ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সচলের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্কঃ
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সচলের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রতিমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে সারারাত দেশের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বিস্তৃর্ণ উপকূলীয় এলাকা।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল), বি আর পাওয়ারজেন কোম্পানি (বিআরপিজিসি), আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এএসপিসিএল), ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি), নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিওপিজিসিএল), কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল), বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) ও পাওয়ার সেলের সঙ্গে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে পর্যালোচনা সভায় বসেন।

নসরুল হামিদ বলেন, আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা নিন। উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালনের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করুন। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিন।

সভার প্রথমেই বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো), নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি ও দ্রুত বিদ্যুতায়ন নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যে সমস্যাই হোক না কেন অতিদ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করুণ। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনে জেনারেটর সরবরাহ করে বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নিন। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়।

আলোচনাকালে সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম ও চলমান প্রকল্পের অবস্থা তুলে ধরেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাপান মাতারবাড়ীতে তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট করার অনুমোদন দিয়েছে। উন্নয়নের গতি চলমান রাখতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে আপোষ করা যাবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা সংক্রান্ত গাইড লাইন ও নির্দেশিকা অনুসরণ করে কাজ করবে।

ভার্চুয়াল এ সভায় অন্যান্যের মাঝে বিদ্যুৎ সচিব সুলতান আহমেদ, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া ও কোম্পানিসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে,আম্ফানের কারণে দেশের দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরের ২৫ জেলার ১ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক ঝড়ের আগেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এসব জেলার বেশির ভাগ স্থানে ঝড় শুরু হওয়ার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো। আর ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় এসব স্থানে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এখন সারা দেশে এক কোটির বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন।

এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকার কোথাও কোথাও মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নেটওয়ার্ক দুর্বল।

বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর ও বগুড়াতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরইবি। এসব অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানের বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার আগে স্বাভাবিক হবে, তবে কিছু এলাকায় কালকেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

এর মধ্যে অন্যতম হলো কুষ্টিয়া। সেখানে একটি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। এটি ঠিক করতে সময় লাগবে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে প্রকৌশলী কুষ্টিয়ায় চলে গেছেন মেরামত করতে।

সূত্রঃ জাগোনিউজ