।

কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের বলেন, মানুষের জীবনে তিনটি জিনিষ খুব প্রয়োজন। আর তা হচ্ছে বই, বই আর বই। সম্প্রতি বই পড়ার হার কমছে। সেটা ফেসবুকসহ নানা কারণে। তাই ভার্চুয়াল জগতেও আমাদের বই পড়তে হবে।

পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্টানের জন্য ৪০ হাজার টাকার বই কেনার ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রথম আলো সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অনেক কিছু করছে। তারমধ্যে প্রথমার বইমেলা অন্যতম।
মেলা উদ্বোধনের পর পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে

শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় জমান। শহরের বদরমোকাম এলাকার গৃহবধু তফরিদা খানম ৬ হাজার ১৭০ টাকায় ২৭টি বই কিনেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বই জ্ঞানের সাগর। ঘরের ছোট লাইব্রেরিটি সম্মৃদ্ধ করতে প্রতি বছর বই কেনা লাগে। তাছাড়া প্রথমার বইতো অন্যরকম।

বিকাল পাঁচটার দিকে ৮০ কিলোমিটার দুর থেকে বই কিনতে আসেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফুর রশিদ খাঁন। তিনি সাড়ে সাত হাজার টাকার ৩৩টি দেশিবিদেশি বই কিনে ফিরে গেলেন পেকুয়ায়।

ইউএনও মারুফুর রশিদ খাঁন জানান, ছোট বেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস। অবসরে বই না হলে চলেনা। তাছাড়া প্রথমা প্রকাশনের মেলা অন্যরকম। তাই বই কিনতে মেলায় ছুটে এলাম।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইউছুফ নূর হেলালী জানায়, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী আমার খুব প্রিয়। ‘তিমি’ নামে একটি বই কিনেছি। কাল মা’সহ এসে আরও বই কিনব।
প্রথমবারের মত কক্সবাজারে আয়োজিত এই বইমেলায় প্রথমা প্রকাশনের বই ছাড়াও দেশি-বিদেশি বিখ্যাত লেখকদের বই রাখা হবে। মেলা চলবে ৭ আগস্ট রাত আটটা পর্যন্ত।

আয়োজকেরা জানায়, মেলা থেকে প্রথমার বই কিনলে ৩০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। অন্যান্য প্রকাশনীর বই কিনলে ছাড় থাকবে ২৫%। বিদেশি বইতেও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্টানের পাঠাগারের জন্য এই মেলা থেকে বই সরবরাহ করা যাবে। বাইমেলা আয়োজনে সহযোগিতা দিচ্ছে প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।