করোনার কারণে বাড়তে পারে ফুটবলারদের চুক্তির মেয়াদ

ক্রীড়া ডেস্কঃ
করোনাভাইরাসের ধাক্কা সর্বক্ষেত্রে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা বিশ্বের অর্থনীতিতে। এই আর্থিক বিষয়টি আছে ক্রীড়াক্ষেত্রেও। বিশ্বে সব ধরনের খেলাধুলা এখন বন্ধ। করোনার কারণে খেলা বন্ধ থাকায় পথে বসতে যাচ্ছে বিশ্বের অনেক ধনী ফুটবল ক্লাবও। ফুটবলারদের বেতন কর্তন, চুক্তি বাতিলসহ নানা ঘটনা এখন বিশ্বজুড়ে।

ফিফা অবশ্য আশার বাণী শুনিয়েছে। তাদের যে বিশাল অংকের রিজার্ভ আছে সেখান থেকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ন্যাশনাল ফেডারেশন ও ক্লাবগুলোকে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। এ জন্য ফিফা কোভিড-১৯ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্স দেখবে বিশ্বের কোন ফেডারেশন আর কোন ক্লাবকে এই ফান্ড থেকে সহায়তা করা যায়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কি হবে? ঘরোয়া ফুটবল বন্ধ। করোনাভাইরাসের প্রকোপ কবে কমবে, বল আবার কবে মাঠে গড়াবে তা অনিশ্চিত। ক্লাবগুলোর সঙ্গে ফুটবলারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে অক্টোবরে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ ও স্বাধীনতা কাপ আয়োজন করে মৌসুম শেষ করা কঠিন হবে বাফুফের জন্য। তাহলে এবারের মৌসুমটা কবে শেষ হবে?

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে কয়েক দফা। তারা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩১ মার্চের পর থেকে চুক্তি স্থগিত রাখতে। আবার যখন খেলা শুরু হবে তখন চুক্তি চালু হবে। তখন থেকে আবার বেতনও পাবে ক্লাবগুলো। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্য হয়নি।

সময়মতো খেলা শেষ না হলে কি হবে? এ প্রশ্ন আছে ফিফার মাথায়ও। তাইতো তারা একটা সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ফিফা চিন্তা করছে কোন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ক্লাবের কোন দিন পর্যন্ত চুক্তি, তার গুরুত্ব থাকবে না। তারা চায় নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি বাতিল করতে। যেদিন মৌসুম শেষ হবে অর্থাৎ কোনো দেশের ঘরোয়া ফুটবল শেষ হবে সেই দিন পর্যন্ত চুক্তি থাকবে ফুটবলারদের।

কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও মৌসুম যদি আরো কয়েকমাস পরে শেষ হয় তাহলে সেই পর্যন্তই চুক্তি থাকবে ক্লাব আর ফুটবলারদের। ফিফার এই চিন্তাধারা প্রসঙ্গে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাঈম সোহাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঠিকই বলছেন। এমন একটি সম্ভাবনা নিয়ে ফিফা আমাদের সঙ্গে মৌখিকভাবে আলোচনা করেছে। ফিফার কথা হলো মৌসুমের লিগ বা টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়দের চুক্তি চলবে। যেদিনই মৌসুমের সমাপ্তি হবে সেদিনই ক্লাবগুলোর সঙ্গে ফুটবলারদের চুক্তিও শেষ হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা তাদের নির্বাহী কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। পাশ হলে সেভাবে সদস্য দেশগুলোকে জানিয়ে দেবে তারা।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ