করোনা প্রতিরোধে এমপি কমল’র জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম অব্যাহত

নীতিশ বড়ুয়া, রামুঃ
করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে এ ভাইরাস সংক্রমন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কক্সবাজারে জেলা উপজেলা প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম অব্যাহত রখেছেন কক্সবাজার-০৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল। ইতোমধ্যে এমপি কমল করোনা প্রতিরোধে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাথে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি সভা, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন এবং জেলা সদর হাসপাতাল পরিচালানা পরিষদ ও ডাক্তার, নার্সদের সাথে জরুরি সভা, রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভবন উদ্বোধন ও ডাক্তার, নার্সদের সাথে জরুরি সভা, কক্সবাজার শহরে গাড়িতে মাইক বেঁধে জন সচেতনতামূলক প্রচারনা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে জরুরী সভা, রামুতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সভা, রামু উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে জরুরি সভা, করোনার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে সহযোগীতায় ত্রাণ তহবিল গঠন, রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের উত্তর ফতেখাঁরকুল বড়ুয়া পাড়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে ত্রান সহযোগিতা প্রদান, রামু উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, সমাজ কমিটির সর্দারদের সাথে জরুরি সভা, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে লিফলেট, মাস্ক ও সাবান বিতরণ, জনগণকে বাড়িতে অবস্থান করতে কক্সবাজারের ডিস ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ ভিডিও প্রচারনার কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন।

ডিস ক্যাবল নেটওয়ার্ক ও ফেসবুকে লাইভে দেওয়া এমপি কমলের বক্তব্যঃ

করোনা রোগে সারা দুনিয়া এখন বিপর্যস্ত, পৃথিবীর দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। আমরাও করোনা হতে মুক্ত হইনি। এখনো করোনা রোগ ধেয়ে আসছে। বাংলাদেশে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে এবং ইতিপূর্বে আমাদের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দিয়েছেন। সেই যুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্দেশিত মানুষবাহিত এ রোগকে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলে শুধুমাত্র এই করোনা রোগ প্রতিহত করা সম্ভব। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সকলেই আমরা যে যার যার বাসস্থানে অবস্থান করি। তারই প্রেক্ষিতে আজকে সারাদেশে বাঙ্গালী জাতি যে সহযোগিতা দেখাচ্ছেন সকলকে, বিশেষ করে কক্সবাজার রামুবাসীকে আমি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, আসুন, এই রোগকে প্রতিহত করতে গেলে আমরা সকলেই যে যার অবস্থানে থাকি। বর্জন করি বিয়ে অথবা যে কোন কোলাহলপূর্ণ সামাজে যে কোন জনগণ আমরা যদি সকলেই সকলের দায়িত্ব পালন করি, তাহলে একমাত্র মরণব্যাধি করোনা রোগ হতে মুক্ত পাওয়া সম্ভব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিযেছেন, যারা দরিদ্র, যারা দিনে এনে দিনে খায় তাদের জন্য তিনি সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। আমাদের সমাজে শতকরা ৩০ ভাগ মানুষ দিনে এনে দিনে খায়, তাদের যাতে খাদ্যের অভাব না হয়, তারা যাতে কষ্ট না পায়, আমি আমার নির্বাচনি এলাকার মেয়র মহোদয়, কাউন্সিলরবৃন্দ, সন্মানিত চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ সকলকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো স্ব-স্ব এলাকার জনগণের খোঁজ-খবর রাখুন এবং দরিদ্র মানুষের পাশে গিয়ে দাড়াঁন। আমি বৃত্তবান এবং সচ্ছল যারা আছেন তাদের সকলকে বলবো আপনার আতœীয়-স্বজন, আপনার প্রতিবেশী এবং আপনার এলাকাবাসী কে-কিভাবে আছে আপনারা দয়া করে খোঁজ খবর রাখবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন এ সংকট না যাওয়া পর্যন্ত কোন মানুষকে এনজিও এর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। যারা বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন তাদেরকে ঋণ খেলাপী করা হবেনা।

দরিদ্র মানুষের জন্যে ভিজিএফ, ভিজিডি, ১০ টাকার চালসহ সমস্ত সরকারি কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে এবং যারা খাদ্যে কষ্ট পায় আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। আমি জনগণকে বলবো আপনারা তাদের সাথে যোগাযোগ করে সরকারী সাহায্য সহযোগিতা আপনারা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা পুরো টিমসহ আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবো। এই করোনা রোগের বিরুদ্ধে আমাদের সাহসী সেবক ডাক্তারবৃন্দ নিজের জীবন ঝুকি নিয়ে যুদ্ধ করছেন। আজকে আমরা কক্সবাজার জেলার দুটি আইসোলেশন কেন্দ্রের মধ্যে একটি রামু হামপাতালে উদ্বোধন করেছি। যদিও রামু হাসপাতালে এখনো করোনা রোগি আসে নাই। তারপরও আমাদের ডাক্তার, নার্স, ষ্টাফ, বয়সহ বিশাল এক টিম কাজ করে যাচ্ছেন। তারা তৈরী রয়েছেন।

সন্মানিত কক্সবাজারবাসী, আমরা যে যেখানে আছি মানুষ হতে দূরে থাকি। মানুষের সাথে যদি আমরা মিশি মানুষের মাধ্যমে এ রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। আপনাদের সকলের কাছে এই সহযোগিতা কামনা করছি। যারা ব্যবসায়ীরা আছেন তাদের প্রতি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো পুরো মানবজাতির এই দুঃসময়ে দয়া করে আমরা কেউ নিত্যপণ্য দ্রব্যের দাম বাড়াবোনা। আমি সকলকে অনুরোধ করবো, আপনারা কেউ মূল্য বাড়াবেন না। এই মানব জাতির দুঃসময়ে আপনারা পাশে থাকুন। হালালভাবে ব্যবসা-বানিজ্য করুন। আপনাদের পাশে আমরাও থাকবো। আইন-শৃংখলাবাহিনী অনেক কষ্ট করে যাচ্ছেন। এই সময়ে আপনারা সকলেই যাতে কেহ আইন শৃংখলার অবনতি ঘটাতে না পারে এ বিষয়ে আপনারা চোখ কান খোলা রাখুন। বড় ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে আপনারা পালন করুন।

ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আমি অনুরোধ করবো- স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার সকল ছাত্র-ছাত্রীদের বলবো এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। জীবনে পাঠ্যসূচি পড়তে পড়তে অনেক সময় কাটাতে হয়। ঠিক এই সময়ে যে, যে বিষয়ে জানতে ইচ্ছুক, কেহ বিজ্ঞান বিষয়ে জানতে ইচ্ছুক, কেউ কৃর্ষি বিজ্ঞানের আবিস্কার বিষয়ে জানতে ইচ্ছুক, কেউ মানব জাতির অথবা বাঙ্গালী জাতির তথা স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে জানতে ইচ্ছুক, কেউ মেডিকেল স্বাস্থ্য নিয়ে জানতে ইচ্ছুক, যে যে বিষয়ে পড়তে চান, সাহিত্য, রচনা, কবিতা আপনারা এই সময়ে পড়ে ফেলুন। এই সময়টুকু আপনারা পড়তেই ব্যস্ত থাকুন। টেলিভিশন যেমনে দেখতে হবে টেলিভিশনের মাধ্যমে ঘরে বসে যদি আপনারা এই পড়ায় সময় কাটান যে জ্ঞান অর্জিত হবে এই জ্ঞানের মাধ্যমে আপনারা জ্ঞানে আলোকিত থাকবেন। আমি সকলকে বলবো শুধু আড্ডার মাধ্যমে নয় পড়াশোনার মাধ্যমে বই পড়ে আপনারা আপনাদের কিছুটা সময় কাটান। এই জ্ঞান আপনাদের আরও বেশী সমৃদ্ধি করবে, আলোকিত করবে, সন্মানিত করবে এবং সন্মানিত হওয়ার কারণে এই জ্ঞান একদিন আপনাদের ক্ষমতাবান করবে।

আমি কক্সবাজার রামুবাসীকে বলবো, আসুন আমরা আতংকিত নয়, আমরা সতর্ক হই। আমরা সতর্কতার সাথে যদি চলি আমাদের ঘরে ষাটোর্ধের মা-বাবা আছেন, ভাই-বোনেরা আছেন তাদেরকে যদি নিরাপদে রাখি, আমরাও যদি নিরাপদ দূরত্বে থাকি তাহলে ইনশাআল্লাহ এই করোনা রোগ আমাদের কাছে আসতে পারবেনা। আমি কক্সবাজার রামুবাসীকে বলবো আসুন, আমরা মাত্র ১০ দিন ধৈয্য ধরি, এই করোনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করি। মহান রাব্বুল আল-আমিন আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা প্রার্থনা করি, যাতে আল্লাহ তায়ালা এই মরণব্যাধি করোনা রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখেন।

আমিন। জয় বাংলা।