জঙ্গি মোকাবেলার কমিটিতে থাকবেন সব দলের জনপ্রতিনিধি: আশরাফ

চলমান জঙ্গি তৎপরতার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে বৃহস্পতিবার একথা জানালেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ।

কয়েক বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় জেলায় জেলায় সন্ত্রাসবিরোধী এসব কমিটি করা হয়েছিল।

সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর ওই সব কমিটি সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কমিটিগুলোকে সচল করার তাগিদ দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কার্যঅধিবেশন শেষে মন্ত্রী আশরাফকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সন্ত্রাস ও নাশকতাবিরোধী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না?

জবাবে আশরাফ বলেন, “অবকোর্স করা হবে, অবকোর্স করা হবে।

“স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটিস, ইউনিয়ন পরিষদ- সবাই এর ভেতরে অন্তর্ভুক্ত হবে। এটা কোনো দলীয়, কোনো দলের কোনো অঙ্গ-সংগঠন হবে না।”

জাতীয় ঐক্যে বিএনপি-জমায়াতের প্রতিনিধিদের রাখা হবে কি না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা তো রাজনৈতিক প্লার্টফর্ম নয়, তাই ব্যাপারটা এখানে উল্লেখই না করলাম। নিশ্চয় কালকে বা পরশু দিন পাবেন, এ বিষয়টা আলোচনা হবে।”

সন্ত্রাসবিরোধী কমিটিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাইরে বিএনপি-জামায়াতের কাউকে রাখার সুযোগ আছে কি না- এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “এটা তো এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি যে রাজনৈতিক দল নিয়ে হবে, না প্রশাসন নিয়ে হবে, না কি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার দিয়ে করা হবে, না পৌরসভার মেয়র?

“এটার একটা নির্দেশনা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আছে- আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এসব কমিটিগুলো করার। প্রশাসনের ব্যাপারে যখন সিদ্ধান্ত হবে, উদ্যোগ নেওয়া হবে, তখন প্রশাসনিক আওতার ভেতরে কমিটিগুলো ভবিষ্যতে করা হবে।”

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছিলেন, জেলা সদর থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্য‌ন্ত গঠিত কমিটিগুলোকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে করতে ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

গুলশান-শোলাকিয়ার হামলার পর সন্ত্রাস ও নাশকতাবিরোধী কমিটি এবং কোর কমিটিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমও ইতোপূর্বে জানান।

২০১৩ সালে মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড ইউনিয়ন পর্যায়ে সন্ত্রাস ও নাশকতাবিরোধী কমিটি করে সরকার।

শফিউল জানিয়েছিলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা কোর কমিটিতে সভাপতিত্ব করেন। আর বিভাগ পর্যায়ে কিছু ঘটলে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে কোর কমিটির সভা হয়। সেখানে পুলিশের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডাকা হয়।

জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে কোর কমিটির সভায় পুলিশ সুপার (এসপি), আনসার, বিজিবির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা হয় বলেও জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী আশরাফ জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় তৃণমূল পর্যায়ে কাজের উপর জোর দিয়ে বলেন, “সব থেকে ইমপরটেন্ট স্থানীয়ভাবে তাদের (জঙ্গি) নিরস্ত্র করা অথবা তাদের গতিবিধি পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, এগুলো তৃণমূল পর্যায়েই সব চেয়ে বেস্ট…।”

বৈঠকে জেলা প্রশাসকরা বাসস্থান, পরিবহন, চালকদের বেতনসহ ছোটখাটো কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানান মন্ত্রী আশরাফ।

জেলা প্রশাসকদের কাজে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসিরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কি না- এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “এটা তো পুলিশ প্রশাসনের কাজ, তারা (ডিসি) জনমত তৈরি করতে লিডারশিপ দেয়, এটাও গুরুত্বপূর্ণ।”