ভোটের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে বলেছেন শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি বলেছেন, “সরকারের মেয়াদের আড়াই বছর চলে গেছে। আর ২ বছর ৩ মাস পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য এখন থেকেই সবাইকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হবে।”

মঙ্গলবার সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে ওই বৈঠক শেষে একাধিক সংসদ সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন, এর মধ্যে একজন ক্ষমতাসীন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।

ওই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি আগাম নির্বাচন দাবি করলেও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না।

চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যোকের নির্বাচনী এলাকায় যেসব উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে, তা শেষ করতে হবে। এছাড়া আমরা যেসব উন্নয়ন কাজ করেছি, সে বিষয়ে জনগণের কাছে প্রচার করতে হবে।”

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এলাকার জনগনকে সচেতন করার নির্দেশনা দেন বলেও জানান ওই সংসদ সদস্য।

সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হতে দলীয় সংসদ সদস্যদের আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা।

“তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আপনারা কোনো ধরনের চিন্তা করবেন না, আমরা এর আগেও অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান করেছি। এখনও করব,” বলেন ওই সংসদ সদস্য।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইসলামী ফাউন্ডেশনের জঙ্গিবাদবিরোধী নির্দেশনা ও এক লাখ আলেমের ফতোয়া অনুযায়ী জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা চালানোর জন্য এমপিদের নির্দেশ দেন। জুমার বয়ানে যেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া বয়ান ঠিকমতো পাঠ হয়, তাও দেখতে বলেন তিনি।

সন্ত্রাসবিরোধী যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলো সক্রিয় রাখতে সংসদ সদস্যদের নজর রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কমিটিতে সব স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেও বলেছেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দলের নারী এমপিদের এলাকায় গিয়ে ‘এলাকা তৈরি’ না করে নারীদের সংগঠিত করার নির্দেশ দেন।

সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের সরাসরি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন বলে এক সংসদ সদস্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহিলা সংসদ সদস্যদের এলাকা তৈরির দরকার নেই। আমি তাদের মনোনয়ন দেব না। আর কাকে মনোনয়ন দেব, কাকে দেব না, এটা আমি বুঝব।”

ওই সংসদ সদস্য বলেন, “বৈঠকে দুই জন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, মন্ত্রীদের আচরণ ভালো না। তারা সাংসদদের মূল্যায়ন করেন না। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি।”

আরেক সংসদ সদস্য বলেন, “পুলিশ দিয়ে জঙ্গি দমনের উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন একজন।তিনি বলেন, পুলিশে সবাই আমাদের লোক নন। পুলিশে বিএনপি-জামায়াতের লোক রয়েছে।

“তার কথায় প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তারা জীবন দিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম রোখার চেষ্টা করছে। তাই ব্যক্তিগত কেনো পছন্দ-অপছন্দের কারণে এভাবে বলা ঠিক নয়।”