সাজেকের পাহাড় চূড়ায় মেঘের ভেলায় একদিন

মীর আসলাম:

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দুরের মেঘের দেশ সাজেক। যেখানে হালল্কা ঘন মেঘের ভেলায় ভাসতে পারে যে কেউ সহজেই। জেলা সদর থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি সাজেক যেতে হয় পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে। তবে যাওয়া আসায় সাহায্য নিতে হয় সেনাবাহিনীর।

দেশ বিদেশে ভ্রমণ পিপাসুদের অনেকেই বলেন সাজেক বাংলাদেশের দার্জিলিং। এই পর্যটন এলাকায় ভ্রমন গেলে বোঝা যাবে সাজেক নেপালের দার্জিলিং থেকে সৌন্দর্য্যের দিক থেকে কোনো অংশে কম নয়। সম্ভবত ওই এলাকার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় সাজেক পর্যটন কেন্দ্রটি সাজানো হয়েছে। সেখানে দাঁড়ালে মনে হয় দেশের সর্ব্বোচ্চ পাহড়ের চূড়ায় আরোহণ উপড়ে হাত বাড়িয়ে আকাশ ছোঁয়া যাবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি সাজেক ভ্রমণে একদিন রাউজান থেকে আমরা দশজন ভোর সকালে সাজেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছিলাম রাঙ্গামাটি সড়ক হয়ে মানিকছড়ি পাহাড়ি পথে হাইস মাইক্রো নিয়ে। সকাল দশটার দিকে আমরা পৌঁছি খাগড়াছড়ি। সেখান থেকে আমাদের যাত্রা মেঘের দেশ সাজেক এর উদ্দেশ্যে। যাওয়ার পথে প্রথম বাধা পড়ে বাঘাইহাটের সেনা ক্যাম্পের সামনে।

এখানে এসে জানা যায় সাজেক যেতে হলে সেনাবাহিনীর পাহারায় যেতে হয়। প্রতিদিন পর্যটকরা সকাল সাড়ে ১০টায় এখানে সমবেত হলে তাদের যাওয়া আসায় দেয়া হয় নিরাপত্তা। জানা যায়, আমরা বাঘাইহাট পৌঁছার আগেই পর্যটকদের নিয়ে চলে গেছে সেনা দলটি। আমরা সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বার বার অনুরোধ জানাচ্ছিলাম সাজেক যাওয়ার অনুমতি প্রদানের। তিনি বার বারই নিরাপত্তার বিষয়টি জানিয়ে আমাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে যান। পরে আমাদের আগ্রহের বিষয়টি সেখানকার সেনা সদরের এক কর্মকর্তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেয়। তিনি সেনা বাহিনীর একটি বিশেষ টহল টিমের সাথে আমাদেরকে সাজেক যেতে সহায়তা প্রদান করেন। আমাদের এই যাত্রায় বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশে কর্মরত উপপরিদর্শক মোহাম্মদ সাজ্জাদ। যিনি রাউজানের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান এবং আমাদের সকলেই প্রিয়ভাজন ব্যক্তিত্ব।

আমরা সাজেক পৌঁছি দুপুর সাড়ে বারটার দিকে। তখন সেখানে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। গাড়ি থেকে নেমে আমরা দাঁড়ানোর মত আশ্রয় খুঁজছিলাম। গিয়ে উঠলাম পর্যটন কেন্দ্রের সেনা বাহিনী পরিচালিত রক প্রশান্তি ক্যান্টান নামে একটি রেঁস্তোরায়। সেখানে আশ্রয় নিয়ে কিছু খেতে চেয়ে বঞ্চিত হলাম। বলা হলো সব শেষ। আগে থেকে অডার দিলে তৈরি করে রাখা হয় খাবার। এখানে ক্ষুধার্ত শরীরে কিছুক্ষণ আশ্রয়ে থাকার পর আমরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগে বেরিয়ে গেলাম পাহাড় চূড়ায়। সেখানে উপভোগ করলাম এক স্বর্গীয় অনুভূতি। আমাদের সকলের শরীর বুলিয়ে শীতল মেঘের ভেলা চলে যাচ্ছে নিজেদের গন্তব্যে। আমরাও ভাসছিলাম মেঘের ভেলায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে।

আমরা যারা পর্যটক ছিলাম তাদের মধ্যে স..জাফর উল্লাহ, কামরুল ইসলাম বাবু, রাজনীতিক জাহাঙ্গীর আলম সুমন, প্রকৌশলী পলাশ বড়ুয়া, সাংবাদিক প্রদীপ শীল, ব্যবসায়ী তপন দে, লেখক আমীর হামজা,এস এম মুজিব আকাশের মেঘের ভেলায় ভাসতে ভাসতে নিজেদের ডিজিটাল ক্যামরায় ছবি উঠাচ্ছিলাম প্রকৃতির লীলার।

বিকাল তিনটায় আমরা পর্যটন কেন্দ্রের কিছুটা বাইরে এসে ক্ষুধা নিবারন করি একটি উপজাতীয় ভোজনশালায় বিশেষ রান্নার অর্ডার দিয়ে। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সেনা বাহিনীর ডাক পড়ে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে আমরা সেই ডাকে সাড়া দিয়ে নির্ধারিত গাড়িতে উঠে অন্যদের সাথে সেনা পাহারায় ফিরে আসি আবার খাগড়াছড়িতে। আমাদের জন্য এখানে অপেক্ষায় ছিলেন আমাদের সেই আপনজন রাউজানের সাজ্জাদ ভাই। তিনি আমাদেরকে আবারও আদর আপ্যায়ন বিদায় দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here