ঘুমধুম রেজু গর্জনবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা খুশি হলেও শিক্ষকদের মন ভাল নেই !

আব্দুল হামিদ, বাইশারী:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী জনপদে অবস্থিত ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু গর্জনবনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকার পর গত কিছুদিন আগে নতুন ভবন পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা খুশি হলেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মন ভাল নেই।

দীর্ঘ ২৪ বছর আগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২য় ধাপে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আওতায় পড়ে সরকারি হিসেবে তালিকাভূক্ত হয়। দীর্ঘকাল যাবৎ বিনা বেতনে শিক্ষকেরা পাঠদান করার পর জাতীয়করণের আওতায় এসেও শিক্ষকদের মনে শান্তি নেই। রয়েছে নানা ধরণের জটিলতা।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপেন্দ্র লাল তংচংগ্যা কারবারী আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, জাতীয়করণের সময় কর্মরত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে দুইজন বহিরাগত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় এখনো পর্যন্ত জটিলতা কাটছে না। তাই শিক্ষকদের মন ভাল নেই।

উক্ত ঘটনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা ভবন ঢাকা থেকে গত ২৯ শে জুলাই ২০১৬ খ্রিঃ স্বারক নং- ৩৮.২৩৫.০০১.০৩.০১.০০০.২০১৬-৫৭. জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বান্দরবান পার্বত্য জেলা। স্বারক নং- জেপ্রাশিত অ/বা-বান ২৪২/১১/৯১ (২) তারিখ ১৮.০৮.২০১৫ খ্রিঃ ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ স্বারক নং- ২৯.২৩৫.০০১.৩৩.০০.০৮.২০১৫-৪১৯ তারিখ ১২.০২.২০১৫ খ্রিঃ তদন্ত টিম গঠনের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট তালিকায় অন্তর্ভূক্তি ও বহিরাগতদের নাম শিক্ষক হিসেবে তালিকাভূক্ত করণের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক পরিষদকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ নিয়ে ১ আগষ্ট সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাইক্ষ্যংছড়ি সফর করেন বলে সভাপতি উপেন্দ্র লাল কারবারী জানান।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ ছৈয়দ হামজা আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, তিনিও এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিব স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পেয়েছেন। যাহা বর্তমানে তদন্ত চলছে। তাছাড়া তিনি অন্য কিছু বলতে রাজী নন।

সরজমিনে ঘুরে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালনা কমিটির সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান শিক্ষকেরা অক্লান্ত পরিশ্রম ও দক্ষতার সহিত পাঠদানের কারণে বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে গেল বছরও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া পাহাড়ী বাঙ্গালীদের জন্য এ বিদ্যালয়টি অতীব গুরুত্ব বহন করে। কারণ উক্ত বিদ্যালয় থেকে অসহায় গরীব দুঃখী ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করে উচ্চ শিক্ষায় আজ শিক্ষিত হচ্ছেন। তাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বহিরাগত শিক্ষক নিয়োগকারীর শাস্তি দাবি ও প্রকৃত শিক্ষকদের জাতীয়করণে অন্তর্ভূক্তি করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।