প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ’র বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি: উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এ.এম হোবাইব সজীব:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকার ঘোষিত উপবৃত্তি টাকা প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ’ বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে গত ২৪ জুলাই রবিবার দৈনিক আমাদের কক্সবাজারসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশিত হলেও আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। জেলা-উপজেলার উপবৃত্তির মনিটরিং টিম সঠিক তদন্ত না করার কারণে ভেস্তে যাচ্ছে কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নায্য অধিকার উপবৃত্তির টাকা বিতরণে আত্মসাতের ঘটনাটি। অপরদিকে গুণধর প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ’র বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী

জানা গেছে, সোমবার জেলা শিক্ষা অফিসের একজন মনিটরিং অফিসার ( উপবৃত্তি) মোঃ জাহেদ সরেজমিন মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নে বিভিন্ন স্কুলে উপবৃত্তির টাকা প্রদানের অনিয়ম তদারকি করতে যান। পরির্দশন টিম ইউনিয়নের ঝাপুয়া সরদারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিজ্জির পাড়া ও নোনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেও সবচেয়ে যেখানে হাজার হাজার টাকা আত্মসাত হয়েছে কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তদারকী না করে পরিদর্শন টিমটি ফেরত যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিবাবক মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একটি অদৃশ্য হস্তেক্ষেপে গুণধর প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ’কে রক্ষা করার জন্য মোটা অংকের অর্থের মিশনে নামার কারনে তিনি রক্ষা পেতে চলেছেন বলেও এমন কথার উদয় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর মাঝে।

জানা গেছে, কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত নভেম্বার ও ডিসেম্বার ২০১৫ দুই মাসের শেষ দুই কিস্তির টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীও অভিভাবকদের অভিযোগ। এদিকে জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসের পরির্দশন টিম উল্লেখিত দুই মাসের উপবৃত্তির টাকা বিতরণ হয়েছে কিনা সঠিক তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলেও অভিমত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

উল্লেখ্,য গত ১৮ জুলাই কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৬৭৬ জন ছাত্র-ছাত্রীকে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়। এসময় তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে উপবৃত্তির ২৫শতাংশ টাকা অর্থা আনুমানিক ৮৫ হাজার টাকা নয়ছয় করে পকেটস্থ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ’র বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে অভিবাবক মহল ফুঁসে উঠে যোগোযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দুনীর্তি পরায়ণ প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবী করে লিখনির মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করায় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনার ঝড় উঠে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক দিদার ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেনও প্রতিবেদককে বলেন আমার ভাতিজা সায়েম উপবৃত্তির টাকা ৫’শ টাকা পেয়েছে বাকি গেল কই। আরেক অভিভাবক এনাম বলেন আমার দুই ভাতিজা মিলে টাকা পেয়েছে ১২’শ টাকা। তারা ফেসবুকে স্ট্যাটাসে মন্তব্য করে লিখেছেন কেউ কেউ ১’হাজার অনেকে ৬’শত টাকা উপবৃত্তি পেয়েছে।

এ বিষয়ে সত্যতা জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ সরাসরি এসব বিষয়ে অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও জানান। যা বক্তব্য সহকারে প্রতিবেদকের কাছে রেকর্ডিং সহকারে রয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশীষ শিরান বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে দুনীর্তি পরায়ণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল কালাম বলেন, ঘটনা যদি সত্য হয় কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।