করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবাধর্মে নিয়োজিত ডাক্তার এবং নার্সদের সুরক্ষাও যেন আগে নিশ্চিত হয়

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর টাইমলাইন থেকেঃ
করোনাভাইরাস, একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ হিসেবে ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। ছোয়াচে এই রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক এখনো মানুষের নাগালে আসেনি কিংবা আবিষ্কার করা যায়নি। মানুষ ঠিকই সময়ে এই প্রাণঘাতী রোগকে জয় করবে। কিন্তু এটা সময় সাপেক্ষ বিষয়।

আচমকা এই ভয়াবহ প্রাণ সংহারী রোগের প্রাদুর্ভাবে বর্তমান বিশ্ব থমকে গেছে। পৃথিবীর দেশে দেশে লাশের মিছিল শুরু হয়েছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের জন্য কোয়ারেন্টাইন কিংবা হোম কোয়ারেন্টাইন সেবা যথেষ্ট নয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে আলাদা ব্যবস্থাপনায় থাকা আইসোলেশনে থেকে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে থাকতে হবে রোগীকে। আক্রান্ত রোগীকে পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনদের কোনো সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই। এই দুঃসময়ে আশ্রয় এবং ভরসা কেবল চিকিৎসক ও নার্স। সংক্রামক এই রোগের ঝুঁকি নিয়ে তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে আক্রান্তদের সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার জন্য। কারণ আমরা সবাই নিজের সুবিধার্থে দায়দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও তারা পালাবেননা।

অনেক দেশপ্রেমিক, মানবিক এবং জনদরদী চিকিৎসক ও নার্স আছেন তারা সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আক্রান্ত রোগীকে সেবা দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন। তাই চরম এই দুঃসময়ের বন্ধু, কল্যাণমিত্র সম্মানীত চিকিৎসক এবং নার্সদের সুরক্ষা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মনে যাতে সাহস আর অনুপ্রেরণা জারি থাকে সেজন্য তাদের সুরক্ষার জন্য যা যা থাকা দরকার তা মজুদ রাখতে হবে, তাদেরকে যোগান দিতে হবে। কারণ চিকিৎসা দিতে গিয়ে এবং সেবা দিতে গিয়ে তারা যদি আক্রান্ত হওয়ার মত করুণ আর দুঃখজনক ঘটনা বেড়ে যায় তাহলে তা আমাদের কারোর জন্য ভাল হবেনা।

আমরা ভরসা এবং বিশ্বাস করতে চাই যে, কেউ আক্রান্ত হলে আমাদের বীর এবং দেশপ্রেমিক এসকল ডাক্তার এবং নার্সরা দায়দায়িত্ব পেছনে ফেলে রেখে কেউ পালাবেননা। এই মহান পেশায় আসার সময় যে উদার শপথ তারা নিয়েছিলেন তার অমর্যাদা তারা করবেননা। এখন একজন দায়িত্বশীল ডাক্তার কিংবা একজন দায়িত্বশীল নার্স দেশের এবং সমাজের জন্য কত বড় সম্পদ তা প্রমাণ করার সুযোগ এসেছে।