সংক্রমণের বাকি শুধু রাঙামাটি

অনলাইন ডেস্কঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় করেনা শনাক্ত ও মৃত্যু কমেছে। তবে এই সময়ে নতুন করে আরও দুই জেলায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একজন ও উত্তরের জেলা নাটোরে ৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশের ৬৩ জেলায় এই ভাইরাসটির বিস্তার ঘটল। একমাত্র রাঙামাটি জেলায় এখনও সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৫৬৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে সাত হাজার ৬৬৭ জনে পৌঁছাল। একইসঙ্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে। হাসপাতালে থাকা আরও ১০ জন সুস্থ হয়ে ওঠায় এ পর্যন্ত মোট ১৬০ জন সুস্থ হয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দু’জন নারী। তাদের দু’জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং তিনজনের ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬২৬টি। পরীক্ষা করা হয়েছে চার হাজার ৯৬৫টি। নমুনা সংগ্রহ বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও ঢাকার এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার তথ্য গতকাল তালিকায় সংযোজিত হয়েছে। যে তিনটি বেসরকারি হাসপাতালকে নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে শুধু এভারকেয়ারের রিপোর্ট গতকাল এসেছে। স্কয়ার ও ইউনাইটেড হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ শুরু হলেও এখনও রিপোর্ট আসেনি।

রোগী ভর্তির তথ্য তুলে ধরে ডা. নাসিমা বলেন, রাজধানীতে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য নির্ধারিত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৯৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৫৬ জন। তিনি বলেন, রাজধানীর যেসব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে সেগুলো হলো- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মহানগর হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল ঢাকা, রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরা, রিজেন্ট হাসপাতাল মিরপুর, সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ও লালকুঠি হাসপাতাল মিরপুর। তবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এখনও কোনো করোনা রোগী ভর্তি হয়নি।

আরও বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা পরীক্ষার অনুমোদন : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া শর্ত পূরণ করতে পারলে আরও বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা পরীক্ষার জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, দেশের আরও চারটি বেসরকারি হাসপাতাল করোনাভাইরাস পরীক্ষার অনুমতি চেয়েছে। এগুলো হলো- রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকার তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রেফায়েতউল্লাহ হাসপাতাল। পিসিআর পরীক্ষার শর্ত মানলে তাদের দু-এক দিনের মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হবে।

ডা. নাসিমা বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাইরের রোগীরাও নমুনা পরীক্ষা করতে পারবেন। সেখানে টেস্টিং কিটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরকার থেকে দেওয়া হবে বলে রোগীদের পরীক্ষার কোনো খরচ লাগবে না।

নাসিমা সুলতানা আরও জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এখন এক লাখের বেশি পিসিআর পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। পিপিই মজুদ রয়েছে তিন লাখ ৩২ হাজার ৪৩৯টি। বৈশ্বিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে কিটের সংকট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব দেশে পিসিআর কিটের সংকট আছে। কাজেই কেউ একসঙ্গে অনেক বেশি কিট দিতে চায় না। ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পর্যন্ত কিট আনা যায়। আমরা সাধ্যমতো কিট কিনছি।

রমজানে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন- বাসি, ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বেশি বেশি পানি পান করুন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাবেন। এ সময় গরম পানির সঙ্গে মধু, আদা পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

সূত্রঃ সমকাল