আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা কেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল?

স্বদেশ রায়ঃ
শিরোনামে আওয়ামী লীগ লিখলেও বা এখন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ধরা হয় তারপরেও সত্য, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন দলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ (জনগণের বা সাধারণের মুসলিম লীগ) হিসেবে। উর্দু শব্দ ‘আওয়াম’ অর্থ সাধারণ মানুষ বা জনগণ। ‘আওয়াম’ থেকেই আওয়ামী অর্থাৎ সাধারণের। তাই স্বাভাবিকই দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম থেকেই বোঝা যায়, সাধারণ মুসলিমদের একটি দল সেদিন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

এখন প্রশ্ন আসে মুসলিম লীগ তো সকল মুসলিমের, সেখানে আবার সাধারণ মুসলিমদের জন্যে একটি দল কেন? খুব মোটা দাগে যদি দেখা যায় তাহলে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হবার কিছুদিন পর থেকেই মুসলিম লীগের সদস্যপদ সাধারণ মুসলিমদের জন্যে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওই সদস্যপদ পাওয়া অনেকটা কয়েকজন ব্যক্তির পছন্দ বা অপছন্দের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। কেউ কেউ বলেছেন, ওই সময়ে খাজা নাজিমউদ্দিন, মাওলানা আকরাম খাঁসহ কয়েক নেতা তৎকালীন মুসলিম লীগকে কুক্ষিগত করার জন্যে মুসলিম লীগের সদস্যপদ দেওয়া সীমিত করে ফেলেন- যা সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি করে। অন্যদিকে চরমপত্র খ্যাত, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক এম আর আখতার মুকুল বিষয়টি নিয়ে মোটেই রাখঢাক করেননি। তিনি সরাসরি এখানে তৎকালীন মুসলীম লীগের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা আকরাম খাঁকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি তার বহু লেখায় লিখেছেন, পাকিস্তান সৃষ্ঠির পরপরই পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ মাওলানা আকরাম খাঁর ‘পকেট লীগে’ পরিণত হয়। সাংবাদিক, লেখক ও সমাজবিজ্ঞানী আবু জাফর শামসুদ্দিনের লেখায়ও বলা হয়েছে, মাওলানার পছন্দসই ব্যক্তিরা ছাড়া সেদিন মুসলিম লীগের সদস্য পদ পাচ্ছিলেন না কেউ।

এর থেকে কি ধরে নেয়া যায়, সাধারণ মুসলিমরা সেদিন মুসলিম লীগের সদস্য হতে পারছিলেন না; মুসলিম লীগ মৌলনা আকরাম খাঁর মত কতিপয় উচ্চ মধ্যবিত্ত নেতার হাতে বন্দী হয়ে পড়েছিল বলে আওয়ামী মুসলিম লীগ বা সাধারণের মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়। আপাত দৃষ্টিতে এমনটি মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে আওয়ামী মুসলিম লীগ সৃষ্ঠির আগে ও পরের তৎকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস, ওই সময়ের সামাজিক বাস্তবতা, সর্বোপরি আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগের সৃষ্টি আর তার পথচলা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলে এ ক্ষেত্রে চিন্তার রাজ্যে ভিন্নমাত্রা দেয়। মোটা দাগে কোনো সিদ্ধান্ত নেবার এখানে সুযোগ নেই। শুধু যদি কয়েক নেতা মুসলিম লীগকে কুক্ষিগত করেছিলেন এটাই মূল কারণ হতো তাহলে সেখানে নতুন দল প্রতিষ্ঠার কোনো প্রয়োজন হতো না বা তরুণ নেতৃত্ব সেদিকে যেত না। সেখানে ঘটতো দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন বা পরিবর্তনের চেষ্টা। কিন্তু তার বদলে এখানে দেখা যায় সম্পূর্ণ একটি নতুন দল সৃষ্ঠি হয় এবং যে দলের নেতাদের উদ্দেশ্য, চিন্তা ভাবনা ও মেজাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই স্বাভাবিকই এখানে কারণ খোঁজার প্রয়োজনীয়তা আছে কেন সেদিন অনিবার্য হলো আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার এবং প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগ কতখানি জনগণের দল অর্থাৎ আওয়ামী লীগ?

আওয়ামী মুসলিম লীগ যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ এর প্রতিষ্ঠার অনিবার্যতা খুঁজতে গেলে প্রথমেই চিন্তা করে দেখার প্রয়োজন ১৯৪৬-এর দাঙ্গা সামগ্রিক বাঙালির মনোজগতে যে পরিবর্তন ঘটায়- সে বিষয়টি। ১৯৪৬ এর দাঙ্গার আগে ভারতবর্ষে বা বেঙ্গলে সাম্প্রদায়িকতা ছিল না তা নয়। একটা সাধারণ মানের সাম্প্রদায়িকতা ছিল, যা অনেকখানি আচার আচরণের ভেতর সীমাবদ্ধ ছিল। সেটা রাজনীতিকে খুব বেশি প্রভাবিত করত না। অন্যদিকে, যেটা বলা হয় মুসলিম সমাজ পিছিয়ে পড়েছিল সেটাও সার্বিক অর্থে সঠিক নয়। ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ থেকে সরে আসার কারণে কিছুটা ঘটেছিল ঠিকই, তবে নিম্নবর্গীয় এমনকি উচ্চবর্ণের হিন্দু যারা দরিদ্র ছিল তারাও প্রায় সমানহারে দরিদ্র মুসলিমদের মতই পিছিয়ে ছিল। মূলত প্রায় দুইশো বছরের ইংরেজ শাসনে ভারতের অর্থনীতি একেবারে দুর্বল হয়ে যাওয়াতেই- তার একটি সামগ্রিক প্রভাব পড়েছিল গোটা ভারতবর্ষে। ভারতের প্রায় সব প্রদেশেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি বিপুল দরিদ্র বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সৃষ্টি হয়। এ মুহূর্তে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে যাদেরকে আদার ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস (ওবিসি) বলা হচ্ছে এই শ্রেণির অবস্থা বেঙ্গলের দরিদ্র হিন্দু ও মুসলিমের থেকে তখন আরো খারাপ ছিল। তবে এটা ঠিক ১৯৪৩ ও ৪৪ এর দুর্ভিক্ষ তৎকালীন বেঙ্গলের মানুষের অর্থনীতি একেবারে শেষ করে দেয়। পূর্ববাংলা যেহেতু মুসলিম প্রধান ছিল তাই স্বাভাবিকই এখানে দরিদ্রের দিক থেকে মুসলিমরাই সংখ্যাধিক্য হয়ে পড়ে। আর দুর্ভিক্ষের শিকার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে হয়েছিল। তাই আজ মনে হয় সত্য কারণ খোঁজার জন্যে, শুধুমাত্র হিন্দু-মুসলিম ঝগড়াই পাকিস্তান সৃষ্টির কারণ এই মিথ থেকে বের হয়ে আসার জন্যে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে ১৯৪৬ এর দাঙ্গা ও ১৯৪৩-৪৪ এর দুর্ভিক্ষের প্রভাবটি গবেষণা করে দেখার প্রয়োজনীয়তা আছে। তাহলে পূর্ববাংলার শিক্ষিত তরুণ মুসলিম মানসের পরিবর্তন ও গঠন সম্পর্কেও সঠিক কারণ পাওয়া যাবে। সর্বোপরি রয়েছে বৃটিশ প্রবর্তিত হিন্দু ও মুসলিমদের আলাদা ভোট দেয়ার নিয়ম। এবং ভারতীয় নেতাদের সেটা মেনে নেয়া। অন্যদিকে ১৯৪৩-৪৪ এর দুর্ভিক্ষের কারণে কোলকাতার চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের কৃষি নির্ভর মানুষের দূরত্ব বেড়ে যাওয়া।

এছাড়াও, পাকিস্তান ও ভারত সৃষ্টি হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ হবার দুই বছর পরে। ওই সময়ে পৃথিবী জুড়ে তরুণ মানসিকতায় আরেকটি পরিবর্তন এসেছিল, সেটা উদারনৈতিকতা। যে উদারনৈতিকতার ধাক্কায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনকে বিজয়ী করার নায়ক চার্চিলও যুদ্ধোত্তর নির্বাচনে তার তুলনায় দুর্বল নেতৃত্বের কাছে পরাজিত হন। পূর্ববাংলার মুসলিম লীগের শিক্ষিত তরুণ মুসলিম মানসের একাংশও ওই সময়ে গোটা পৃথিবীর উদারনৈতিকতার বাইরে থাকেনি। বরং মুসলিম লীগের তরুণ মুসলিম মানসের একাংশ অনেক বেশি উদার হন দুটি কারণে: এক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর এই উদারনৈতিকতার ছাপ অন্যদিকে তাদেরই সমবয়সী একটি শ্রেণি কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টিতে অবস্থান করেও নিজেদেরকে অনেক বেশি উদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কংগ্রেসে কট্টরপন্থী বল্লভভাই প্যাটেলদের নেতৃত্ব বেশি অংশ জুড়ে থাকলেও নেহেরু, মাওলানা আজাদসহ অনেকে একটি উদার স্থান ধরে রাখেন। যার ফলে কংগ্রেসের ভেতর থেকেও অনেক তরুণ উদার রাজনীতি করার সুযোগ বা নিজেকে একজন উদারনৈতিক হিসেবে তৈরি করার সুযোগ পায়। অন্যদিকে কমিউনিস্টরা ভারত বা পাকিস্তান সৃষ্টির পরে অনেকটা অতিবিপ্লবী পথ নিলেও অনেক কমিউিনিস্ট কর্মী নিজেকে উদারনৈতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। মুসলিম লীগের একটি তরুণ শ্রেণি কিছুটা হলেও তখন ওই বামপন্থার দিকে ঝুঁকে যায়। মুসলিম লীগের তরুণ শ্রেণিটি তাই অতি দ্রুত নিজেদেরকে উদার রাজনীতির একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর পাশাপাশি একটি বড় ভূমিকা রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই একটি উদার মুসলিম তরুণ মানস তৈরি হয়।

মুসলিম লীগের ভেতরে থাকা এই উদার তরুণ শ্রেণি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা উদার মুসলিম তরুণদের মূলত মিলন ঘটে ১৯৪৭ এর ১৪ অগাস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হবার পরে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে সকলে প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় আসতে শুরু করেন। এ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মুসলিম লীগের কর্মী ক্যাম্প ১৫০ মোগলটুলি, জগন্নাথ কলেজসহ বেশ কিছু স্থানে এই তরুণদের মিলন হতে থাকে। এর পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ভাষা করার যুক্তিটি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদার তরুণ মানসে বেশ স্থান পায়। আর যে কারণে তরুণরা প্রতিবাদী হয় বা নতুন কিছু খুঁজতে থাকে তা কিছুটা হলেও সে সময়ে মুসলিম লীগ ঘটাতে থাকে। অর্থাৎ মুসলিম লীগের তরুণ গুন্ডারা কারণে অকারণে এই প্রগতিশীর তরুণদের হেনস্তা করতে থাকে। এমনকি অল্প কিছুদিন পর থেকে তারা ১৫০ মোগলটুলিতে অবস্থান নেওয়া মুসলিম লীগের প্রগতিশীল তরুণকর্মীদেরকে বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করে মুসলিম লীগের পান্ডারা। তাদের অনেককে তারা কমিউনিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে। এমনকি ১৫০ মোগলটুলির অনেক কর্মী নানানভাবে হেনস্তাও হন পুরানো ঢাকার ওই সব মুসলিম লীগ পান্ডাদের দ্বারা।

অন্যদিকে মুসলিম লীগের রাজনীতির কেন্দ্র থেকে তখন কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। তাছাড়া কলকাতা ও বিহারের দাঙ্গার পর থেকে সোহরাওয়ার্দী মুসলিম লীগের রাজনীতির থেকে অনেক বেশি নিজেকে জড়িত করেন মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে মিলে একটি সাম্প্রদায়িক ঐক্যের রাজনীতিতে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান ও ভারত ভাগ হবার আগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পূর্ববাংলাকে আলাদা করে পাকিস্তানের অর্ন্তভুক্ত করার হাত থেকে বাঁচানোর একটা চেষ্টা করেন। বৃহত্তর বাঙালি জাতি গোষ্ঠীর স্বার্থে মুসলিম লীগের তৎকালীন জেনারেল সেক্রেটারি আবুল হাশিম, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা যুক্তবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী শামসুদ্দিন আহমদ, কংগ্রেস নেতা শরৎ বোস প্রমুখ মিলে গ্রেটার বেঙ্গল সৃষ্টির উদ্যোগ নেন। বাংলা ও বর্তমানের ত্রিপুরা, আসাম ও বিহারের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে গ্রেটার বেঙ্গলের ফর্মুলা নিয়ে কাজ করেন। এই গ্রেটার বেঙ্গল কট্টর হিন্দুত্ববাদী কংগ্রেস নেতা, হিন্দু মহাসভা নেতা ও কট্টর মুসলিম লীগ নেতাদের বিরোধিতার মুখে হারিয়ে যায়। কিন্তু এর ফলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে থাকা শেখ মুজিবের মতো তরুণ নেতাদের মানসিকতায় আরো পরিবর্তন আনে। যা তাদের মতো যুব বা তরুণ নেতাদের মুসলিম লীগ থেকে দূরে নিয়ে আসে। শেখ মুজিবুর রহমানের এই মানসিকতার প্রকাশ বা এ পথে তার নেতৃত্ব দেওয়ার শুরুটা তাই পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখনই তিনি ঢাকায় আসেন তখন থেকেই প্রকাশ পেতে থাকে।

তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় এসে ১৫০ মোগলটুলিতেই ওঠেন। ১৫০ মোগলটুলির সার্বক্ষণিক কর্মী বাহাউদ্দিন চৌধুরী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ১৫০ এর মোগলটুলির সেইসব দিনের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ‘মুসলিম লীগের ভেতর যারা প্রগতিশীল ও আমার (বাহাউদ্দিন চৌধুরি) মতো যারা বাম ঘেষা ছিলেন তারা মুজিব ভাইকে দ্রুতই নেতা হিসেবে মেনে নেন। এমনকি তরুণ বা যুব নেতার কোঠায় পা দেয়া শেখ মুজিবুর রহমান দ্রুত সমর্থন পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রগতিশীল মুসলিম তরুণদের।’ এ সময়ে সেপ্টেম্বর মাসে অর্থাৎ ১৯৪৭ এর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক যুবকর্মীদের যে সম্মেলন হয় এই সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ যেমন হন শেখ মুজিবুর রহমান তেমনি সেখানেও দেখা যায়, প্রগতিশীল মুসলিম যুব মানস একটা নতুন পৃথিবী খুঁজছে। তারা ঠিক মুসলিম লীগের ভূগোলে নিজেরদেরকে আবদ্ধ রাখতে পারছে না। বাস্তবে পূর্ববাংলার মুসলিম সমাজ ও তরুণ যুব মানসের এই পরিবর্তনই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলীম লীগ প্রতিষ্ঠাকে অনিবার্য করে তোলে।

স্বদেশ রায়, সাংবাদিক।

সূত্রঃ বিডিনিউজ