অবশেষে রোহিঙ্গা শিবিরেও করোনার হানা

অনলাইন ডেস্কঃ
সারাদেশে সংক্রমণের পর অবশেষে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী ধরা পড়েছে।

“আমরা আজ দুজনের রিপোর্ট পজেটিভ পেলাম। এ দুইজনকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

সেই সঙ্গে তাদের পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।

তিনি জানান, আক্রান্তদের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আইসোলেশন সেন্টার ও এমএমএফ হসপিটালে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরে আছে। এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটার পর গত ১১ মার্চ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প অবরুদ্ধ করা হলেও তার মধ্যেই সংক্রমণ ঘটল।

রোহিঙ্গা শিবিরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দিয়ে উদ্বেগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

মাহবুব তালুকদার বলেন, “সংক্রমণ প্রতিরোধে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কঠোর উদ্যোগের কারণে ১০ লাখ লোকের মধ্যে এই প্রথম মাত্র দুজন শনাক্ত হল।

“কমিশন তো সব সময় সতর্কতা অবলম্বন করছে, কীভাবে, কোথা থেকে তা বলা মুশকিল।”

এদিকে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কুতুপালংয়ে একজন রোহিঙ্গাই কোভিড-৯ আক্রান্ত হয়েছেন।

“কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের আলাদা করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংও আমরা নিশ্চিত করছি। তাদেরও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরেকজন রোহিঙ্গা নন বলে ইউএনওর দাবি।

“রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের কাছে আরও একজন ব্যক্তির মাঝেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে সে রোহিঙ্গা নয়।”

তবে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, কক্সবাজারে নতুন করে ১২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার দুজন রোহিঙ্গা।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক পুরো জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করে দুই মাস আগেই। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পও এই ঘোষণার আওতায় পড়েছে।

সিভিল সার্জন জানান, গত ৪৩ দিনে মোট তিন হাজার ৩৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে। তার মধ্যে ১৪৫ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ